শুক্রবার ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পাকিস্তানের উদ্বেগের নাম তেহরিক-ই-তালিবান

মঙ্গলবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
39 ভিউ
পাকিস্তানের উদ্বেগের নাম তেহরিক-ই-তালিবান

কক্সবাংলা ডটকম :: তালিবানের মেরুদণ্ড কারা? সারা পৃথিবীই হয়তো বলে উঠবে– পাকিস্তান, পাকিস্তান, পাকিস্তান…। শব্দটার ইকো হবে হাহাকারের মতোই। কাবুল যখন দখল করল এই জঙ্গি দলটি,তালিবানদের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের সবথেকে বড় জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান খাইবার পাখতুনখোয়া আর বালুচিস্তানের স্বাধীনতার রোড ম্যাপ তৈরি করেছে। আর এরজন্য তাঁরা টপ ৯টি কমান্ডরকে নিযুক্তও করেছে। আর পাকিস্তান এখন নিজদের দেশের ভাঙার আশঙ্কায় ডুবে রয়েছে। আর এই আশঙ্কা পাকিস্তানের জন্য প্রযোজ্য। কারণ আফগানিস্তানে তালিবানের কবজা হওয়ার পরই তাঁরা তেহরিক-ই-তালিবানের জঙ্গি নেতা মৌলবি ফকির মহম্মদকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে দেয়। আর এরপরই পাকিস্তানের চিন্তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

পাকিস্তান সরকারের একাংশ তালিবানের বিরুদ্ধেও, কিন্তু সিংহ ভাগটাই এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে হাতের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষে, ফলে তা-ই করে যাচ্ছেন ইমরান খান। আগুন নিয়ে খেলাটা ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, যারা আগুন নিয়ে খেলছে তারা এটা ভুলে যায়, ফলে হঠাৎ পুড়ে গিয়ে এক মুঠো ছাইও তারা হয়ে যেতে পারে! কী ভাবে? এই যে তালিবানের কাবুল দখল, তাতে পাকিস্তানে তালিবান জঙ্গিশক্তি তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি বাড় আরও বেড়ে উঠল যে!

যাদের মূল লক্ষ্যই হল, পাকিস্তান সরকারকে উৎখাত করা। কাবুলে তালিবান-রাজের পর কয়েক শো টিটিপি জঙ্গি সে দেশের জেল থেকে মুক্ত। এদের মধ্যে রয়েছে মৌলভি ফকির মহম্মদ, টিটিপির প্রাক্তন ডেপুটি চিফ। মুক্তি পেয়েই তারা নিজেদের বাহিনীতে যোগ দিয়ে হামলার জন্য তাল ঠুকছে। টিটিপি-র তাত্ত্বিক শক্তি আল কায়দার বহু কম্যান্ডারও ছাড়া পেয়েছে আফগান জেল থেকে। দোঁহে মিলে কী খেলাটা এ বার হবে, সেই আশঙ্কা!

আফগানিস্তানে তালেবানের হাতে কাবুলের পতনের পর পাকিস্তানের চিরাচরিতভাবে বিভক্ত রাজনৈতিক কণ্ঠগুলোতে এক বিরল বিষয় লক্ষ করা গেছে: ঐক্য। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ‘দাসত্বের শৃঙ্খলা’ ভাঙায় তালেবানের প্রশংসা করেছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দল, ইসলামি দলগুলোর নেতারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক জয়ে’ তালেবানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্তত অর্ধেক ডজন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল প্রকাশ্যে উদযাপন করেছেন। উদযাপনে শামিল ছিল পাকিস্তানের জেনারেল ও সরকারের শত্রু হিসেবে পরিচিত চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো।

কিন্তু প্রকাশ্যে ব্যাপকভাবে আনন্দ উদযাপন করলেও পাকিস্তান ধীরে ধীরে আফগান সীমান্তে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতি পেতে শুরু করেছে। তালেবানের নাটকীয় উত্থান পাকিস্তানের অভ্যন্তরে রক্তাক্ত বিদ্রোহের রসদ শুধু জোগাচ্ছে তা নয়, এর ফলে দেশটির কট্টরপন্থী ইসলামি দলগুলোর পালে হাওয়া লাগাচ্ছে, যারা পাকিস্তানকে মৌলবাদী ইসলামি চরিত্রে রূপ দিতে চায়।

বিশ্লেষক এবং পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলাফল হলো, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জন্য নতুন উভয় সংকট। যা ১৯৭০ দশক থেকে কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে তারা। একই সঙ্গে সতর্কভাবে দেশটিতে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিচিত জঙ্গি গোষ্ঠী, রক্ষণশীল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতারা তালেবানের ক্ষমতায় ফিরে আসায় ব্যাপক আশাবাদী। করাচির বিরোধী রাজনীতিক, যিনি তালেবানকে সমর্থন করেন, কিন্তু পাকিস্তানের ভেতরে সহিংস সংগ্রামবিরোধী মাওলানা ফজল-উর রেহমান তালেবানের বিজয়কে উল্লেখ করে ইমরান খানকে উৎখাতের জন্য নির্বাচনি বিপ্লবের ডাক দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার তালেবানের জনক বলে পরিচিত সুন্নি ধর্মীয় নেতার ছেলে আরও বেশি রক্ষণশীল রাজনীতিক মাওলানা হামিদ উল হক তার সমর্থকদের বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপন করেছে তালেবান। এতে গণতন্ত্রের ঘাটতি উঠে আসছে। পাকিস্তানেও এমন সত্যিকার ইসলামি ব্যবস্থার জন্য কঠোর সংগ্রাম করতে অনুপ্রাণিত হতে হবে।

ইসলামাবাদের পাকিস্তানি ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ-এর ডিরেক্টর মুহাম্মদ আমির রানা মনে করেন, প্রতিবেশী আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলে এরইমধ্যে পাকিস্তানে প্রভাব পড়তে শুরু করছে। তিনি বলেন, তালেবানের কাবুল দখলে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অনুপ্রাণিত হবে। কিন্তু এখানেই শেষ হবে না। দেশে যুদ্ধের এক নতুন আখ্যান রচিত হবে। যা রাষ্ট্র ও সমাজ এবং ধর্মের ভূমিকা সম্পর্কে চলমান বিতর্ক বদলে যাবে।

তিনি আরও যোগ করেন, চরমপন্থী ও সহিংস গোষ্ঠীগুলো ভাববে, যদি আফগানিস্তানে ইসলামি শাসন হতে পারে এখানে কেন সম্ভব না?

পাক-গর্ভে কী ভাবে তালিবানের জন্ম?

একটু অতীতে তলানো যাক। ১৯৮০ নাগাদ, সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের লক্ষ্যে ঢালাও অস্ত্র দিয়ে মুজাহিদিন এক দল যোদ্ধাকে তৈরি করল সিআইএ এবং আইএসআই। জিহাদের ঘুণপোকা নানা ইন্দ্রিয়-মাধ্যমে ঢোকানো হল তাদের মাথার ভিতর। এক আগ্রাসী বোধ ডানা মেলে উঠল। সারা পৃথিবী থেকেই জিহাদের লক্ষ্যে সেই দলে যোগ দিতে থাকল তরুণ তুর্কিরা। ১৯৮৮-তে ৩০ লক্ষ আফগান তরুণ রিফিউজিকে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ‘প্রকৃত শিক্ষা’ দিতে শুরু করে তারা। ট্রেনিং শেষেই হাতে-গরম জিহাদি সার্টিফিকেট এবং তার পর তালিবান জঙ্গি মহাসংগঠনে চাকরি তো বাঁধা। এখানে ঝটিকি বলে নিতে হবে, তালিবান শব্দটি সম্পর্কে। তালিব শব্দ থেকে তালিবান এসেছে।

তালিব: পশতু ভাষায় অর্থ ধর্মীয় ছাত্র, তালিবান তালিবের বহু বচন। ‘তালিবানরা’ লেখা তাই উচিত নয়। যদিও শব্দটির ব্যঞ্জনা বেড়েছে অনেক গুণ, বচনের আওতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। তাই বলা হচ্ছে– পাক তালিবান, কিংবা আমেরিকান তালিবান, এখানে পাক তালিব বা আমেরিকান তালিব বলা হচ্ছে না। কারণ, তালিব বললে তালিবান বোঝানো হয়তো যায় না সব সময়। যা হোক, ১৯৮৮ সালের পাকিস্তানের তালিবান স্কুলের কথা বলছিলাম। যেখানে গুচ্ছ গুচ্ছ জঙ্গির জন্ম কিছু দিনেই। তার পর, সোভিয়েত আফগানিস্তান ছাড়লে সে দেশে ফিরে যায় পাকিস্তানের মাদ্রাসায় তৈরি হওয়া ১০ লক্ষ ৫০ হাজার যুবা জঙ্গি। নতুন এক জঙ্গি আন্দোলন, রক্তস্রোত ও জিহাদের স্বপ্নে বুক বেঁধে।

১৯৯২। সোভিয়েতের আশীর্বাদধন্য মহম্মদ নাজিবুল্লার সরকার ভেঙে ফেলে মুজাহিদিনরা। আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তারা। কিন্তু নিজেদের মধ্যে শুরু থেকেই ক্ষমতা নিয়ে তৈরি হল প্রবল বিবাদ। মুজাহিদিন দলগুলি সরকার গঠনের লক্ষ্যে একটি চুক্তি করল, যার নাম– পেশোয়ার অ্যাকর্ড। কিন্তু গুলবুদ্দিন হেকমতেয়ারের হেজাব-ই-ইসলামি গুলবুদ্দিন, হিজব-ই-ওয়াদত এবং ইদ্দিহাদ-ই-ইসলামি চুক্তিতে অংশ নিল না। আফগানিস্তানে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। হেকমতেয়ারের সেনা কাবুলে ঢুকে ধ্বসলীলা চালাতে থাকল। আইএসআই তাদের আর্থিক ও সেনা সাহায্য করল।

১৯৯৪-এর সেপ্টেম্বর। মোল্লা মহম্মদ ওমরের নিজের শহর কান্দাহারে ৫০ জন মাদ্রাসা ছাত্রকে নিয়ে আর একটি দলের আনুষ্ঠানিক বিসমিল্লাহ হল। দুর্নীতি মুক্ত এবং প্রকৃত ইসলামসম্মত সমাজের ডাক দিল তারা। তাদের বলা হতে থাকল, তালিবান। পাকিস্তান ও আইএসআই সমর্থনের দু’বাহু বাড়িয়ে দিল তাদের দিকেও।

২০০১ সাল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো ঢুকল আফগানিস্তানে, তালিবানের পতন হল, অনেক নেতা-কর্মী পালিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছল। পাক-আফগান সীমান্তে আদিবাসী আঞ্চলে তালিবান এবং আল কায়দার নেতারা এক সঙ্গে জমা হয়ে গেল। পুরো ক্ষীর যেন, নতুন করে আন্দোলনের বীজ পোঁতা হল। ২০০৩ পর্যন্ত এদের নিয়ে কী করিতে হইবে, পুরোটা ভেবে উঠতে পারল না পাকিস্তান সরকার।

এখানে বলে নিই, আইএসআইয়ের সঙ্গে তালিবানের গভীর সম্পর্ক বার বার সামনে এসে হাজির হয়েছে। একটি ঘটনা হল: ২০১৫ সালে তালিবানের উপপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। দলের দুই উপপ্রধানের একজন তিনি, দোর্দণ্ডপ্রতাপ। এই হাক্কানি আইএসআইয়ের ডানহাত হিসেবেই পরিচিত ছিলেন (আবার আল কায়দার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন)। এখন পাক সরকারও কি তালিবানকে সমর্থন দিতে চেয়েছে সব সময়?

পাকিস্তান সরকারের অনেকেই তালিবানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতেন, রাখেনও। কিন্তু পাক সরকারের ব্যর্থতা হল এটাই– পাক প্রধানমন্ত্রী এমনকি সেনাপ্রধানও যদি তালিবানের বিরুদ্ধে কালাশনিকভ নিয়ে মাঠে নামেন, তাও এই জঙ্গিসংগঠনটিকে সমর্থন করে যেতে আইএসআইয়ের কোনও সমস্যা নেই। তবে সেই সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না, বরং উল্টোটাই। তা-ই তো ‘কৃতদাসত্বের শৃঙ্খল মুক্ত’ আফগানিস্তানের গান গেয়েছেন ইমরান খান।

কারা পাকিস্তান তালিবান

২০০১-এ আফগানিস্তানে নয়া সরকারের গঠন। পালিয়ে গিয়ে তালিবান এবং আল-কায়দা জঙ্গিদের অনেকেই মাথা গোঁজা পাক-আফগান সীমান্তে , অল্প আগেই বললাম যে কথাটা। এর পর কী হল? সীমান্তবর্তী আদিবাসী এলাকায় তালিবানিকরণ শুরু হল। আমেরিকা ও ন্যাটোর বিরুদ্ধে আদাবাসীদের তালিবান করার প্রক্রিয়া। এরাই গঠন করল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। ২০০৭ সালে। নেতা বায়তুল্লা মাসুদ। আদিবাসী এলাকায় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ছাতা হয়ে উঠল টিটিপি। টিটিপি-র লক্ষ্য তখন– শরিয়তি আইন প্রতিষ্ঠা, এবং আমেরিকা-ন্যাটোর বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই। পরে, ২০০৭-এ টিটিপি-র শীর্ষ নেতা মাসুদের মুখপাত্র জানায়, পাক অপারেশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করাই টিটিপি তৈরির মূল কারণ। ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস বা ইউএসআইপি-এর রিপোর্ট বলছে, অন্য বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া-পথে এগিয়ে চলতে থাকে টিটিপি।

তবে এর ছাতার তলায় থাকা বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে তালমিলের নিদারুণ অভাবটা বার বার সামনে এসে পড়ছিল, টিটিপি দুর্বল হয়ে পড়ে একটা সময়ে। ২০১১ মাঝামাঝি থেকে যেন এই জঙ্গিদলে নতুন এক জোয়ার এসে যায়। তাদের ২৫ হাজার সদস্য পাকিস্তান জুড়ে বিভিন্ন জঙ্গি হানা চালাতে থাকে। রক্তে ভেসে যেতে থাকে পাকিস্তান। ২০১১ সালের ২২-২৩ মে করাচিতে পাকিস্তান ন্যাভাল এয়ার আর্মের সদর দফতরে, ২০১৪ সালে করাচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়। ২০১৪-তেই পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুলে টিটিপির হামলায় নিহত ১৫০ জন, এঁদের বেশির ভাগই ছাত্র।

২০১৪ সালে আমেরিকান ড্রোনের সাহায্যে টিটিপির বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামে পাকিস্তান সেনা। টিটিপি নিকেশে চালানো হল ‘অপারেশন জারব-ই-আজব’। ইউএসআইপি-র রিপোর্ট বলছে, এই অপারেশন সফল হয়েছিল অনেকটাই। টিটিপি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের নানা এলাকায় গিয়ে টিটিপির বহু নেতা গা-ঢাকা দিলেন।

কিন্তু… আবার সে এসেছে ফিরিয়া, এমনই বলছে নানা হামলার খবর, রিপোর্টও। খবর মিলেছে, টিটিপি জঙ্গিরা উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে গান শোনা ও পুরুষ সঙ্গী ছাড়া মেয়েদের বাইরে বেরনোয় ফতোয়া জারি করেছে। ২০২০ সালে ‘উমর মিডিয়া’ নামে নতুন একটি ওয়েবসাইটও প্রকাশ করে এই জঙ্গি সংগঠনের সংবাদ শাখা। ২০২০-তে সেই উমর মিডিয়ার ঘোষণা: ‘জামাত-উল-আহরার এবং হিজবুল আহরার নামে দুটি জঙ্গি দল টিটিপি-তে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিয়েছে’। এই দুটি দল পাকিস্তানে বহু সন্ত্রাসবাদী হামলার যুক্ত, এর ফলেই এই স্বাগত, সংযোগ। ২০২১-এর শুরু থেকে টিটিপির ওড়াউড়ি তো আরও বেড়েছে। বিভিন্ন হামলার খবরও এসেছে। এ বছরের প্রথম দু’মাসে সেই হামলার সংখ্যাটা অন্তত ৩২।

টিটিপি-র সঙ্গে আফগানিস্তানের তালিবানের সম্পর্ক কেমন? সম্পর্কটা উত্থান-পতনের। বিভিন্ন সময় একে অপরকে সমর্থন করেছে এই দুই জঙ্গি দল। আবার বিরোধিতাও করেছে। যদিও এদের তাত্ত্বিক অবস্থানটা তো হুবহু এক, ফলে নাড়ির টান অপরিসীম। তালিবানের কাবুল পুনর্দখলের পর, আফগানিস্তানের জেল থেকে তাই একের পর টিটিপি জঙ্গিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে– এ বার কী হবে? কারণ, টিটিপির মূল এজেন্ডাই পাকিস্তান সরকারকে ধ্বংস করা, এই লক্ষ্য ছেড়ে দিলে তাদের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন হবে। আবার আফগান তালিবানের প্রধান সমর্থকই পাকিস্তান, তবে? টানাপোড়েন নবরূপে।

আর এই সব কিছু পেরিয়ে একটা কথা সকালের আলোর মতো সত্যি– টিটিপি-র ক্ষমতা যে ভাবে গনগনিয়ে বাড়ায়, আম-পাকিস্তান নতুন করে রক্তপাতের খাদের কিনারায়। মানুষ তো উলুখাগড়া, কয়েকটা কমে গেলে ক্ষতি কি– পাক সরকার নির্বিকার?

উদ্বেগের নাম পাকিস্তানি তালেবান

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের আশু উদ্বেগের কারণ হলো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র জোট তেহরিক-ই-তালেবান বা পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি)-এর পুনরুত্থান। এ গোষ্ঠীটির আফগান তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। গত দশকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ১ হাজার ৮০০ হামলা চালিয়েছে তারা। তালেবানের ক্ষমতা দখলের প্রশংসা করে টিটিপি গত সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলে একটি হামলা চালিয়েছে। হামলাকারী বন্দুকধারীরা আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করেছে। এতে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।

জুলাই মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, টিটিপির অন্তত ৬ হাজার প্রশিক্ষিত যোদ্ধা সীমান্তের ওপারে আফগান ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। জুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান ও টিটিপি নিজেদের সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

পাকিস্তানের সিনেটের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মুশাহিদ হুসেইন সৈয়দ জানিয়েছেন, তালেবানকে ‘রেডলাইন’ টেনে দিয়ে টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে।

এক সাবেক শীর্ষস্থানীয় টিটিপি কমান্ডার জানিয়েছেন, পাকিস্তান সম্প্রতি তালেবানকে বলেছে সাধারণ ক্ষমার বদলে টিটিপি যোদ্ধাদের অস্ত্র আত্মসমর্পণের জন্য। জবাবে তালেবান বলেছে, তারা টিটিপি সদস্যদের পাকিস্তানের হাতে তুলে দেবে না, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য চাপ দেবে। তিনি বলেন, আফগান তালেবান যদি টিটিপিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে তাহলে অনেক কমান্ডার ইসলামিক স্টেট-খোরাশানে যোগ দিতে পারে।

পাকিস্তানে তালেবানের কাবুল দখলে মিছিল

পাকিস্তানে তালেবানের কাবুল দখলে মিছিল

39 ভিউ

Posted ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com