
নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৭ ডিসেম্বর) :: পেকুয়ায় এবার ১০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি মামলার আসামী মাছ শিকারী। গত ২০১৬ সালের ২ জুন চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১০ লাখ টাকার চাঁদা দাবীর এ নালিশি অভিযোগ দায়ের করা হয়। উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কুমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পেকুয়া সমবায় কর্মকর্তা বরাবরে এর দায়িত্বভার ন্যস্ত করা হয়েছে। সমবায় কর্মকর্তা ওসমান গণি তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানায়,আদালতের আদিষ্ট হয়ে এ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত চলছে। উভয়পক্ষকে সমন দেয়া হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বাদী ও বিবাদীপক্ষের স্বীকারোক্তি নিয়েছি। খুব দ্রুত সময়ে আদালতে প্রতিবেদন প্রেরন করা হবে।
মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙ্গার ইঞ্জিনিয়ার তোফাজ্জল আহমদের ছেলে প্রবাসী ওবাইদুর রহমান জিসান নালিশি অভিযোগ দায়ের করেন আদালতে। কুমপাড়ার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে সোলেমান ও তার জামাতা বাবুল সহ ২ জনকে আসামী করা হয়।
সুত্র জানায়, ১০ একর একটি চিংড়ি ঘের নিয়ে জিসান ও সোলেমানের বিরোধ। গত ২ বছর ধরে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। সোলেমানকে উচ্ছেদ করতে জিসান ভাড়াটে লোকজন জড়ো করে। গত ২ বছর আগে জিসান ভীতি ও আতংক ছড়াতে ফাঁকা গুলি ছুড়ছিল।
সোলেমান ৫ একর ২০ শতক জমি আগাম নিয়ে বর্ষা মৌসুমে চিংড়ি চাষ ও শুষ্ক মৌসুমে একই জমিতে লবণ উৎপাদন করে। সদর ইউনিয়নের প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম ১০ কানি জমি সোলেমানকে ১২ বছর ধরে লাগিয়ত করে। অপরদিকে একই ঘেরে মটকাভাঙ্গার দিদারুল ইসলামের ২ একর জমি আছে। ১ একর জমি বন্ধক নেন হাসান।
এ জমি জিসানকে লাগিয়ত করে ওই ব্যক্তি। জিসান ৩য় পক্ষকে লাগিয়ত করে বিদেশ পাড়ি দেন। সোলেমান ও জিসানের মধ্যে বিরোধ হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে বৈঠক হয়।
জিসান এ সব উপেক্ষা করে মামলা ও মোকদ্দমা দিয়ে সোলেমানকে হয়রানি করে থাকে। মামলার স্বাক্ষীসহ কয়েকজন জিসানের মুল শক্তি। সোলেমান একজন মৎস্য শিকারী। রুপাইখালের চরে সরকারী জায়গায় ছিন্নমুল হিসেবে বাস করে। তিনি উৎপাদন ও পরিশ্রম করে সংসার চালায়।
বিগত ২০০২ সাল থেকে জিসান তাকে হয়রানি করছে। জিসান ২০০১ সালে নির্বাচনে মটকাভাঙ্গা সেন্টারে সোলেমানের সাথে হাতাহাতি করে। সে সময় থেকে তাদের মধ্যে দ্বন্দের সুত্রপাত হয়। জিসান ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। পরবর্তীতে যুবদলে সম্পৃক্ত ছিল। অপরদিকে সোলেমান আ’লীগ করেন।
তিনি দিনমজুর করে জীবিকা আহরন করেন। জিসান প্রবাসী। কোটি টাকার মালিক। সোলেমানকে জমি থেকে বিতাড়িত করতে মামলার ছড়াছাড়ি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান।
সোলেমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানায়, জিসান অত্যাচারী। গত কয়েক বছর ধরে আমার স্বামীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হয়রানি করছে। চাঁদা দাবী করা হয়নি। এ সব মিথ্যা। আমার স্বামী কোন অপরাধ করে নি।

Posted ৭:৫৭ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta