
নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৫ সেপ্টেম্বর) :: পেকুয়ায় বৃক্ষ রোপন করে রাস্তা দখলে নিল দুবৃর্ত্তরা। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থানে যায়। চলাচল রাস্তা জবরদখল ঠেকাতে পুলিশ মুলত ওই স্থানে পৌছে।
রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এর জের ধরে ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ শত বছরের চলাচল পথ নিয়ে মুলত বিরোধ তৈরী হয়। পুলিশ ওই স্থানে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমিত করার প্রচেষ্টা চালায়।
তবে স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, চলাচল পথে বৃক্ষ রোপন থেকে বিরত থাকতে ওই পক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানায় পুলিশ।
প্রাপ্ত সুত্র জানায়,টইটং ইউনিয়নের ধনিয়াকাটা পূর্বপাড়ায় একটি চলাচল রাস্তা নিয়ে স্থানীয় মৃত কেরামত আলীর ছেলে হাজী আক্তার আহমদ গং ও মৃত মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন, জমির হোসাইন, আজিজ, মোহাম্মদ হাসান ও আবুল কাসেম গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
টইটং ইউনিয়ন পরিষদ গ্রাম আদালতে মামলা রুজু হয়েছে। আক্তার আহমদ গং মোহাম্মদ হোসাইন গংদের বিবাদী করে এ অভিযোগ হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী তিন দফা ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন।
অপরদিকে মোহাম্মদ হোসেন গং গ্রাম আদালতের মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখতে কক্সবাজার জজ আদালতে মামলা রুজু করে। বিচারিক আদালত গ্রাম আদালতের মামলার কার্যক্রম স্থগিতসহ এর নথি তলব করে। অপরদিকে হাজি আক্তার আহমদ গং একই বিষয়ে পেকুয়ার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নালিশি অভিযোগ পৌছায়। এ আদালতের হাকিম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেটি আমলে নেয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি নিস্পত্তি করতে অনুরোধ ক্রমে নির্দেশনা দেয়। আক্তার আহমদ গং ও মোহাম্মদ হোসন গংদের মধ্যে চলাচল এ পথটিকে ঘিরে দ্বন্দের প্রকট আকার ধারন করে। গ্রামবাসীরা জানায়, এ পথটি দীর্ঘ শত বছর ধরে আছে।
মানুষের বসতি সৃষ্টির সময় এ পথ স্থিত। ধনিয়াকাটার বিপুল মানুষ এ পথ দিয়ে যাতায়াত করে। প্রধান সড়ক ও ফসলী জমির বিলের সাথে এ পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। শাহ আলমের বাড়ির উত্তর দিক থেকে এ পথটি প্রায় ৪ চেইন বিস্তৃত।
মোহাম্মদ হোসেন গংদের বসতবাড়ির সীমানার উত্তর অংশ গিয়ে এ পথটি মিশে যায়। নাপিতার জুম নামক স্থানে ফসলি জমির সাথে এ সড়কের সাথে যোগসুত্র তৈরী।
প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি পরিবারের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ পথ। মোহাম্মদ হোসন গং গত কয়েক মাস ধরে এ পথ আটকিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছিলেন। এ নিয়ে মোহাম্মদ হোসাইন গং এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ওই দিন সকালে চলাচল পথ রুদ্ধ করে তারা এ পথে বৃক্ষের চারা রোপন করছিলেন।
এ সময় হাজী আক্তার আহমদ গং বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে উত্তেজনা প্রশমিত করতে সন্ধ্যার দিকে পুলিশ ওই স্থানে পৌছে। অপরদিকে মোহাম্মদ হোসাইন গং জানায়, এ চলাচল পথটি তাদের ব্যক্তিগত।
হাজি আক্তার আহমদ গং এ পথ দিয়ে যাতায়াত করেন না। নিচে যে সব ফসলী জমি আছে সে গুলি মোহাম্মদ হোসাইন গংদের। এটি জনগনের চলাচলের পথ নয়। পথ ছিল একটু পূর্ব পাশের্^। যেটি বর্তমানে হাজী আক্তার আহমদ গং আটকিয়ে দিয়েছে। এর আগে বিচার হয়েছিল।
মেম্বারসহ স্থানীয়রা পথটির আসল ক্লু বের করেছে। হাজী আক্তার গং এ ভাবে মানুষের জায়গা দখলে নেয়। তারা আমাদের বসতভিটার বিপুল জায়গা দখলে নিয়েছে। আমরা বিদেশে ছিলাম। এ সুবাধে তারা সীমানার অংশের এ জায়গা দখলে নিয়েছে। সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল আবছার জানায়, তারা দু’পক্ষই আমার নিকট আত্মীয়।
পথটি একটু পূর্বদিকে ছিল। হাজী আক্তার আহমদ ওই পথটি আটকিয়ে দিয়েছে। দু’পক্ষ নমনীয় হলে সহজভাবে সমাধানযোগ্য এ বিষয়টি। টিলার নীচে ফসলী জমি। এটি দু’তিনটি পরিবারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।
ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, আমি গিয়েছিলাম। পথটি উম্মুক্ত রাখতে মাঝখানের জায়গা ভাগাভাগি করে দু’পক্ষকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। ভাগের তাল গাছ কেউ ছাড়তে চায় না। এখানে কিভাবে নিস্পত্তি হবে।

Posted ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta