
নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৫ জানুয়ারী) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুর্গম পাহাড়ী সোনাইছড়ি ছড়াতে নির্মিত হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেতু। এতে করে ছড়ার দু’কুলের ১৬টি গ্রামের ৮ হাজার লোকের যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একজন সমাজ সেবক ছড়ার দু’পাড়ের জনগোষ্টীর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতর ও সুগম করতে ওই ছড়াতে নির্মান করছে সেতু।
উপজেলার টইটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি পাহাড়ী প্রবাহমান ছড়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে সেতু নির্মিত হওয়ায় ওই এলাকার বিশাল জনগোষ্টির মাঝে স্বপ্নের ও বাস্তবতার নতুন দ্বার উম্মেচিত হচ্ছে। সোনাইছড়ি ছড়া অত্যন্ত খরস্রোতা। পাহাড়ী অববাহিকা থেকে উজানের দিকে স্রোত প্রবাহমান। শুস্ক মৌসুমে ছড়ায় পানির স্তর কমে যায়। বর্ষার দিকে ওই ছড়া প্রচন্ড খরস্রোতা।
বাঁশের সাকো ও কাঠের কালভার্ট এ স্রোতের তান্ডবে বিধ্বস্ত হয়। ছড়ার দু’পাড়ে বিপুল জনগোষ্টির বসতি। বিশেষ করে টইটং ইউনিয়নের মধুখালী ছনখোলার জুম এলাকার উপর দিয়ে এ ছড়াটি গভীর পাহাড়ি অরন্যে পৌছে। ছড়ায় বর্ষার সময় পারাপার দু:সাধ্য। স্রোত বেগবান থাকায় এখানকার মানুষজনের নিকট এ ছড়াটি অনেকটা মৃত্যুফাঁদ।
এতে করে মানুষের যাতায়াতের দু:সাধ্য হয়ে থাকে সোনাইছড়ি ছড়া। এ দিকে এ ছড়ায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে সেতু। সম্প্রতি সোনাইছড়ি ছড়ায় সেতু তৈরীর কাজ আরম্ভ হয়েছে। স্থানীয়র জানায়, ছনখোলার জুম এলাকার মনজুর আলম নামক এক সমাজ সেবক ছড়ায় সেতু নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
একটি টেকসই ব্রীজ নির্মাণ করতে ওই ব্যক্তি ব্যক্তিগত পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই ছড়ায় সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। স্থানীয়রা জানায়, মনজুর আলম একজন মহৎ ব্যক্তি। এক সময় দরিদ্র ছিলেন। বর্তমানে তিনি সচ্ছল হয়েছেন।
এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি তার মানষপটে নাড়া দিত। যে সময় মানুষের দুর্ভোগ বিরাজ করত মনজুর আলম মানুষের দু:খ তার মনে বেদনা বিধুর হত। তবে তিনি স্বপ্ন দেখতেন এক সময় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে সেখানে সেতুর ব্যবস্থা তিনি করিয়ে দিবেন। অতীতের সে স্বপ্ন ও বাসনা বর্তমানে বাস্তবে সক্ষম হয়েছেন। মানুষ তার এ মহৎ কর্মে সত্যি আচার্য্য হয়েছেন।
স্থানীয়রা বলাবলি করছেন একজন মনজুর আলম কত মহৎ ও উদার সেটি এ ব্রীজ নির্মান কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মধুখালী পয়েন্টে সোনাইছড়ি ছড়ায় সেতু নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। ছড়ার দু’কুলে ও মাঝখানে পিলার তৈরী হয়েছে। একটি অধিকতর মজবুত সেতু তৈরী করতে ওই ব্যক্তি বিপুল পরিমান অর্থের যোগান দেয়।
বুধবার দেখা গেছে সেতু নির্মিত হচ্ছে। পিলার দাড় করানো হয়েছে। ছাদ তৈরী করতে লোহার নেট তৈরীর কাজ চলমান আছে। মনজুর আলম জানায়, তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিতে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। গত এক সপ্তাহ আগে আনুষ্টানিক সেতু নির্মাণ কাজের সুচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ইসলামী রিচার্স সেন্টারের সহ পরিচালক মুফতি সোহাইল, চাম্বল মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আবদুল জলিল, পটিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি বুখারী সাহেব, টইটং মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ কামাল, স্থানীয় আ’লীগ সভাপতি ছরওয়ার কামাল চৌধুরী, আ’লীগ নেতা কবির আহমদ মেম্বার, আনোয়ারুল হক বদু, প্যানেল চেয়ারম্যান হাজী শাহাব উদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান ফরায়েজী, মনজুর আলমের ছেলে শিক্ষার্থী ক্বারী হাফেজ আয়ুব আলী প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানায়, সোনাইছড়ি ছড়ায় এ সেতু নির্মিত হলে পূর্ব টইটং এর বিপুল জনগোষ্টি উপকৃত হবে। বিশেষ করে মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাসহ আর্থ সামাজিক পরিবর্তন হবে এ সেতুর মাধ্যমে। ছড়ার দু’পাড়ে দুটি ওয়ার্ড। ৫ নং ও ৪ নং ওয়ার্ডে অন্তত ৮ হাজার মানুষের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এ সেতু। অপরদিকে মধুখালী ও ছনখোলার জুমের দু’পাড়ের জনগনের সেতুবন্ধন রচিত হবে।
ছনখোলার জুম, ঢালার মুখ, রমিজপাড়ার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হবে মধুখালীর সাথে। পূর্ব দিকের পাহাড়ী দুর্গম এলাকা সমুহ বনকানন, মৌলভী হাসানের জুম ও উত্তর টইটং,দক্ষিন টইটং এর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুগম হবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার হাজী শাহাব উদ্দিন জানায়, এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা তাকে কৃতজ্ঞা ও সাধুবাদ জানাই। সমাজে এমন ব্যক্তির প্রয়োজন। ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান ফরায়েজী জানায়, আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। সেতুটি এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সেতুবন্ধন রচনা করবে। মানুষ উদ্যোগ নিলে পারে সেটি মনজুর আলম প্রমাণ করেছেন।
মনজুর আলম জানায়, আমি মানুষের জন্য এ সেতু বাস্তবায়ন করছি। ৬০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৯ ফুট প্রশস্ত হবে সেতুটি। স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, আমি ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছি। তার ছেলেরা বিদেশে ইনকাম করছে। আসলে মনজুর আলম স্বপ্নদ্রষ্টা থেকে একজন সত্যিকার উদ্যোক্তা হিসেবে গণ্য হয়েছেন। আমরা টইটং বাসী তার এ মহৎ কর্মে ধন্য হয়েছি। সেতুটি চালু হলে মানুষের দৃরবস্থার অবসান ঘটবে।

Posted ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta