
নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৫ নভেম্বর) :: পেকুয়ায় দেনা শোধ করতে এবার নিজের মাথা গোজার ঠাইটুকু বিক্রির ঘোষনা দিলেন দরিদ্র ব্যক্তি। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শ্রেনীর তালিকায় দরিদ্র এ কৃষক। এক সময় সহায় সম্পত্তি ছিল।
সংসারে সক্ষমতা ফিরাতে কৃষক নিজের যা ছিল তা বিক্রি করে নি:স্বার্থবান হওয়ার পথে। ছেলে বড় হয়েছে। তবে সবাই অবাধ্য। সংসারের প্রতি নেই কারও দায়বদ্ধতা। মাতা-পিতা অক্ষম। শারীরিক অক্ষমতায় তাদের শরীর কর্মক্ষম।
এমতাবস্থায় ছুলায় আগুন না জ্বালার মত পরিস্থিতি। একবেলা আহার করলে আরেক বেলা যোগাড় করা দুষ্কর। এমনিতর মুহুর্তে দেনায় পড়েছেন ওই দরিদ্র ব্যক্তি। সংসার চালাতে সোসাল ডেভলপমেন্ট ফর আশা ব্যাংক থেকে কিস্তিতে লোন নিয়েছেন ৭০ হাজার টাকা। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়।
নাল যে টুকু জমি ছিল সেটি আগে বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে বিক্রিযোগ্য নাল জমি নেই। আছে শুধুমাত্র মাথাগোজার ঠাইটুকু। যেখানে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকেন সেটি একমাত্র মাথা গোজার নীড়। দেনা শোধ করতে বিক্রির ঘোষনা দিলেন এই নীড়টুকু।
উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মধ্যম উজানটিয়া ভেলুয়ারপাড়ায় বাড়ি বিক্রির এ ঘোষনা দিয়েছেন ওই এলাকার কৃষক নুরুল আলম। ৪৫ শতক জমির মালিক নুরুল আলম। উজানটিয়া মৌজায় ৬২৭ ও ১২৭৮ খতিয়ানে বাড়িভিটাসহ তার মোট জমি এ টুকু। বর্তমানে কিছু ভূমিদস্যু তার জমিটুকু কেড়ে নিতে তৎপর।
একদিকে দেনার যন্ত্রনা অন্যদিকে ভূমিগ্রাসী চক্রের বার বার হানা এ দুটি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। অর্থনৈতিক মন্দাভাব এর চেয়ে পেশীশক্তির তাকে বার বার নিগৃহীত করেছে। এমন নিদারুন যন্ত্রনায় তিনি ঘোষনা দিলেন নিজের মাথা গোজার ঠাইটুকু বিক্রি করে হবেন নি:স্বার্থবান।
জানা গেছে, ছমদ আলীর পুত্র আহমদ ও মোজাফ্ফরের পুত্র মোহাম্মদ হাবিব প্রতিনিয়ত তাকে উচ্ছেদ করতে হয়রানিসহ প্রাণনাশ চেষ্টাও করছে। জীবন বাচানো ও দেনা পরিশোধ এ দুটি ভাবনা নিয়ে দরিদ্র নুরুল আলম বাড়ি বিক্রির ঘোষনা দিলেন।

Posted ১:১৭ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৭
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta