শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পুঁজিবাজার ছাড়ছেন হতভম্ব বিনিয়োগকারীরা

বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২০
29 ভিউ
পুঁজিবাজার ছাড়ছেন হতভম্ব বিনিয়োগকারীরা

কক্সবাংলা ডটকম(৮ জানুয়ারী) :: নীরবে নিঃশেষ হচ্ছে পুঁজিবাজার। আলোচনা-সমালোচনা, বিতর্ক, সরকারের নানা আশ্বাসবাণী, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি, কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না পুঁজিবাজারের পতন। ফলে প্রায় প্রতিদিনই অব্যাহত পুঁজি হারিয়ে হাহাকার করছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১৯ সালটা ভালো যায়নি। পতনের ভারে তিন বছর আগে ফিরে গেছে পুঁজিবাজার। আর ২০২০ সালে নতুন আশাবাদ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আশা খুঁজে পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। ফলে হতভম্ব বিনিয়োগকারী অগত্যা এখন বাজার ছাড়ছেন। তাঁদের প্রশ্ন, আর কত তলানিতে নামবে পুঁজিবাজার? এই পতনই বা ঠেকাবে কে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলছেন, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যা যা প্রয়োজন সবই করছে। স্টেকহোল্ডারদের প্রয়োজনে নীতিসহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবু ভীতি ও শঙ্কায় পুঁজিবাজারে ‘প্যানিক সেল’ বাড়ছে। একটি গোষ্ঠী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিষ্ক্রীয়। তাঁরা বলছেন, শেয়ার দাম কমে যাওয়ায় মূলধন আটকে গেছে। এ কারণে হাতে পর্যাপ্ত তহবিল নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারে আস্থা হারিয়েছেন বিনিয়োগকারী। দুর্বল কম্পানির শেয়ার, বছর শেষে লভ্যাংশ কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীর ভীতকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। গ্রামীণফোনের সঙ্গে সরকারের বকেয়া আদায় দ্বন্দ্ব বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। বিদেশীরাও অব্যাহত শেয়ার ছেড়ে মূলধন তুলে নিচ্ছেন। গত ৯ মাসের চিত্র বলছে, বিদেশিরা যেসংখ্যক শেয়ার কিনছেন, তার চেয়ে বিক্রি করছেন অনেক বেশি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যানুযায়ী, বকেয়া আদায় নিয়ে সরকারের সঙ্গে গ্রামীণফোনের দ্বন্দ্ব পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলেছে। মূলত বিদেশি বিনিয়াগকারীরা মৌলভিত্তির কম্পানিতে বিনিয়োগ করে। কিন্তু গত বছর থেকে বকেয়া আদায় নিয়ে টানাপড়েন সৃষ্টি হলে বাজার অস্থির হয়ে যায়। সমঝোতায় দ্বন্দ্ব নিরসন না হওয়ায় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বিষয়টি।

পুঁজিবাজারের ক্রমাগত পতন ও নিন্মমুখী অবস্থান নিয়ে সর্বশেষ গত ২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছে পুঁজিবাজারের প্রাইমারি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই)। ওই বৈঠকে বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারে বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বাড়াতে তারল্যের জোগান বাড়ানো এবং গ্রামীণফোন-বিটিআরসির সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনের জোর দেয় তারা।

পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বড় মূলধনী কম্পানি গ্রামীণফোন। এক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের ১২ হাজার কোটি টাকা আদায় নিয়ে টানাপড়েনে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছর এপ্রিল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বকেয়া আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বে গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম কমে গেছে ২১ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে আকর্ষণীয় গ্রামীণফোনের শেয়ার বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫৫ টাকায়। গত বছর ১ এপ্রিল এই শেয়ারের দাম ছিল ৪১৭ টাকা। ৯ মাসের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

এপ্রিলের শুরুতে গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন ছিল ৫৬ হাজার ৩০৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর গতকাল বুধবার সেই বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৪৮৬ কোটি ৬৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায়। এ সময় গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন কমেছে ২১ হাজার ৮২০ কোটি ৮৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

গতকাল গ্রামীণফোনের শেয়ার দাম কমেছে ৬.১০ শতাংশ। দিনের শুরুতে ২৭২ টাকায় লেনদেন শুরু হয়ে শেষ হয়েছে ২৫৫ টাকায়। এক দিনেই শেয়ারপ্রতি দাম কমেছে ১৬.৬ টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর পুঁজিবাজারে এ পর্যন্ত ছয় কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে চার দিনই বড় পতন ঘটেছে। দুই দিন শেয়ার কিনতে সামান্য চাপ থাকায় মূল্যসূচক বাড়ে। এই ছয় দিনে ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২২৪ পয়েন্ট। চার দিনের পতনে কমেছে ২৩০ পয়েন্ট। অন্য দুই দিনে সূচক বেড়েছে ৬ পয়েন্ট।

এ সময় বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার ১২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পুঁজিবাজারে বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের দাম কমলে বাজার মূলধন হ্রাস পায়। আর ২০১৯ সালজুড়ে পুঁজিবাজারে মূলধন কমেছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা, মূল্যসূচক কমেছে প্রায় এক হাজার পয়েন্ট।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজারের পতনে বিটিআরসি ও গ্রামীণফোনের দ্বন্দ্বকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোনের সঙ্গে বিটিআরসির ঝামেলায় শুধু গ্রামীণফোনের ক্ষতি হয়নি, পুরো বাজার কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। কারণ বিদেশিরা যখন আসেন, তখন ফান্ডামেন্টাল শেয়ার দেখে আসেন।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে অনেকে অপেক্ষায় ছিল নতুন বছরে উদ্যোগ নিলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় সবাই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। গ্রামীণফোন ইস্যু বাজারকে টালমাটাল করেছে। অন্য কম্পানির ওপরও এই প্রভাব পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আশা ছেড়ে দিয়ে যা আছে তাই নিয়ে বাজার ছাড়ছে। সরকার বাজারকে সাপোর্ট না দিলে কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই।

29 ভিউ

Posted ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com