মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পিয়াসার আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন : অস্ত্র ও মাদকের কারবার,কোটি টাকার গাড়ি-ফ্ল্যাট(ভিডিও সহ)

বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১
229 ভিউ

কক্সবাংলা ডটকম(৩ আগস্ট ) :: বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা।মডেলিংয়ের আড়ালে অপরাধ সাম্রাজ্যে বিচরণ তার। আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশনে অস্ত্র কারবার থেকে শুরু করে মাদকের জমজমাট বাণিজ্যের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামের আজগর দিঘী লেন থেকে ঢাকার অভিজাত এলাকা বারিধারা। মাঝখানে সময় ১৫ বছর। মাত্র ৩২ বছর বয়সেই নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা হয়ে উঠেছেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের নারী সদস্য। অথচ লেখাপড়াও বেশিদূর করতে পারেননি কাস্টম অফিসের কর্মচারী মাহবুব আলমের মেয়ে ফারিয়া। চট্টগ্রামের একটি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। অথচ একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন বলে প্রচার করতেন। একটি ঘটনাচক্রে চট্টগ্রাম ছেড়েছিলেন। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

ঢাকায় আসার পর কিছুদিন কষ্ট করতে হলেও তার শারীরিক সৌন্দর্য ও বয়স তাকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যায়। একজন মিডিয়া ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয়ের কারণে খুব তাড়াতাড়ি মিডিয়া জগতের ব্যক্তির সঙ্গে জানাশোনা হয়ে যায়। বয়সে তরুণী, দেখতে সুন্দর, মানিয়ে নিতে পারেন সব সোসাইটিতে এই তিনটি জিনিসকে পুঁজি করে বিচরণ করেছেন অপরাধের সব ডালে। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে, নারী পাচার চক্র, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা, ব্ল্যাকমেইলিং, নারী সরবরাহকারী, কোটিপতির দুলালদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা বাগিয়ে নেয়া, হত্যাকাণ্ডসহ সবকিছুতেই বিচরণ ছিল তার। এই ১৫ বছরে নানা কৌশলে কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার সম্পদের হিসাব দেখে রীতিমতো হতভম্ব গোয়েন্দারা।

 

পিয়াসাকে মডেল বলে পরিচয় দেয়া হলেও এই জগতে তার পথচলা বেশিদূর নয়। অল্পকিছুদিন কাজ করার পর আর স্থায়ী হননি। কিন্তু নামের আগে মডেল শব্দটি যুক্ত হওয়ার কারণে পিয়াসা সব স্থানেই জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন দ্রুত। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, পিয়াসা চলাফেরা করতেন দামি গাড়িতে। ৩/৪ কোটি টাকার গাড়িতে চলাফেরা করতেও তাকে দেখা গেছে। পোশাক পরতেন পশ্চিমা ধাঁচের। একেকটি পার্টি ড্রেসের দাম ১ লাখ টাকার উপরে। নেইলপলিশ থেকে শুরু করে যাবতীয় সব কসমেটিক্‌স, জুতা, ব্যাগ সবই ছিল বিদেশি। বারিধারার যে ফ্ল্যাটতিতে পিয়াসা থাকতেন সেই ফ্ল্যাটটির মাসিক খরচ কয়েক লাখ টাকা। তার একাধিক নিজের ফ্ল্যাট থাকার পরেও ভাড়া দিয়ে এত দামি ফ্ল্যাটে থাকার পেছনেও রহস্য রয়েছে।

তার বাসায় মদের পার্টিতে এক রাতেই কয়েক লাখ টাকা খরচ করতেন। যদিও এর কয়েকগুণ বেশি টাকা আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে উঠিয়ে নিতেন। পিয়াসা গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, বিদেশি ব্র্যান্ডের যেসব পণ্য ব্যবহার করতেন সেগুলো তার বিভিন্ন বন্ধুরা গিফ্‌ট করেছেন। এছাড়া অনেক সময় বিভিন্ন দেশে ঘুরতে গিয়ে নিজেই কিনে এনেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পিয়াসার পাপের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছিল। বিভিন্ন মহল থেকে আসা অভিযোগের সূত্র ধরে গোপন তদন্ত চলছিল। বিশেষ করে পিয়াসার প্রেমের ফাঁদে পড়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ব্ল্যাকমেইল করে দিনের পর দিন তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন। এছাড়া মডেল পরিচয় দিয়ে এর আড়ালে অস্ত্র ব্যবসায়ও নেমেছিলেন পিয়াসা। অত্যাধুনিক একটি বিশেষ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের এক মাফিয়ার সঙ্গে একটি পার্টিতে পরিচয় হওয়ার পর মূলত এই ব্যবসায় জড়ান। ওই মাফিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকেও দেদারসে দেশের কিছু সুন্দরী তরুণীকে দিয়ে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করিয়ে যাচ্ছেন। বেশির ভাগ সময় তিনি দেশের বাইরে থাকেন। অল্প দিনেই পিয়াসার সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। পিয়াসারও টাকা ইনকামের আগ্রহ থাকায় এই ব্যবসায় জড়াতে তার বেশি সময় লাগেনি।

এছাড়া ওই মাফিয়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর বিদেশে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে যান পিয়াসা। কারণ কথিত এই মডেলের গণ্ডি শুধু দেশেই বিস্তার ছিল না। বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিভিন্ন পার্টিতে ডিজেতে অংশগ্রহণ করেন। নিজের মতো করে পিয়াসা তার আরও শতাধিক সুন্দরী অনুসারী তৈরি করেছেন। দেশে- বিদেশে বিভিন্ন পার্টিতে এসব তরুণীকে কাজে লাগাতেন। টাকার বিনিময়ে কোটিপতিদের গোপন আস্তানায় পাঠাতেন। বেশি টাকার বিনিময়ে অনেকের বিদেশ যাত্রার সঙ্গী করতেন ওই তরুণীদের। চুক্তিতে মিললে পিয়াসা নিজেও সফরসঙ্গী হতেন বলে অভিযোগ আছে।

ঢাকায় নিজের নামে কয়েকটি ফ্ল্যাট আছে বলে তথ্য মিলেছে। কিন্তু লোক দেখানোর জন্য ভাড়া বাসায় থাকতেন। এছাড়া সব এলাকায় থেকে তার কর্মকাণ্ড চালানো যেত না। রাতের বেলা বিভিন্ন মানুষের অবাধে যাতায়াত, ডিজে পার্টির জন্য তিনি সুবিধামতো জায়গায় নিয়মের চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে ফ্ল্যাট নিতেন। তার এসব পার্টিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন মুখ দেখা যেত। গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকার ধনী ঘরের তরুণেরা পার্টির নিয়মিত অতিথি ছিলেন।

এছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিদের আনাগোনা ছিল। পিয়াসা প্রতিদিনই দামি গাড়িতে চলাফেরা করতেন। এসব গাড়ির মধ্যে নিশান, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ, রেঞ্জরোভার মডেলের গাড়ি রয়েছে। যদিও পিয়াসা দাবি করেছেন এসব গাড়ি তার নিজের নয়। তার বন্ধুরা তাকে এসব গাড়ি সাময়িক সময়ের জন্য চালাতে দিতেন।

গোয়েন্দারা বলছেন, পিয়াসার নামে অনেক ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। দৃশ্যমান কোনো চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও এসব টাকা পিয়াসা কোথা থেকে পেয়েছেন এসব নিয়ে কাজ চলছে। পিয়াসা মাদক ব্যবসা, বাসায় ডিজে পার্টি, অস্ত্র ব্যবসা, নারী সরবরাহ, বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করে কয়েক কোটি টাকা কামিয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফ্ল্যাট পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে কয়েককোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

মদ ও ইয়াবাসহ মডেল পিয়াসা আটক

উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা জানান, নাইট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে এমন ১০-১১ জনের নাম পাওয়া গেছে, যারা ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, পিয়াসা ও মৌকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। আমরা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের নামও পেয়েছি। আরও অনেককেই আইনের আওতায় আনা হবে।

গুলশানের একটি ফ্যাশন হাউসের মালিকও রয়েছেন মডেলকেন্দ্রিক এই অপরাধ চক্রে। কয়েকটি শিল্প গ্রুপের ধনীর দুলালও ওই পার্টিতে গিয়ে এদের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। অনেক পার্টিতেই প্রায় নিয়মিত মাদক সেবন করা হতো। সবশেষে থাকত ‘গ্রিন রুম’ পর্ব। এসব পার্টিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেকবার মারামারি-সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। চক্রে জড়িত অনেক উঠতি মডেল ও নায়িকার বাসায় থাকত স্পাই ক্যামেরা। যা দিয়ে পার্টি চলার সময়ের ছবি ধারণ করা হতো। এরই মধ্যে মডেল পিয়াসার বাসায় এ ধরনের ক্যামেরা পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, সম্প্রতি প্রভাবশালী কয়েকজনকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা। নাইট পার্টির আড়ালে তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখেন তিনি। এসব ছবি পরিবারের লোকজনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা দাবি করেন তিনি। বিষয়টি পুলিশকে জানান তারা। পুলিশ এ ঘটনায় তদন্তে নামার পর পিয়াসার মাদক ব্যবসার বিষয়টিও উঠে আসে। এরপর গ্রেপ্তার হন পিয়াসা।

