
নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১ অক্টোবর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্টানে তালা দিল ছাত্রলীগ নেতা। ৬ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের নেতার মধ্যে তুমুল বাকবিতন্ডা ও বচসা হয়েছে।
এর সুত্র ধরে পেকুয়া দুবৃর্ত্তরা এ দোকানে ঢুকে পড়ে। তারা ব্যবসায়ীকে ব্যাপক মারধর করে।
এক পর্যায়ে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দোকানে মালামাল তছনছসহ ওই প্রতিষ্টানের ক্যাশ থেকে ২ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারে এ সময় শত শত লোকজন জড়ো হয়। স্থানীয়রা ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ও পেকুয়া বাজার বণিক সমিতির নেতারা দ্রুত ওই স্থানে যায়। এ সময় হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
পেকুয়া কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের আমির হোসেনের মালিকানাধীন দোকানে (৩০ সেপ্টেম্বর) রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় বাজারে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দিবালোকে ওই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। পুলিশ উত্তেজনা প্রশমিত করে বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনে।
সংক্ষিপ্ত সময়ে পেকুয়া-মগনামা সড়কের বাজার পয়েন্টে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। এ দিকে একই দিন গভীর রাতে দ্বিতীয় দফা ওই দোকানে হানা দেয় ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে একই দুবৃর্ত্তরা। এ সময় তারা এ প্রতিষ্টানের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তারা চাঁদা দাবী ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয় এড়িয়ে যান।
সভাপতি আক্তার আহমদ জানায়, বিরোধ দোকানের মালিকানা নিয়ে। কাগজপত্র পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হামলার খবর পেয়ে আমরা ছুটে গিয়েছিলাম। তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এ তালা আসলে তারা কি রাখতে পারবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় এদিন সকালে হঠাৎ পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন ব্যক্তি ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী আমির হোসেনের দোকানে হানা দেয়। এ সময় তারা দোকানে ঢুকে আমির হোসেনকে লাথি,ঘুষি মেরে লাঞ্চিত করে। মালামাল তছনছ করে। আমির হোসেন জানায় প্রতিদিনের মত দোকান খুলি। আমি চেয়ারে বসা ছিলাম।
ছাত্রলীগ নেতা সহ কয়েকজন এসে মারধর শুরু করে। ক্যাশ থেকে নগদ ২লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। দু’জন শো’কেসের উপর দিয়ে দোকানে ঢুকে পড়ে। সম্প্রতি আমার দোকান জবর দখলের চেষ্টা করছে। আমার কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেয়ায় আমার দোকানে হামলা ও লুটপাট চালায়। গভীর রাতে এসে তারা আমার দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়।
তিনি জানান, পেকুয়া বাজার সৃষ্টি লগ্নে দু’একজন ব্যবসায়ীর মধ্যে আমার বাবা একজন। আমার বাবার খরিদা সম্পত্তি। সবাই পুতুন সওদাগর হিসেবে চিনে।
প্রত্যক্ষদর্শী আলমগীর,আবু তাহের,ফজল করিম জানায় ৩-৪ জন লোক দোকানে এসে আমির হোসেনকে মারধর শুরু করে। আমরা দোকানে বসে গল্প করছিলাম। আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। নগদ টাকা লুট করেছে। মালামাল তছনছ করেছে। পুলিশ এসে তাদের দোকান থেকে বের করে দিয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক জানায় ওই দোকানের মালিক আনেয়ার হোসেন। আনোয়ার, গিয়াস উদ্দিন গংকে বিক্রি করে দিয়েছে। আনোয়ারের ছোট ভাই আমির হোসেন আনোয়ারকে বেদখল করে দিয়েছে।
গোপনে পিছনের একটি দেয়াল ভেঙ্গে দোকান সম্প্রাসরন করার পাঁয়তারা করছে। মারধর কিংবা টাকা লুট করা হয়নি। পুলিশ ও লোকজন ছিল এ সময়। তারাতো সব দেখেছে।

Posted ১:২০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০২ অক্টোবর ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta