শনিবার ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

প্রতারক বহুরুপী সাহেদ কোথায় ?

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০
91 ভিউ
প্রতারক বহুরুপী সাহেদ কোথায় ?

কক্সবাংলা ডটকম(১১ জুলাই) :: আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গত ২ দিনেও প্রতারক সাহেদকে ধরতে পারেনি। প্রতারক সাহেদের বিরুদ্ধে গত ৬ জুলাই রাতে অভিযান পরিচালনা করে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা র‍্যাব। প্রতারণা করে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার কারণে তাঁর মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করা হয়েছে, তাঁর অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার তাঁর ব্যাংক একাউন্টও জব্দ করা হয়েছে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বলছে যে, তাঁর দেশত্যাগের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩ দিনেও সাহেদকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সাহেদ কোথায় আছে এই নিয়ে নানারকম প্রশ্ন এবং সমীকরণ চলছে। অবশ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, সাহেদকে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা তাঁরা করে যাচ্ছেন এবং যেকোন সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

জানা গেছে যে, সাহেদ সর্বশেষ হাসপাতালে অভিযানের রাতে ফোন করেছিলেন তাঁর স্ত্রীকে এবং সেসময় তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেছেন যে, রাতে ফিরবো না, যেখানে আছি সেইফ আছি। ৬ জুলাই রাতে যখন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখায় অভিযান চালানো হয় সেইসময় সাহেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে টেলিফোন করেছিলেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন যে এই ব্যাপারে তাঁর কোন করণীয় নেই। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং মূলধারার গণমাধ্যমে সাহেদের বেশকিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে যে, সাহেদ অনেক হোমরাচোমরা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা করতেন এবং তাঁদের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, প্রতারকরা এই সমস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে অন্যদেরকে প্রভাবিত করেন এবং প্রভাবশালীরা বড় কোন অনুষ্ঠানে এরকম কোন ছবি তুলতে অনুরোধ করলে না করেন না। সাহেদও প্রতারণার জাল বিস্তীর্ণ করার জন্য তাঁদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, তাঁদের ব্যবহার করেছেন।

আসলে কারো পক্ষেই জানা সম্ভব নয় যে কে দুর্বৃত্ত, কে প্রতারক। বিশেষ করে বঙ্গভবনের বড় অনুষ্ঠানে সাহেদ আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং সেখানে একজন নেতা বা একজন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা কিভাবে বুঝবেন যে, এই ব্যক্তি একজন প্রতারক। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারাও অবাক হয়েছেন যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তাঁকে একজন প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং এই প্রতারক থেকে সাবধান থাকার অনুরোধ করেছিল। সেই প্রতারক কিভাবে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াল তাও এক বড় প্রশ্ন। তবে এইসব প্রশ্ন ছাপিয়ে সবথেকে বড় প্রশ্ন হচ্ছে সাহেদ এখন কোথায়? যেখানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অতিদ্রুততার সঙ্গে দুর্ধর্ষ অপরাধীদের প্রেপ্তার করে। আওয়ামী লীগের মধ্যে যেসকল দুর্বৃত্ত ছিল ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মতো অপরাধীদের চোখের নিমেষে গ্রেপ্তার করে ফেলে সেখানে সাহেদকে গ্রেপ্তারে এত বিলম্ব কেন সেই প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণ মানুষ মনে করছে যে, সাহেদকে গ্রেপ্তারে যত বিলম্ব হবে, তত প্রশ্নের জন্ম নিবে। এজন্য দ্রত সাহেদকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপর অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে এবং বিগত ১ দশকে আমাদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা অনেক দক্ষতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে আমরা দেখেছি যে, সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গীবাদের সঙ্গে যারা জড়িত তাঁদের প্রস্তুতি গ্রহণকালেই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা গ্রেপ্তার করে, যেখানে তাঁরা অনেক পরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ। সেখানে সাহেদের মতো একজন প্রতারককে গ্রেপ্তারে কেন বিলম্ব হচ্ছে সেটাও এক বড় প্রশ্ন।

বিভিন্ন সূত্র থেকে মনে করা হচ্ছে যে, সাহেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর যোগাযোগ রয়েছে এবং সেই যোগাযোগের সূত্র ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া চলছে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে যে, সাহেদ যেন কোনভাবেই দেশত্যাগ করতে না পারে, পালিয়ে যেতে না পারে। সাহেদকে যদি গ্রেপ্তার না করা হয় তাহলে এটা জনগণের মধ্যে একটি অস্বস্তি এবং হতাশা তৈরি করবে। আমরা আশা করি যে, প্রতারক সাহেদ যেখানেই থাকুক তাঁকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুতই গ্রেপ্তার করবে।

তাঁর অনেক পরিচয়

তাঁর অনেক পরিচয়। কখনো অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা। কোথাও ক্যাডেট পাস করা সেনা পরিবারের সদস্য। কোথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস (সহকারী একান্ত সচিব)। কোথাও তিনি সচিব। কোথাও গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ। আবার অনেকের কাছে তিনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। কখনো তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। গত কয়েক বছর ধরে এমন নানা পরিচয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পরিচয়ের মতোই নামেও রয়েছে তাঁর বৈচিত্র্য।

জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর নাম সাহেদ করিম থাকলেও কারাগার থেকে বেরিয়েই হয়ে যান মো. সাহেদ। আগে কারো কাছে তিনি ছিলেন মেজর ইফতেখার করিম। কারো কাছে পরিচয় দেন লে. কর্নেল মুহাম্মদ শহীদ নামে। এমন একাধিক নাম ও পরিচয়ের আড়ালে ‘সুশীল সমাজের’ মানুষ বনে যাওয়া এই প্রতারক মো. সাহেদই আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান।

রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানে ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সাহেদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্য। তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩২টি মামলা হয়েছে। কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) এবং ‘বিডিএস ক্লিক ওয়ান’ নামে এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) কম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় মামলা হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটেন সাহেদ।

জেল থেকে বেরিয়ে হাতিয়ে নেওয়া টাকায় রিজেন্ট গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে পাল্টে যান তিনি। নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মিশনে নামেন তিনি। বিভিন্ন পরিচয়ে ধামাচাপা দেন অনেক অভিযোগ। আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা খুলে এবং কয়েকটি টিভির টক শোতে অংশ নিয়ে নিজেকে বড় সাংবাদিক বলে পরিচয়ও দিতে থাকেন।

গত দুই দিন ধরে র‌্যাবের অভিযান চলাকালে রিজেন্ট হাসপাতাল ভবনের মালিক জাহানারা কবির অভিযোগ করেন, চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ভবনের ভাড়াও দিচ্ছে না, চুক্তি নবায়ন করছে না রিজেন্ট। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে হুমকি দেওয়া হতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নামে। ভয়ে কাউকে কিছু বলতেও সাহস পাচ্ছিলেন না তিনি।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিপ্তরের স্টিকার লাগানো ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো।’

তদন্তকারীরা বলছেন, এভাবে ভুয়া পরিচয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক করে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক দলের নেতার পরিচয়ে সাহেদ অনেক অপকর্ম ধামাচাপা দিয়েছেন। করোনার সময় মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সরকার ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তাঁর রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কয়েক বছর আগে মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

এ মামলায় যখন তদন্তকারীরা তাঁকে খুজে পাচ্ছিলেন না বলে জানান, তখন পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাহেদকে দেখেন এ প্রতিবেদকসহ জাতীয় দৈনিকের দুজন অপরাধ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। ওই সময় পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় সংবাদ পরিবেশন করা না গেলেও খোঁজ নিয়ে সাহেদের কিছু অপকর্মের প্রাথমিক তথ্য মেলে। সাহেদের বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার তদন্তের পাঁচটি নথি এসেছে।

কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিএনপির আমলে হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ সাহেদ ভোল পাল্টে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের কাছাকাছি চলে গেয়েছিলেন। অনেক অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের অনেক অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায়। কয়েক বছর ধরে তিনি একটি অপ্রচলিত সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদক হয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে টিভি টক শোতে অংশ নিতে শুরু করেন।

নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখার উপসচিব নায়েব আলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভুয়া সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এতে মোহাম্মদ শহীদ নামে ব্যক্তিকে ‘ভয়ংকর প্রতারক’ বলে উল্লেখ করা হয়।

সাতক্ষীরার সিরাজুল বরিমের ছেলে সাহেদ নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও কয়েক বছরেই হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে ধানমণ্ডি থানায় দুটি, বরিশালে একটি, উত্তরা থানায় আটটিসহ রাজধানীতে ৩২টি মামলা রয়েছে। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে প্রতারণার মামলায় তাঁকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়। তখন কয়েক মাস জেলে ছিলেন তিনি। মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড থেকে ছয় কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার নথিতে নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল মুহাম্মদ শহীদ বলে পরিচয় দেন তিনি। এ বিষয়ে আদালতে দুটি মামলা চলছে এখনো। তদন্ত করে তাঁর ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্টরা।

২০১১ সালে ‘বিডিএস ক্লিক ওয়ান’ নামে অনলাইনে স্কাইল্যান্সারের মাধ্যমে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার সময় গ্রাহকরা তাঁকে মেজর ইফতেখার করিম নামে চিনত। ‘বিডিএস কুরিয়ার সার্ভিসে’ চাকরির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছে।

তদন্তের সূত্রে জানা যায়, আগে তাঁর নাম ছিল সাহেদ করিম। রিজেন্ট গ্রুপ প্রতিষ্ঠার পর মো. সাহেদ হয়ে যায়। মিডিয়ায় তাঁকে সবাই মো. সাহেদ নামেই চেনে। বিএনপির নেতা পরিচয়ে ২০০৭ সালে রিজেন্ট হাসপাতালের অনুমোদন নেন সাহেদ। হাওয়া ভবনে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। কয়েক বছর ধরে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। অনেক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সম্পর্ক হয় তাঁর। তিনি এখন আওয়ামী লীগের সদস্য।

