শুক্রবার ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পুঁজিবাজারে গ্যামলারদের কারসাজিতে লেনদেন তলানিতে

শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২
50 ভিউ
পুঁজিবাজারে গ্যামলারদের কারসাজিতে লেনদেন তলানিতে

কক্সবাংলা ডটকম(২০ অক্টোবর) :: পুঁজিবাজারে গ্যামলারদের কারসাজিতে লেনদেন তলানিতে এসেছে।মূলত ফ্লোর পাইস তুলে ফেলতেই তাদের এ কারসাজি।  টানা ৫ কার্যদিবস দরপতনের পর বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। তবে লেনদেনে অংশ নেয়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার থেকে বেশি। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। ডিএসই লেনদেন কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে।

জানা যায়.গত দশ বছরে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতায় উপর্যুপরি প্রণোদনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়। এরমধ্যে কোনোটি স্বল্প, কোনোটি মধ্য আবার কোনোটি দীর্ঘমেয়াদি। বিভিন্ন কর ছাড়, অবাধে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ এবং তারল্য সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।

কিন্তু এসব প্রণোদনার পরও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি। সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট কিছু চক্র সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়নি বাজার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোটা দাগে বাজারে দুটি সংকট। চাহিদার দিক থেকে সংকট হলো এই বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট। সরবরাহের দিক থেকে সংকট হলো ভালো কোম্পানির সংখ্যা কম। ফলে কারসাজি সিন্ডিকেটের জয়জয়কার অবস্থা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আস্থা ফেরাতে সুশাসন জরুরি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মূল্যসূচক কিছুটা বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) পতন অব্যাহত রয়েছে।

সূচক কমার পাশাপাশি বাজারটিতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে, কমেছে তার দ্বিগুণের বেশি। অবশ্য দুই বাজারেই দাম বাড়া বা কমার তুলনায় দাম অপরিবর্তিত থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি। ডিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের প্রথম চার কার্যদিবস পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হয়। চার কার্যদিবসের টানা দরপতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১০৪ পয়েন্ট কমে যায়। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও বাজারে দরপতন হয়। ফলে টানা ৫ কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকে পুঁজিবাজার। এমন টানা দরপতনের কারণে তালিকাভুক্ত অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ফ্লোর প্রাইসে (দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা) চলে এসেছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচক কিছুটা বাড়লেও ফ্লোর প্রাইসের চিত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। আগের মতোই অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম ফ্লোর প্রাইসে আটকে রয়েছে। এতে অনেকে লোকসানে শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করলেও ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করতে পারছেন না।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল পুঁজিবাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। ফলে পুঁজিবাজার খুলতেই ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। লেনদেনের শুরুতে সূচক বাড়লেও ১০ মিনিটের মধ্যে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। লেনদেনের প্রথম সাড়ে ৩ ঘণ্টায় বেশির ভাগ সময় সূচক ঋণাত্মক থাকে। তবে শেষ ২০ মিনিটের লেনদেনে বেশি কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরপতন থেকে বেরিয়ে আসে।

