মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পৌরসভা নির্বাচনেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ : তারপর?

শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১
278 ভিউ
পৌরসভা নির্বাচনেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ : তারপর?

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ জানুয়ারি) :: জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ আধিপত্য এবং বিরোধী দল নেই বললেই চলে। জাতীয় পার্টি যে বিরোধীয় দল হিসেবে আছে সেটাও মহাজোটের সঙ্গী। এখন স্থানীয় সরকারগুলোতেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। নির্বাচন যেভাবেই হোক শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারে আওয়ামী লীগ এই যাবত কালে সবচেয়ে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

প্রথম দফা পৌরসভা নির্বাচনে যেমন আওয়ামী লীগের জয়জয়কার ছিল দ্বিতীয় দফা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের বিজয় লক্ষ করা যাচ্ছে। এর ফলে রাজনীতিতে যে প্রতিপক্ষ এবং শক্তিশালী বিরোধী দলের সংস্কৃতি, যেটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য সেটা প্রায় লোপ পেতে বসেছে।

এখন বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো শুধুমাত্র ড্রইং রুম এবং প্রেসক্লাব কেন্দ্রিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিএনপি নিজেদের ঘর গোছাতেই ব্যস্ত এবং বিএনপির মধ্যে নানারকম অন্তঃকলহ, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি ক্রমশ প্রকট হয়ে গেছে। প্রথম দফা পৌরসভা নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফা পৌরসভা নির্বাচনে একটি বিষয় সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে নির্বাচনের ইশতেহার মতো লোকবলও বিএনপির এখন নেই। অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি তার নির্বাচনী এজেন্ট দিতে পারেনি এবং প্রচার প্রচারণাতেও ছিল দায়সারা ভাব।

আপাতদৃষ্টিতে এটা আওয়ামী লীগের জন্য একটা স্বস্তির কারণ হতে পারে কিন্তু রাজনীতির দীর্ঘ পরিসরের জন্য এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি গণতন্ত্রের জন্য কখনোই শুভ নয়। কারণ একটা গণতান্ত্রিক সরকারী দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, সরকারী-বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা থাকবে যা রাজনীতির সৌন্দর্য এবং গণতন্ত্র এরই মাধ্যমে বিকশিত হয়।

কিন্তু বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর চরম ব্যর্থতা এবং শাসক দলের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা, এই দুইয়ের মাঝখানে যেটা হচ্ছে সেটা হলো বিরাজনীতিকরণের অনুপ্রবেশ ঘটছে। এখন বিরোধী দল না থাকার ফলে সরকার অনেকটাই আমলা নির্ভর হয়ে পড়ছে এবং আমলারাই অনেক জায়গায় কর্তৃত্ব করছে।

স্থানীয় সরকারের কথা যদি ধরা যায় তাহলে দেখা যাবে যে উপজেলায় চেয়ারম্যান আছে কিন্তু উপজেলায় কর্তৃত্ব করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। একইভাবে জেলাগুলোতে এমপিদের চেয়ে জেলা প্রশাসকের ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী। এরকম বাস্তবতায় একটি দল যখন নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে তখন সেটি গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর কিনা এবং এর ফলে বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া বিকশিত হয় কিনা সেই প্রশ্ন এসেছে। পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই অভাবনীয় বিজয় গণতন্ত্রের জন্য লাভ হয়েছে না ক্ষতি হয়েছে সেটি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা ধারণা হয়েছে যে নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেলেই বিজয় অনিবার্য। কাজেই নৌকা প্রতীকের জন্য হুড়োহুড়ি পড়ছে এবং দেখা যাচ্ছে যে রেকর্ড পরিমাণ প্রার্থী নির্বাচনে আগ্রহী হচ্ছে। পাশাপাশি লক্ষণীয় বিষয় হলো স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিএনপির নেতাদের মাধ্যমে নৌকার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একটি অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ফলে বেশকিছু এলাকায় এখন আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ।

এটা আওয়ামী লীগের জন্য এখন নেতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকেও একথা বলতে হয়েছে যে নৌকার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিবে তাদেরকে ভবিষ্যতে নৌকা দেয়া হবে না।

প্রতিটি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হয়তো বিপুল বিজয় অর্জন করবে কিন্তু আওয়ামী লীগের যে বিভক্তি তা স্পষ্ট হবে। আর শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে সরকারের যে দলীয় সমন্বয় সেটিও নষ্ট হবে। কাজেই বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা এবং রাজনীতিকে বিকশিত করার চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। কারণ এখন আওয়ামী লীগ দেশের অবিসংবাদিতভাবে প্রধান দল।

প্রধান দল হিসেবে গণতন্ত্র সুরক্ষা, সুশাসন এবং রাজনীতিতে যে বিরোধী দলের মর্যাদা সেটিও শক্তিশালী করতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বিরোধী দলে একজনও যদি থাকে এবং তার কথা যদি যৌক্তিক হয় সেটা মেনে নিব আমি। সেই সংস্কৃতিকে আওয়ামী লীগের মধ্যে জাগরিত করতে হবে। সেটি কি আওয়ামী লীগ পারবে?

পৌরসভার নির্বাচন: আওয়ামী লীগের জয়জয়কার

(১৬ জানুয়ারি) এক যোগে বাংলাদেশের ৬০ টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে ৩২ টি, বিএনপি ৪ টি এবং অন্যান্য ৬ টি পৌরসভায়।

যারা নির্বাচিত হয়েছেন:

নোয়াখালি: নোয়াখালির বসুরহাটে আব্দুল কাদের মির্জা (নৌকা)।

ফেনী: ফেনীর দাগনভূঞা ওমর ফারুক খান (নৌকা)।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকূপায় কাজী আশরাফুল আজম (নৌকা)।

কুমিল্লা: কুমিল্লায় চান্দিনায় শওকত হোসেন ভুইয়া (নৌকা)।

গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুরে আনিছুর রহমান (নৌকা)।

বগুড়া: বগুড়ার সারিয়াকান্দি মতিউর রহমান মতি (নৌকা), বগুড়ার সান্তাহারে তোফাজ্জেল হোসেন ভূট্টো (ধানের শীষ), বগুড়ার শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জানে আলম খোকা (জগ)।

মেহেরপুর: মেহেরপুরে গাংনি আহমেদ আলী (নৌকা)।

বাগেরহাট: বাগেরহাটের মোংলায় শেখ আব্দুর রহমান (নৌকা)।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার সদরে আনোয়ার আলী (নৌকা), কুষ্টিয়ার মিরপুরে এনামুল হক (নৌকা), কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শামসুজ্জামান অরুণ (নৌকা), কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আনোয়ারুল কবীর টুটুল (মশাল),

মাগুরা: মাগুরা সদরে খুরশিদ হায়দার টুটুল (নৌকা)।

নওগাঁ: নওগাঁর নজিপুরে রেজাউল কবীর চৌধুরী (নৌকা)।

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের তারাবোতে হাসিনা গাজী (নৌকা)।

নরসিংদী: নরসিংদীর মনোহরদীতে আমিনুর রশীদ সুজন (নৌকা)।

দিনাজপুর: দিনাজপুরের বীরগঞ্জে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ হোসেন বাবুল (মোবাইল), দিনাজপুরের বিরামপুরে আক্কাস আলী, দিনাজপুরের সদরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ)।

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের সদরে নাদের বখত (নৌকা), সুনামগঞ্জের ছাতকে আবুল কালাম চৌধুরী (নৌকা), সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার হোসেন।

নাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুরে শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা (নৌকা), নাটোরের নলডাঙ্গায় মনিরুজ্জামান মনির (নৌকা), নাটোরের গোপালপুর রোকসানা মোর্তাজা লিলি (নৌকা)।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিল্লাল সরকার (নৌকা), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় গোলাম কিবরিয়া (নৌকা)।

হবীগঞ্জ: হবীগঞ্জের মাধবপুরে হাবিবুর রহমান (ধানের শীষ), হবীগঞ্জের নবীগঞ্জে ছাবির আহমেদ চৌধুরী (ধানের শীষ)।

মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ (নৌকা), মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ জুয়েল আহমদ (নৌকা)।

রাজশাহী: রাজশাহীর আড়ানীতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার হোসেন, রাজশাহীর কাকনহাটে একেএম আতাউর রহমান খান(নৌকা), রাজশাহীর ভবানীগঞ্জে আব্দুল মালেক মন্ডল (নৌকা)।

খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি সদরে নির্মলেন্দু চৌধুরী (নৌকা)।

কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সৈয়দ হাসান সারওয়ার মহসীন।

278 ভিউ

Posted ১০:০১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com