গোয়েন্দারা বলছেন, পিয়াসার নির্দিষ্ট কোনো বৈধ পেশা নেই। নেই আয়ের বৈধ উৎস। অথচ তিনি চলাফেরা করেন বিএমডব্লিউ গাড়িতে। বাস করেন তিন লাখ টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে। কখনও একটি বেসরকারি টেলিভিশনের পরিচালক হিসেবে, কখনও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি।

তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, পিয়াসা ও মৌ বাসায় লাইসেন্সবিহীন মিনিবার গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের মদের পাশাপাশি ইয়াবাও বেচাকেনা হতো। পিয়াসা নিজের বাসায় প্রতিদিনই নাইট পার্টি করতেন। বাসার বিভিন্ন স্থানে গোপনে রাখা হতো সিসি ক্যামেরা। পার্টি চলার সময় আপত্তিকর ছবি তোলা হলেও সাধারণত প্রথমেই কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা হতো না। ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করা হতো। সময় ও সুযোগ বুঝে এসব ছবি ও ভিডিও ব্ল্যাকমেইল করার কাজে ব্যবহার করা হতো।

পিয়াসা ও মৌয়ের মোবাইল ফোন এখন তদন্ত সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের হাতে। উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী অনেকেরই মোবাইল ফোন নম্বর রয়েছে তাদের কন্ট্রাক্ট লিস্টে। রয়েছে অনেকের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি ও ভিডিও। তদন্ত সংশ্নিষ্টরা বলছেন, অভিজাত এলাকার অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তির পারিবারিক গোপনীয় তথ্যও পিয়াসা সংগ্রহ করতেন। এরপর টাকার বিনিময়ে সেসব তথ্য প্রতিদ্বন্দ্বী ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত তৈরি করতেন। পরে পিয়াসাই আবার তা মিটমাটের দায়িত্ব নিতেন।

বারিধারার বাসায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান, সেই মডেল পিয়াসা আটক

কে এই পিয়াসা? কিভাবে তার উত্থান? তার বেপরোয়া জীবনের রহস্যই বা কি?

চট্টগ্রামের একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা একটা মেয়ে ঢাকা শহরে কেমন করে এমন লাক্সারিয়াস জীবনযাপন করে আসছিলেন? তার বারিধারার ফ্ল্যাটে কার কার যাতায়াত ছিল? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

পিয়াসার বাসার ফ্ল্যাটের গ্যারেজে গিয়ে দেখা মেলে দুটি বিলাসবহুল গাড়ির। একটি বিএমডব্লিউ এস-২০৯ মডেলের সিলভার রঙের অপরটি মাজদা এক্সেলা ব্রান্ডের নীল রঙের গাড়ি।

বৈধ কোনও আয় না থাকলেও এসব দামী গাড়ি পিয়াসারে নিত্য সঙ্গী।

এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়ে কিনে বিএমডব্লিউ গাড়িটি পিয়াসাকে উপহার দিয়েছেন। জানা গেছে, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকা ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ২০১৯ সালের শেষের দিকে ওই নেতার ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া এক সুপরিচিত শিল্পগ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিয়াসাকে বডিগার্ডসহ রাজধানীর বারিধারা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্লাট ভাড়া করে দেন। ৯ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার আলিশান ওই ফ্ল্যাটটির মাসিক ভাড়া প্রায় দুই লাখ টাকা বলে জানা গেছে। সেখানে প্রায়ই ওই শিল্পপতির যাতায়াত ছিল।

ভবনের সুপারভাইজার ও ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেব দায়িত্বে পালনকারী বিলাস গোমেজ একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, মাসিক ২ লাখ টাকা ভাড়ায় পিয়াসার থাকার ফ্ল্যাটটি ভাড়া করে দিয়েছেন এক শিল্পপতি।

ফ্ল্যাটে কী হতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ফ্ল্যাটটিতে রাত ঘনিয়ে এলেই পার্টি বসতো। পার্টিতে অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন্য উঠতি বয়সী তরুণী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অংশ নিত। ফ্ল্যাটটিতে ছিল মিনি-বার।