এতে পাঁচ কার্যদিবস পর সূচকের কিছুটা ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। অবশ্য সূচক বাড়লেও দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৮টির। আর ২২৫টির দাম অপরবর্তিত রয়েছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩৯২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪০৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৭৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সে হিসেবে লেনদেন কমেছে ২০৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। লেনদেন শুধু আগের দিনের তুলনায় কমেনি, ডিএসইতে চলতি বছরের ১৪ আগস্টের পর সর্বনিম্ন লেনদেন হলো। এ লেনদেন খরার বাজারে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১৭ কোটি ২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ফার্মার ৭৭ কোটি ২২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৬০ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে-ইস্টার্ন হাউজিং, জেমিনি সি ফুড, কেডিএস এক্সসরিজ, জেএমআই হসপিটাল এন্ড মেনুফ্যাকচারিং, এডিএন টেলিকম, সোনালি পেপার এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২০১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ৯১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আর আস্থার সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি বলেন, প্রণোদনা দিলে বাজারে সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য সুশাসন জরুরি।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে প্রণোদনার পরিবর্তে এখানে আইন-কানুন সংস্কার জরুরি। না হলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, এ অবস্থার উত্তরণে কৃত্রিমভাবে সূচক না বাড়িয়ে বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া উচিত।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে এ ধরনের বিও অ্যাকাউন্ট (বেনিফিশারি ওনার) সংখ্যা ১ লাখের কাছাকাছি। আবার একজনের দুই-তিনটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, এমন সংখ্যা বাদ দিলে ৫ লাখ টাকার উপরে প্রকৃত বিনিয়োগকারী ৫০ থেকে ৬০ হাজার। এর মধ্যে ৫-৬টি গ্রুপ মিলে ১০ থেকে ১২ হাজার অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করে। এই মুষ্টিমেয় সংখ্যক বিনিয়োগকারী দীর্ঘদিন বাজার দখল করে রেখেছেন। ফলে সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যেসব প্রণোদনা দেওয়া হয়, তা মুষ্টিমেয় কিছু বিনিয়োগকারীর পকেটে যায়। অর্থাৎ প্রণোদনায় উদ্বৃত্ত হয়ে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী কিংবা কোম্পানি আসছে না।

ফলে প্রণোদনার সুফল নেই শেয়ারবাজারে। গত দশ বছরে এখানে দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি মিলিয়ে শতাধিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। অবাধে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বাজার টেকসই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নয়, নির্দিষ্ট একটি চক্র এই প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। আর এ সুবিধার জন্য বিভিন্ন সময়ে চক্রটি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।

এরা বিনিয়োগকারীদের জিম্মি করে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করছে। আর শেষ পর্যন্ত নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। অপরদিকে শত শত কোটি টাকা লুটছে বিশেষ চক্র। বাজারে চাহিদার দিক থেকে সমস্যা হলো এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আর সরবরাহের দিক থেকে সমস্যা হলো ভালো কোম্পানির সংখ্যা খুবই কম। তাদের মতে, শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য সামগ্রিকভাবে আর্থিক খাতের সংস্কার দরকার।

কারণ একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসে মূলত দুই কারণে। প্রথমত, কোম্পানির সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির জন্য, দ্বিতীয়ত অন্যদের তুলনায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যে দেশে ব্যাংক থেকে টাকা নিলে ফেরত না দিয়ে পার পাওয়া যায়, সেখানে শেয়ারবাজারে পুঁজির জন্য কোম্পানিগুলো আসতে আগ্রহী হবে না। অন্যদিকে যেসব কোম্পানিকে কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, বর্তমানে ওই কোম্পানি করই দেয় না। আর কর দিলেও দিলে বিভিন্নভাবে ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে শেয়ারবাজার টেকসই করার জন্য সবার আগে ব্যাংকিং ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার দরকার। এরপর শেয়ারবাজারে নির্মোহভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে হিসাব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে এটি বাজারমূল্যে হিসাব করা হতো। এক্ষেত্রে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এটি বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি ছিল। ফলে এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির বন্ডে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগ সীমার বাইরে রাখা হয়েছে।

বাজারের জন্য এটি অনেক বড় প্রণোদনা বলে দাবি করে আসছে সংশ্লিষ্টরা। দশ বছরে ৬ বার কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। এরমধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিনাপ্রশ্নে দেশে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। একজন বিনিয়োগকারী মাত্র ১০ শতাংশ কর দিয়েই কালোটাকা সাদা করার সুযোগ পায়। এক্ষেত্রে সরকারের অন্য কোনো সংস্থাও টাকার উৎস নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন করবে না বলে ধারায় উল্লেখ করা হয়। আর বাজারে কিছুদিন এর ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও পরে আবার পতন হয়। সুযোগসন্ধানীরা কেটে পড়ে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় করমুক্ত।

