সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পেকুয়ায় করোনা দুর্যোগে দরিদ্র জনগোষ্টির পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০
63 ভিউ
পেকুয়ায় করোনা দুর্যোগে দরিদ্র জনগোষ্টির পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা

মোঃ ফারুক,পেকুয়া(২ এপ্রিল) :: ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত পেকুয়া উপজেলাটি সাত ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলায় রয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান, ৭ ইউপি চেয়ারম্যান, ৬৩ ইউপি সদস্য, ২৭ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য। এছাড়াও রয়েছে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ সদস্য।

অথচ জেলা পরিষদ সদস্য জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও বাকিরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের আগে তারা বিভিন্ন পোষ্টারে লিখেন অমুক ভাই গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের আপনজন। ভোট আদায়ের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেন, আপনারা অমুক ভাইকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলে সবসময় দরিদ্র জনগোষ্টির পাশে থাকবে। মাইকে প্রচার করা হয় সময় অসময়ে কাকে পায় অমুক ভাই। এসব আশ্বাস দিয়ে অসহায় মানুষদের ভোট আদায় করে নির্বাচিত হয়েছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

কিন্তু এসব মিথ্যা প্রচারণা ও মিথ্যা আশ্বাস ছিল এরকম মন্তব্য করছেন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্টির অধিকাংশ মানুষ। মহামারী করোনা ভাইরাসের লকডাউনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর কাজকর্ম বন্ধ ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিনাপাত করলেও জনপ্রতিনিধিদের কোন ধরণের সাড়া অথবা সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

জানা গেছে, ৭ ইউপির মধ্যে পেকুয়া সদরে বাহাদুর শাহ, শিলখালীতে নুরুল হোসাইন বারবাকিয়ায় বদিউল আলম, উজানটিয়ায় শহিদুল ইসলাম চৌধুরী একটানা দুইবার, মগনামায় শরাফত উল্লাহ চৌধুরী, রাজাখালীতে ছৈয়দনুর আর টইটংয়ে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ১ম বারের মত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এছাড়াও বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য ও সদস্যা দুইবার করে নির্বাচিত হয়েছেন। অনেক আশা ও দুঃখ লাগবে স্থানীয় জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলেও তাদের চরম দুঃখের সময় কোন ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তবে এক্ষেতে ব্যতিক্রম মাত্র মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের কার্যক্রম।

তিনি খাবার সামগ্রী নিয়ে মগনামার প্রতিটি গ্রাম এলাকায় ছুটে চললেও দেখা মিলেনি অন্য কোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কার্যক্রম। যার কারণে আর্থিক দুঃখের মধ্যে খাবার সংকটাপন্ন অবস্থায় দিনাপাত করছেন অসহায় জনগোষ্টির লোকজন। অথচ এসমস্ত চেয়ারম্যান আর মেম্বারগণ এ সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা আয় করে নিজের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

আরো জানা গেছে, দরিদ্র জনগোষ্টিকে আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বরাদ্ধ দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইউএনও তা বরাদ্ধ দেয়া শুরু করেছে। আরো বেশ কিছু বরাদ্ধ ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দেয়া হবে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরে দরিদ্র জনগোষ্টির মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়লে এ সামান্য সহযোগিতা প্রর্যাপ্ত নয়। এক্ষেত্রে সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা। এদিকে বেশ কিছু ইউনিয়নের স্থানীয় আ,লীগ ও সহযোগি সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা নিজ উদ্যোগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সহযোগিতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

পেকুয়া সদরের বাসিন্দা রেজাউল করিম, হিজুবুল্লাহ, রহিমসহ আরো বেশ কয়েকজন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যা অল্প সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে তাই দিয়ে চলছে এসব মানুষের আহার। অন্যদিকে তাদের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান আর মেম্বারগণ রয়েছে ঘুমের ঘুরে। তারা এখন পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে গেছে। দুঃখী মানুষদের আর্থিক সহযোগিতা তো দূরের কথা তাদের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। অথচ বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এ সমস্ত টাকা কিন্তু গরীব আর অসহায় মানুষদের কাজ থেকে আদায় করা। এবার গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের আপনজন বলে ভোট খুঁজতে আসলে তার বদলা নিবে অসহায় মানুষগুলো।

শিলখালীর বাসিন্দা শেখ ফরিদ, নুরুল হোসাইন, বারবাকিয়ার বাসিন্দা মাহামুদুল করিম, রাজাখালীর বাসিন্দা আবুল বশর, টইটংয়ের বাসিন্দা লিটন, উজানটিয়ার বাসিন্দা জালাল উদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজন প্রায় অভিন্ন শুরে বলেন, পেকুয়ায় দুই সপ্তাহ ধরে অঘোষিত লকডাউন চলছে। খাবার সংকটে দিনাপাত করছে দরিদ্রগোষ্টির মানুষ। দেখা মিলেনি কোন জনপ্রতিনিধির কার্যক্রম। খাবার সামগ্রী দেয়া দূরের কথা কোন ধরণের খবরও নেওয়া হচ্ছেনা। এ চেয়ে দুঃখ আর কি থাকতে পারে।

মগনামার বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন মুজাহিদ বলেন, অন্য ইউনিয়নের মত মগনামা ইউনিয়ন নয়। আমাদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নিজস্ব তহবিল থেকে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষকে খাবার সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। এর কার্যক্রম এখনো চালু রাখায় চেয়ারম্যানের প্রতি মগনামাবাসী হিসাবে আমরা কৃতজ্ঞ।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এডভোকেট রাশেদুল ইসলাম বলেন, এখনকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজের আখের গোছানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটের আগে কত রকম আশ্বাস দেয় অথচ ভয়াবহ মহামারীতে তাদেরকে কাছে পাচ্ছিনা। সাধারণ জনগণ কিন্তু এবার তার প্রতিদান জনপ্রতিনিধিদের দিবে।

63 ভিউ

Posted ৩:৪০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com