রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করতে পায়ে হেঁটে বাংলাবান্ধা থেকে শাহপরীর দ্বীপ যাত্রা

মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১
130 ভিউ
পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করতে পায়ে হেঁটে বাংলাবান্ধা থেকে শাহপরীর দ্বীপ যাত্রা

হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ :: “পরিবেশ বাঁচাও, বন বাঁচাও , পাখি বাঁচাও, বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত হোক, বেঁচে থাক প্রকৃতি” এই শ্লোগানে মানুষকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পায়ে হেঁটে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর (ওয়াচ) পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের এসে পৌঁছান।

এতে করে বাংলাবান্ধা থেকে শাহপরীর দ্বীপ পৌঁছাতে তার সময় লেগেছে ১৭দিন। পাড়ি দিয়েছেন ৯১০ কিলোমিটার পথ।

এ যাত্রাকালে সব জেলা শহর পায়ে হেঁটে অতিক্রম করেছেন সেগুলো হলো-পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার। এই যাত্রায় তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বাংলাবান্ধা থেকে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত ৯১০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজার আসার পথে একদিনে ৬৩কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫৪ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়েছে।

২০ডিসেম্বর রোববার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে দুইজন যুবক এ যাত্রা শুরু করেন। তারা হলেন- ঢাকার মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়া মোহাম্মদ মান্নানের ছেলে সাহেদ আহমেদ রিমন ও অপরজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাদেকুল ইসলামের ছেলে আসাদুল ইসলাম।

এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া পর্যন্ত এসে আসাদুল ইসলামের পায়ের উপরিভাগে ফোস্কা পড়ার কারনে আর হাঁটতে পারেননি। এযাত্রায় সফল হয়েছেন সাহেদ আহমেদ রিমন। তিনি পেশায় একজন ফ্রিল্যান্সার (ফটোগ্রাফার)।

উদ্দেশ্য হলো- বন বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও, পাখি বাঁচাও

বন্যপ্রানী সুরক্ষিত হোক, বেঁচে থাক প্রকৃতি। বন ধ্বংস, অবৈধ বন্যপ্রাণী শিকার, পরিযায়ী পাখি শিকার, পানি ও বায়ু দূষণ, নদী দখল ও ভরাট, মাত্রাতিরিক্ত ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার, পাহাড়ে বন উজাড় করে অপরিকল্পিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির অত্যাধিক উত্তোলনের কারনে আজ বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যস্ত। পরিবেশ সংরক্ষণে এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

পরিবেশ, বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাদের এ সচেতনতামুলক যাত্রার কথা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরলেন সাহেদ আহমেদ রিমন।

তিনি বলেন,মানুষ এখনও অতিথি পাখি শিকার করে,বন জঙ্গল কেটে পরিবেশের ভারসম্য নষ্ট করে এতে জনজীবন হুমকির মুখে পরে যাচ্ছে তাই আমাদের লক্ষ্য চলার পথে মানুষকে বুঝানো পরিবেশ বাঁচান দেশ বাঁচান।

তিনি আরও বলেন, বন কিছুটা বাঁচিয়ে রেখে শিকার করার চাইতে, শিকার না করে বন্যপ্রানীর আবাসস্থল ধ্বংস বেশি ভয়ানক। চুনতি, বাইশারী, হাজারীখিল, উখিয়া, টেকনাফে বনগুলো আজ হুমকির মুখে। রোহিঙ্গা সমস্যার কারনে উখিয়া-টেকনাফের জীববৈচিত্র্য আজ বিপন্ন প্রায়। প্রতিনিয়ত হাতি মেরে ফেলা হচ্ছে কক্সবাজার অঞ্চলে। এরআগে এককভাবে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ ১২জন এভাবে পথ পাড়ি দিলেও আমি ১৩তম ব্যক্তি।

পরিযায়ী পাখি/অতিথি পাখি বা সবধরনের বন্যপ্রাণী আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। পদ্মানদীর চর, চলনবিল,গাজনার বিল, হালতিবিল, জবই বিল সহ সকল ধরনের জলাভুমিতে পরিযায়ী পাখিরা তাদের চারনভুমি হিসাবে ব্যাবহার করে থাকে। উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এসকল জলাভুমিতে বিষ টোপ, ফাঁদ পাতা,কারেন্ট জালসহ সকল ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের ( বন্যপ্রানী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী পাখি বা পরিযায়ী পাখি হত্যা, শিকার, বাসা নষ্ট করা,খাচাঁয় আবদ্ধ করে লালন- পালন করা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন করা,ভয়ভীতি প্রদর্শন ইত্যাদি দন্ডনিয় অপরাধ। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছরের কারাদন্ড/ ২ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।

ইকোপার্ক, ইকোট্যুরিজম বা প্রকৃতি পর্যটন, উদ্ভিদ উদ্যান, কমিউনিটি কনজারভেশন এলাকা অর্থাৎ কোন এলাকা যেখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন অথবা কমিউনিটি বা সরকারি খাস জমিতে উদ্ভিদ ও বণ্যপ্রাণী রক্ষা এবং প্রথাগত বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসাবে সংরক্ষণ করার জন্য ব্যবস্থাপনা করা। কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি, পৃথিবীর উদ্ভিদ ও প্রাণী বৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি (১৯৯২) যাহার মূল লক্ষ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ইহার উপাদান সমূহের টেকসই ব্যবহার এবং উহা হইতে প্রাপ্ত সম্পদের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।

বান্দরবানে অবৈধ পাথর উত্তোলন, বন উজার, অবৈধ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাঙামাটির সাজেকে অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারনে বন ধ্বংস, পরিবেশ নোংরা এবং গাছ কেটে ফেলার কারনে ভাল্লুক, মেঘলা চিতা, বানর, সাম্বার হরিন, মায়া হরিন সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রানী আজ বিলুপ্তির পথে। বান্দরবানের কির্সতং পাহাড় যা ছিলো আগে এসব প্রানীর অভয়ারন্য, শত বছরের পুরনো গাছ কেটে জঙ্গল উজাড় করে ফেলার কারনে এবং অভয়ারন্যে বসতি স্থাপনের কারনে শিকারের মাত্রা বেড়ে গেছে যা প্রানীদের জন্য হুমকির স্বরুপ।

আসুন সবাই জীববৈচিত্র্য রক্ষায়, পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হই। পরিবেশ ও বন্যপ্রানী সংরক্ষণ করি। আর এই উদ্দেশ্যেই আমাদের পদযাত্রা।

“পরিবেশ বাঁচাও, বন বাঁচাও, পাখি বাঁচাও
বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত হোক, বেঁচে থাক প্রকৃতি।”

130 ভিউ

Posted ১১:৫৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com