শাহেদের সুন্দরী রক্ষিতা লিজা, সাদিয়া ও হিরা মণি

শাহেদের সুন্দরী রক্ষিতা লিজা, সাদিয়া ও হিরা মণি
রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এক জীবনে কোনো ব্যক্তি এত প্রতারণা করতে পারে তা অবিশ্বাস্য! বহুরূপী শাহেদ তার সাম্রাজ্য শাসনে ব্যবহার করেছেন সুন্দরী নারীদেরও।

শাহেদের রক্ষিতা হিসেবে কাজ করে এমন পাঁচজন সুন্দরী নারীর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে তিনটি নাম ঘুরে ফিরে উঠে আসছে। তারা হলেন- তরুণী লিজা, সাদিয়া ও হিরা মণি।

শনিবার (১১ জুলাই) দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতারণায় শাহেদ করিম সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহার করত। শাহেদ তরুণীদের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে কাজ বাগিয়ে নিত। অনেক সময় সরবরাহকারীদের দিয়ে কাজ করিয়ে বিল দিতেন না।

লিজা, সাদিয়া ও হিরা মণির মতো অন্তত চার-পাঁচ তরুণী শাহেদের হয়ে কাজ করত। এমন অভিযোগের বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আমরাও পেয়েছি।

এদিকে, শাহেদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অফিস দখলে রাখা, আর মাসের পর মাস ভাড়া বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে রিজেন্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে। মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে এখনো অর্ধকোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি ভবন মালিকের। আর উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের ভাড়া বকেয়া রয়েছে ৮ মাসের।

উত্তরা শাখা সিলগালা করে দেয়ার পর রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর শাখাও এখন বন্ধ। হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় ঝুলছে তালা। চলে গেছেন রোগীরা। শাখার প্রধান নির্বাহী রাশেদসহ অন্য কর্মকর্তারাও হাসপাতাল থেকে লাপাত্তা।

এদিকে, উত্তরায় রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে নাম ভাঙান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের। নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হিসেবে পরিচয় দেন মোহাম্মদ শাহেদ, এমন অভিযোগ ভবন মালিকের।

জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দখলে রেখেছে রিজেন্ট গ্রুপ। বকেয়া রয়েছে ৮ মাসের ভাড়া। টাকা চাইলে দেয়া হতো হুমকি।

বাড়ির মালিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছেন। এবং উনি যখন আসে তখন সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন থাকে।

সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন করোনা টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদের বাবা সিরাজুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তবে বাবার মরদেহ নিতে যাননি শাহেদ কিংবা পরিবারের কেউ।

ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ৪ জুলাই সিরাজুল ইসলামকে আমাদের এখানে ভর্তি করান শাহেদ। তখন আমাদের বলা হয়েছিল তার করোনা নেগেটিভ। কিন্তু লক্ষণ থাকায় আমরা পরীক্ষা করে পজিটিভ পাই। শাহেদের বাবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। তার নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতা ছিল।

ডা. আশীষ কুমার আরও বলেন, শাহেদকে আমি বলেছিলাম, যেহেতু আপনার হাসপাতাল কোভিড ডেডিকেটেড, তাই রিজেন্টে নিয়ে যান। তখন তিনি তার হাসপাতালে কোনও সার্ভিস না থাকার কথা জানান।

এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহেদের স্ত্রীর ফোন নম্বরে মারা যাওয়ার খবর জানান। পরে দুজন ব্যক্তি এসে মৃতদেহ নিয়ে যান। দুজনের কেউই তাদের পরিবারের সদস্য নন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহেদ বা তার প্রতিষ্ঠানের কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে। সমস্যা এড়াতে তারা জিডি করেছে।

এ বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা শুরুতে ভুয়া টেস্টের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু এখন দিন যতই যাচ্ছে দেখছি অসংখ্য জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল শাহেদ। যাদের সঙ্গে তার ব্যবসা ছিল, তাদের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে। অভিযানের পর অসংখ্য মানুষ আমাকে কল করে তার প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরছে। পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তার থেকে পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে সাপ্লাই দিয়ে আর টাকা দেয়নি। সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে একজন কল করে জানিয়েছে, তার থেকে বালু এনে সাপ্লাই দিয়ে সে টাকা আর পরিশোধ করেনি। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলির কথা বলে কোটি কোটি টাকা সে হাতিয়ে নিয়েছে। অবাক করা বিষয় হল পুলিশের এসপি পদমর্যাদার একটি বদলির জন্যও সে প্রতারণা করেছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা সাধারণত এ ধরনের অভিযান পরিচালনার আগে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে গোয়েন্দা তদন্ত করি। এই অভিযানের আগেও আমরা টানা চার-পাঁচদিন তদন্ত করেছি। আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল, হাসপাতালটিতে পিসিআর মেশিন না থাকার পরেও টেস্ট করে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। বিনিময়ে নেয়া হচ্ছে টাকা। এরপর কিছু ভুয়া পরীক্ষার প্রমাণ আমরা পাই। কিছু সার্টিফিকেট আমাদের হাতে আসে সেগুলো আইইডিসিআরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সেখানে এসব রিপোর্টের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। মূলত এ দু’টি অভিযোগ নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলেও পরে তার প্রতারণা দেখে বিস্মিত হই।

91 ভিউ

Posted ৩:১০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com