বৃহস্পতিবার ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পুঁজিবাজারে রহস্যময় বীমা খাতের অস্বাভাবিক মুনাফা

সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
26 ভিউ
পুঁজিবাজারে রহস্যময় বীমা খাতের অস্বাভাবিক মুনাফা

কক্সবাংলা ডটকম :: গত বছরের মার্চে দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্তের পর থেকেই ছন্দপতন হয়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্যের। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে দেশের সাধারণ বীমা খাতের ব্যবসায়। তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে; সাধারণ বীমা খাতের শেয়ারে। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এক দফা উল্লম্ফন দেখা গেছে খাতটিতে। আর করোনার দ্বিতীয় প্রবাহের মধ্যেই এবার এক মাস ধরে সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ঊর্ধ্বমুখী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এজেন্ট কমিশন শূন্যে নামিয়ে আনায় কোম্পানিগুলোর ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি আয় ও লভ্যাংশ বাড়বে এমন আশায়ই বিনিয়োগকারীরা সাধারণ বীমার শেয়ারে ঝুঁকছেন।

বীমা খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের কারণে গত এক মাসে এ খাতের শেয়ার লেনদেন, বাজার মূলধন ও রিটার্ন বেড়েছে। চলতি বছরের ২১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাপ্তাহিক গড় লেনদেনের ৯ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল সাধারণ বীমা খাতের। একই সময়ে পুঁজিবাজারে মোট বাজার মূলধনের ২ শতাংশ ছিল সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর। আর এ সময়ে এ খাতের কোম্পানিগুলো থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ রিটার্ন পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সর্বশেষ ১১ থেকে ১৫ এপ্রিল সময়ে ডিএসইর সাপ্তাহিক গড় লেনদেনের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল সাধারণ বীমা খাতের। একই সময়ে পুঁজিবাজারের মোট বাজার মূলধনে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর অবদান ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর এ সময়ে এ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। মূলত গত এক মাসে সাধারণ বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ও লেনদেন বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশনা অনুসারে চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো এজেন্ট কমিশন বাবদ কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারছে না। এর আগে এ খাতের কোম্পানিগুলোর ১৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করার সুযোগ থাকলেও সীমার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করাটাই এক ধরনের প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এজেন্ট কমিশন না থাকায় সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলো আর অতিরিক্ত ব্যয় করতে পারবে না এবং এতে কোম্পানিগুলোর আয় ও লভ্যাংশ দুটোই বাড়বে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে পুঁজিবাজারে। আর এ গুঞ্জন উসকে দিয়ে সুবিধা নিচ্ছে একশ্রেণীর কারসাজি চক্র। গত বছর বীমা খাতের শেয়ারদরে উল্লম্ফনের বিষয়টি মাথায় রেখে এবারো বিনিয়োগকারীরা এ খাতের শেয়ারের প্রতি ঝুঁকতে শুরু করেন।

আয় ও লভ্যাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হলেও সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সাধারণ বীমা কোম্পানির আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো কোম্পানির আয় ও লভ্যাংশ আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়লেও লভ্যাংশ একই রয়েছে। আবার আয়ে উল্লম্ফন হলেও নগদের পরিবর্তে স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোনোটি।

কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছর কোম্পানিটি ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ২৯ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭৫ পয়সা। প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ২০২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যেখানে আগের বছরও কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩২ পয়সা, যেখানে আগের বছর ইপিএস ছিল ৪৩ পয়সা।

প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যেখানে আগের বছর কোম্পানিটি ২ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা। নিটল ইন্স্যুরেন্স ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যেখানে আগের বছর কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ইপিএস ২ টাকা ৮৪ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৩ টাকা ২২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ২ জুলাই অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা। বেশ কয়েক দফায় দর বাড়া-কমার পর সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ১৭ টাকা। সেখান থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়া-কমার মধ্য দিয়ে গতকাল সর্বশেষ ৯৪ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ১৯ টাকা ১০ পয়সা। এরপর কয়েক দফা ওঠা-নামা শেষে সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি ৬১ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

গত বছরের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির (বিজিআইসি) শেয়ারদর ছিল ২২ টাকা ৯০ পয়সা। সেখানে থেকে কোম্পানিটির দর বাড়া-কমার মধ্য দিয়ে সর্বশেষ গতকাল ৩৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা। এর পর থেকে টানা কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়তে থাকে এবং সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৯৮ টাকা ৬০ পয়সা।

সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ১২ জুলাই ছিল ২২ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে টানা বাড়তে বাড়তে গতকাল শেয়ারটির দর ৬২ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের ২ জুলাই সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ১৩ টাকা ১০ পয়সা। মাঝখানে কয়েক দফায় উত্থান-পতনের পর গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার ২৭ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ১৩ জুলাই ছিল ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। এর পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়া-কমা শেষে সর্বশেষ গতকাল ৪৪ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার পর লেনদেন শুরুর দিন গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫ টাকায় দাঁড়ায়। মাঝে ওঠা-নামার পর সর্বশেষ গতকাল ৪৭ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে কোম্পানিটির শেয়ারদর।

চলতি বছরের ২৯ মার্চ পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। ১০ টাকার শেয়ার প্রথম দিনই বেড়ে হয় ১৫ টাকা। এর পর থেকে বাড়তে বাড়তে গতকাল সর্বশেষ ৩৪ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার গত বছরের ২ জুলাই ছিল ২৪ টাকায়। এরপর কয়েক দফা উত্থান-পতন শেষে সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার ৪৮ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি ৯৩ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার গত বছরের ২ জুলাই ছিল ২০ টাকা ৩০ পয়সা। আর গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ২০ পয়সায়।

গত বছরের আগস্টে আইপিওতে আসার পর এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্সের ১০ টাকার শেয়ার প্রথম দিনই বেড়ে ২৪ আগস্ট ১৫ টাকায় দাঁড়ায়। এরপর বাড়া-কমার মধ্য দিয়ে সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সায়। সেখান থেকে বড় ধরনের উল্লম্ফনের পর সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি ২৫ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ১৪ টাকা ১০ পয়সা। এরপর কয়েক দফা বাড়া-কমার পর সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটির দর দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৫০ পয়সায়।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২৭ জুলাই ছিল ৪৭ টাকা ৩০ পয়সা। এরপর কয়েক দফা উত্থান-পতন শেষে সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি ৫৪ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশের শেয়ারদর গত বছরের ১৩ জুলাই ছিল ২০ টাকা ৯০ পয়সা। আর সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৪০ পয়সা। জনতা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর গত বছরের ২ জুলাই ছিল ১৪ টাকা ৭০ পয়সা। সর্বশেষ গতকাল শেয়ারটি ৩৪ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

26 ভিউ

Posted ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com