বিলাস আরও জানান, ফ্ল্যাটটি গেল দুই মাস আগে ওই শিল্পগ্রুপের একজন পরিচালক থাকবেন বলে প্রতিষ্ঠানটির প্যাডে চুক্তিনামা স্বাক্ষর হয়। সেই অনুযায়ী পিয়াসাকে গ্রুপের এমডি হিসেবে পরিচয় দিয়ে এখানে রাখা হয়।

বনানীতে থাকা ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানটির এমডি গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকার করেন। তবে অফিস সুপারভাইজার মাসুম দাবি করেন, পিয়াসাকে ঈদের কিছুদিন পরই প্রতিষ্ঠানটি থেকে রিলিজ করা হয়েছে। উনি এখন আর আমাদের এখানে নেই।

তাহলে কোম্পানির দেওয়া ফ্ল্যাট, বডিগার্ড এবং গাড়ি চালকের সুবিধা গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত পিয়াসা কিভাবে পাচ্ছিলেন। আর পিয়াসাকে গ্রেফতারের দু’দিন আগে এমডি কিভাবে বারিধারার সেই ফ্ল্যাটে পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন মাসুম।

এদিকে রোববার রাতে গ্রেফতারের পর সোমবার তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে গুলশান ও মোহাম্মদপুরে পৃথক দুটি মামলা হয়। এরপর আদালতে উপস্থাপন করলে উভয়ের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি টিম রাত ৯টা ২৫ মিনিটে বারিধারা এলাকা থেকে পিয়াসাকে এবং ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রাত ১২টা ৫ মিনিটে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে মৌকে গ্রেফতার করে। পিয়াসার কাছ থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছয় লিটার মদ ও সিম্বা ব্র্যান্ডের ৪টি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আলিশান জীবনযাপন ছিল মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের। নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী, দেশি-বিদেশি দামি পোশাক, শেলফের তাকে তাকে সাজানো জুতাসহ বাহারি সব পণ্যের সমাহার ছিল তাদের বাসায়। বাসার ভেতরে প্রবেশ করলে চোখ চড়কগাছ হওয়ার উপক্রম। কারণ তাদের দৃশ্যমান আয়ের উৎসের সঙ্গে জীবনযাপনের ব্যয়ের ছিল আকাশ-পাতাল ব্যবধান। গোয়েন্দাদের ভাষায়, পিয়াসার বাসা ছিল অনেকটা ‘রাজরানি’র ঘরের মতো।

যেখানে বিলাসী জীবনযাপনের জন্য সবই ছিল। ব্যবস্থা ছিল মনোরঞ্জনের। তারা বাসার মধ্যেই গড়ে তুলেছিলেন ‘মিনিবার’। যেখানে আনাগোনা ছিল ধনাঢ্য ব্যক্তিদের। সবচেয়ে বেশি যাতায়াত ছিল ধনীর দুলালদের। তাদের বাসায় এনে ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করত দুই মডেল। নামিদামি বিভিন্ন ক্লাবের সদস্যপদ থাকার সুবাদে সেখানেও টার্গেট ঠিক করত তারা।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, পিয়াসা নিজেকে অত্যন্ত প্রভাবশালী মনে করত। ফলে বাসায় ডিবি পুলিশ ঢোকার পর সে অনেকটা হতভম্ব হয়ে যায়। কারণ সে এটা ভাবতেও পারেনি যে, তার বাসায় পুলিশ যেতে পারে। এটা তার চিন্তার বাইরে ছিল। ফলে হতচকিত হয়ে কী করবে-বুঝে উঠতে পারছিল না সে। পরে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয়, ‘আমরা ডিবি থেকে আসছি, সহযোগিতা করুন।’ এরপর সে অনেকটা নিশ্চুপ হয়ে যায়। শুরু হয় তল্লাশি। সেখানে একটি মিনিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। তার বাসায় মদের বারের ফুল সেটআপ ছিল। অভিযান শেষে যখন তাকে গাড়িতে তোলা হয়, তখন সে উচ্চস্বরে কয়েক ব্যক্তির নাম বলছিল।

গত রোববার রাতে প্রথমে বারিধারায় পিয়াসার বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এরপর অভিযান চালানো হয় পিয়াসার অন্যতম সহযোগী মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে মৌয়ের বাসায়। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানা এবং পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করে পুলিশ। সোমবার তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাদের।

মডেল পিয়াসা ও মৌ রিমান্ডে

229 ভিউ

Posted ১:০৩ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com