
কক্সবাংলা ডটকম :: ফাইনালের আগে ভারতকে সাইলেন্ট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক লরা উলভার্ট। কিন্তু গর্জনই সার। তাঁদেরকেই সাইলেন্ট করে দিলেন দীপ্তি শর্মারা। হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিশ্বকাপ জিতল ভারতের মহিলা দল।
যত ক্ষণ লরা উলভার্ট ক্রিজ়ে ছিলেন, তত ক্ষণ স্বস্তি পাচ্ছিলেন না হরমনপ্রীত কৌর। সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও শতরান করলেন উলভার্ট। কিন্তু দলকে জেতাতে পারলেন না তিনি। অবশেষে তৃতীয় বারের চেষ্টায় শাপমুক্তি ভারতের। ঘরের মাঠে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল তারা।
ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারাল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রান করেন। জবাবে ৪৫.৩ ওভারে ২৪৬ রানে অল আউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
বলা হয় চেষ্টা করলে সাফল্য আসে। ২০০৫, ২০১৭ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে গিয়ে হারতে হয়েছিল ভারতের মেয়েদের। মোট ১১টা বিশ্বকাপ খেললেও একটাও জেতা হয়নি। বড় মঞ্চে গিয়ে নার্ভ হারিয়ে ফেলা বা চাপের মুখে পড়ে ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটছিল। এ বার সেটা কাটল।
নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিশ্বকাপ জিতলেন ভারতের মেয়েরা। প্রায় হারতে বসা ম্যাচ বের করে আনলেন দীপ্তি শর্মা। একাই নিলেন চার উইকেট।
২০২৩ সালে পারেননি ভারতের ছেলেরা। ঘরের মাঠে অপরাজিত থেকে ফাইনালে প্রবেশ করেও হারতে হয়েছিল। আমেদাবাদ স্টেডিয়ামকে চুপ করানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে চুপ করিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। একই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ট। কামিন্স করলেও লরাকে সেটা করতে দিলেন না হরমনপ্রীতরা। প্রায় হারতে বলা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল ভারত।

ঠিক ২০২৩ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। যেখানে একটা সময়ে মনে হয়েছিল ম্যাচটা প্রোটিয়াদের। সেখানেই সূর্যকুমার যাদবের বিশ্বমানে ক্যাচ, আর ম্য়াচ জেতে ভারত। এ বারও একই ছবি, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রায় জেতা ম্যাচ দুর্দান্ত ক্যাচে ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দিলেন আমনজোৎ কৌর।
ভারত প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে তোলে ২৯৮ রান। এই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৩৯ রান করে জিতেছিল ভারত। আর ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামের ইতিহাসে ৩০০-র নিচে রান করে জেতার নজির খুব একটা বেশি নেই। ভারত ৩০০-র কমে শেষ করার পরেই সমর্থকদের মনে কু ডাকা শুরু করেছিল।
এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটারদের মধ্যে প্রত্যেকেই রান পান। স্মৃতি মন্ধানা নকআউট পর্যায়ে ব্যর্থতার ধারা শেষ করেন। ওপেনে নেমে ৫৮ বলে করেন ৪৫ রান। শেফালি বর্মা পরিবর্ত প্লেয়ার হিসেবে বিশ্বকাপে নেমে ৭৮ বলে ৮৭ রানের ইনিংস খেলে বিশ্বাসের মর্যাদা দিলেন।
গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করা জেমাইমা এই ম্যাচে মাত্র ২৪ রান করেন। দীপ্তি শর্মা দুর্দান্ত ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন। বড় রান না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের হাল ধরেন হরমনপ্রীত কৌর। রিচা ঘোষ সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৪ বলে ৩৪ রানের একটা ঝোড়ো ক্যামিও খেলেন।
২৯৯ রান তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটি ৫১ রান করে। লরা উলভার্ট শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন। অনিকে বস খাতা খুলতে পারেননি। সুন লুস ৩১ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন। মারিজ়ানা কাপ চার রান করে আউট হন। শিনালো জাফটা ২৯ বলে ১৬ রানে ফেরেন। এক প্রান্ত থেকে যখন একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে সেই সময় এক প্রান্ত সামলান অধিনায়ক লরা উলভার্ট।
অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। সেমি ফাইনালের পর এই ম্যাচেও তিনি সেঞ্চুরি করেন। কিন্তু ১০১ রানের ইনিংস খেলে আউট হন। তাঁকে ফেরান দীপ্তি শর্মা। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন আমনজোৎ কৌর। এই উইকেটটাই ছিল ম্যাচ ঘোরানোর। এর পর ভারতের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। কারণ লরা উলভার্ট বাদে আর কেউই রান পাননি।





Posted ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta