
কক্সবাংলা ডটকম(২৬ জুলাই) :: পাকিস্তানের নির্বাচনে কড়া নজর রয়েছে আমেরিকার। রাতভর চলেছে গণনা। এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ। তবে এই নির্বাচনের ফলাফলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আমেরিকা।
পাকিস্তানে অবাধে নির্বাচন হয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ট্রাম্প প্রশাসন। বিরোধীরাও এই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তবে বহু পাকিস্তানি বিশ্বাস করছেন যে পাকিস্তানের মানুষ দুর্নীতির পক্ষে রায় দিতেই ভোট দিয়েছেন ইমরানকে।
আমেরিকার প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি বলেন, এই ফলাফল পূর্ব নির্ধারিত। সেনাবাহিনীর ইমরানকে সমর্থনের অভিযোগও সামনে এসেছে।
সন্ধে সাতটা থেকে শুরু হয়েছে গণনা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা যায়, এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিকই-ইনসাফ। শতাধিক সিটে এগিয়ে রয়েছে এই দল। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি কোনও ফলাফল। বিরোধীরা একের পর এক অভিযোগ তুলছেন ইমরানের বিরুদ্ধে। এর মধ্যেই দেশ জুড়ে উৎসব শুরু করেছে পিটিআই-এর সমর্থকেরা।
প্রাথমিক ফলাফল কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন। তাঁর ভাই শাহবাজ শরিফ সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দিলেন, এই ফলাফল তাঁরা মানছেন না। ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, একই অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী বিলাওয়াল ভুট্টো। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচনে বুধবার ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। কিছু কেন্দ্র থেকে অসমর্থিত বেসরকারি ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফলাফলে শুরুতে এগিয়ে ছিল ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। তবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
জিও নিউজে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে ১৪টি আসনের মধ্যে ছয়টিতে নওয়াজ শরীফের পিএমএল-এন এগিয়ে ছিল।
এই ১৪ আসনের মধ্যে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রার্থী এগিয়ে ছিল চারটিতে। অন্যদিকে, বিলওয়াল ভুট্ট জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টিও (পিপিপি)চারটি আসনে এগিয়ে ছিল।
কিন্তু বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে এনডিটিভি জানায়, মোট ২৭২টি আসনের মধ্যে ২৩৩টি আসনের আংশিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ইমরানের পিটিআই। দলটি এগিয়ে ছিল ৮৪ আসনে। পিএমএল-এন এগিয়ে আছে ৫৮ আসনে।
এছাড়া পিপিপি এগিয়ে ছিল ২৯টি আসনে। অন্যান্য প্রার্থী এগিয়ে ছিল ৬২ আসনে। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্টতা পেতে প্রয়োজন ১৩৭টি আসন। আংশিক ফলাফল অনুযায়ী কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জনের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের ১১তম জাতীয় নির্বাচনে দেশটির সাড়ে ১০ কোটির বেশি নিবন্ধিত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এরই মধ্যে একটি ভোটকেন্দ্রের পাশে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
বোমার আঘাতে ৩১ জন নিহত ও ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে বলে জানায় দেশটির জিও টিভি ও ডন নিউজ।
কোয়েটার পূর্ব বাইপাস এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের পাশে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভ্যানকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে অবশ্য দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিতে পিটিআইয়ের এক কর্মী নিহত হয়েছে।
ইমরানের পিটিআই ও নওয়াজ শরিফের পিএমএল-এন পার্টির মধ্যে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নওয়াজ ও তার মেয়ে মারইয়াম অবৈধ সম্পত্তির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নির্বাচনে ইমরান কিংবা নওয়াজ কারোরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার সম্ভাবনা নেই।
ইমরানের জনপ্রিয়তা কিছুটা বেশি হলেও চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে পাঞ্জাবে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। দেশটির সবচেয়ে জনপবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে নওয়াজের দলের বেশি জনপ্রিয়।
পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী ইমরানকে নির্বাচনে জয়ী করার জন্য কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে নওয়াজের পিএমএল-এনসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন মহল। তবে ইমরান খান ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Posted ১০:২২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta