মঙ্গলবার ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এস আলমের জমি নিয়ে গোলাগুলি, সাবেক চেয়ারম্যান সহ আহত-১০

শনিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮
265 ভিউ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এস আলমের জমি নিয়ে গোলাগুলি, সাবেক চেয়ারম্যান সহ আহত-১০

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১৩ জানুয়ারী) :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাকপাড়া নামক একটি গ্রামে কয়েক ঘণ্টা ধরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ইউনুছসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর দেহরক্ষী, সাবেক শিবির ক্যাডার ও মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে এ হামলার ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা কয়েক শ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। হামলার সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িসহ আরো ৬/৭টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরও করেছে সন্ত্রাসীরা।

হামলার ঘটনায় পেকুয়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালনেরও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি শনিবার সকাল থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা যখন সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন থেকেই কর্মরত সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দফায় দফায় পুলিশকে অবহিত করছিলেন। কিন্তু পেকুয়া থানার পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পেকুয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগও উঠেছে যে, শনিবার সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক শিবির ক্যাডার ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে পুলিশ পাহারায় ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছের ঘর ঘিরে হামলা চালায়।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমদ সিআইপি জানান, তিনি হামলার আগে থেকেই সন্ত্রাসীদের আনাগোনা সম্পর্কে পুলিশকে বার বার অবহিত করলেও পুলিশ কোনো সহযোগিতা করেনি। তবে রাতে পেকুয়া থানার ওসি জহিরুল ইসলাম খান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করেও হামলার ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়নি।

এলাকার লোকজন জানান, সন্ত্রাসীরা সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে তাকে ধরে দিগম্বর করে কালারপাড়া এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে চোখ তুলে নেওয়ায় চেষ্টা চালায়। সন্ত্রাসীদের গুলি ও মারধরে তিনি মাথায় হাতে পায়ে এবং চোখে আঘাত প্রাপ্ত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, আহতের অবস্থা গুরুতর। তার মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুছের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ত্রাসীরা আমাদের বসতবাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও আমরা পাইনি। পরে সন্ধ্যায় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিমের নেতৃত্বে কালার পাড়া এলাকার কানা মানিক, পশ্চিম কূল এলাকার জিয়াবুল, কাজী মার্কেট এলাকার আব্দুল করিম, লিটন, আফজলীয়া পাড়া এলাকার কায়সার ও জয়নালসহ শতাধিক সন্ত্রাসী বাড়িতে হামলা চালায়।’ এ সময় তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে গুলিবর্ষণ করতে করতে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তার স্বামীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

মগনামা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুলতান মোঃ রিপন বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে সাবমেরিন স্টেশনের জন্য অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি লবণ চাষের জন্য অবৈধ দখল নেয় মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক শিবির ক্যাডার শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম। জমির বিনিময়ে প্রান্তিক লবণ চাষীদের কাছ থেকে তিনি বিপুল অংকের অর্থ আদায় করতে থাকেন। সাবেক চেয়ারম্যান প্রান্তিক চাষীদের পক্ষাবলম্বন করায় সাবেক শিবির ক্যাডারের রোষানলের শিকার হন।

কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য ও পেকুয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর দেহরক্ষী সাবেক শিবির ক্যাডার ওয়াসিমের রয়েছে কয়েক শ সশস্ত্র ক্যাডার। গত কিছুদিন ধরেই এলাকায় এসব ক্যাডারগণ যত্রতত্র গুলিবর্ষণ করে ভীতির সঞ্চার করে আসছে। সাবেক চেয়ারম্যান ক্যাডারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠায় ফুঁসে উঠে ওয়াসিমের সশস্ত্র বাহিনী। তাই পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এ হামলা চালানো হয়।’

পেকুয়া-চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মতিউল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ামিসহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

265 ভিউ

Posted ৭:১৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com