প্রণোদনা : বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাজারসংশ্লিষ্টদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাজারের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়। ৮টি প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে ছিল ২০১১ সালের বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মার্জিন ঋণের সুদ এক বছরের জন্য স্থগিত, ব্যাংকগুলোর ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) এবং স্ট্যাটিউটরি লিকুইডিটি রিকোয়ারমেন্ট (এসএলআর) কমানো, কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য আইপিওতে কোটা নির্ধারণ অন্যতম।

শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে দুই বছর আগে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুরো রেপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ দেওয়া হবে। কয়েক ধাপে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে চীনের বিনিয়োগ থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যরা যে অর্থ পেয়েছিল, শেয়ার কেনার শর্তে ওই টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর অবকাশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ সদস্য আগে থেকেই শেয়ার বিক্রি করে তাদের ডিলার অ্যাকাউন্ট খালি করে রেখেছিল। এরপর চীনের টাকা পেয়ে তারা নতুন করে কিছু শেয়ার কিনেছে। অর্থাৎ টাকা কর অবকাশ সুবিধা নিয়েও তাদের বিনিয়োগ করতে হয়নি। এভাবে বিনিয়োগকারীদের জিম্মি করে বিভিন্ন উপায়ে সুবিধা আদায় করে নিয়েছে একটি চক্র।

বিপর্যয়ের পর ২০১১ সালেও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের ওপর কর দিতে হতো। স্টক এক্সচেঞ্জের দাবির কারণে ধাপে ধাপে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ করমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডিমিউচুয়ালাইজেশনের পর স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫ বছর কর অবকাশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম বছরে শতভাগ করমুক্ত। এছাড়া কোনো কোম্পানি বা অংশীদারি ফার্ম পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ হতে যে টাকা মুনাফা করে, তার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হতো। এখন তা করমুক্ত। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে মুনাফা করলে উৎসে কর দিতে হয় না। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজসহ সংশ্লিষ্ট ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ করেছে।

বাকি ৫০ শতাংশ সুদ ব্লক অ্যাকাউন্টে রেখে তিন বছরে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আইপিওতে বিশেষ কোটা দেওয়া হয়েছে। ২০১২ থেকে কোম্পানির আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা দেওয়া হয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ৯শ কোটি টাকা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৫ হাজার বিনিয়োগকারী এই সুবিধা পেয়েছে।

এছাড়াও ব্রোকারেজ হাউজের পুনর্মূল্যায়নজনিত ক্ষতির বিপরীতে বিশেষ প্রভিশন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট নেতিবাচক ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক হলেও একসঙ্গে প্রভিশনিং করতে হবে না। এছাড়াও ব্যাংক কোম্পানি আইন শিথিল করে ব্যাংকের বিনিয়োগে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে এর প্রভাব খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জানা গেছে, একের পর এক অজুহাতে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিকে জিম্মি করে সুবিধা নিচ্ছে বাজার সংশ্লিষ্টরা। একটি প্রণোদনার পর কয়েক দিন সূচক বাড়ে। এরপর টানা পতন শুরু হয়। শুরু হয় নতুন বায়না। এভাবেই গত ১২ বছর চলেছে দেশের শেয়ারবাজার। ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের মেয়াদ ২০ দফায় বাড়ানো হয়েছে।

আগে ব্যাংকগুলো মোট আমানতে ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। কিন্তু ২০১২ সালের পর আইন সংশোধন করে ব্যাংকগুলো তার রেগুলেটরি ক্যাপিটালের ২৫ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে যারা বেশি বিনিয়োগ করেছিল তা সমন্বয়ের জন্য ২০ দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় এলেই বাজারে পতন। ফলে বিনিয়োগ সমন্বয়ের মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এছাড়াও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর নেতিবাচক অ্যাকাউন্ট সমন্বয়ের মেয়াদও ১০ বারের বেশি বাড়ানো হয়েছে।

50 ভিউ

Posted ১:২০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com