রবিবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ ৪৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০
17 ভিউ
বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন মাজেদ ৪৫ বছর পালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

কক্সবাংলা ডটকম(৭ এপ্রিল) :: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ গত ৪৫ বছর ধরে লিবিয়া, পাকিস্তান ও ভারতে পালিয়ে ছিলেন। বিগত ২৫ বছর ভারতে পালিয়ে থাকার পর করোনাভাইরাস আতঙ্কে সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি।

দেশে ফেরার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতায় আবদুল মাজেদ নিজেকে আবদুল মজিদ পরিচয় নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। এর আগে লিবিয়া ও পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবদুল মাজেদ প্রথমে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে সিটিটিসি’র দায়িত্বশীল সূত্র। জানা গেছে, ভারত থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে যান লিবিয়ায়। সেখান থেকে আসেন পাকিস্তানে। লিবিয়া ও পাকিস্তানে সুবিধা করতে না পেরে আবারও ভারতে ফিরে আসেন। বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করার পর গত ৩-৪ বছর ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন কলকাতায় অবস্থান করার সময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ তেমন কিছু করতেন না। বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ ছিল তার। করোনাভাইরস আতঙ্কে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহের সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফেরার পর মিরপুর ডিওএইচএস-এর এক নম্বর সড়কের ১০/এ বাসায় ওঠেন।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, আবদুল মাজেদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। এরপর আমাদের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়।’

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি আবদুল মাজেদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ট্রান্সনেশনাল ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আসামির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছি।’

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, আদালতে আবদুল মাজেদকে ধানমন্ডি থানার ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় (সন্দেহমূলক) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রেফারেন্সসহ গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং গ্রেফতারের পর কারাগারে রাখার আবেদন করে পুলিশ। আবেদন মঞ্জুর করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ক্যাপ্টেন মাজেদকে গ্রেফতারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন দণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ডাদেশ কার্যকর করার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। তাদেরই একজন ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ আমাদের পুলিশের কাছে ধরা পড়েছে। আমরা কিছুক্ষণ আগে তাকে আদালতে সোপর্দ করেছি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার স্ত্রী সালেহা বেগম। বাড়ি নম্বর ১০/এ, রোড নাম্বার ০১, ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা। তিনি সেখানে বসবাস করতেন। আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে তার সব তথ্য ছিল।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, নূর ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন এই তিন জনের অবস্থান ছিল। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। মাজেদ তখন লেফটেন্যান্ট ছিলেন। এই খুনি শুধু বঙ্গবন্ধুর খুনেই অংশগ্রহণ করেননি, তিনি জেলহত্যায়ও অংশ নিয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এরপর আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে ১৯৯৭ সালে, তার আগেই তিনি আত্মগোপন করেন। আমাদের গোয়েন্দাদের তৎপরতা ছিল তাকে ধরার জন্য। গোয়েন্দা বাহিনী এবং যারা যারা তাকে গ্রেফতারের কাজে ছিল— তারা সবাই ভালো কাজ করেছে বলে আমি মনে করি।’

ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ- ফাইল ছবি

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়ার আমলে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’ জারি করে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিদেশে বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে চাকরি দেওয়া হয়।

২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ‘ইনডেমনিটি অ্যাক্ট’ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ে ১২ খুনির ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে এবং কারাগারে আটক পাঁচ খুনি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), এ কে বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দিনকে (আর্টিলারি) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া অন্য ছয় খুনি বিভিন্ন দেশে পলাতক থাকায় তাদের দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এর আগেই অবশ্য আরেক খুনি আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন বলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জোট সরকার ঘোষণা দেয়।

পলাতক ছয় খুনির মধ্যে গত বছর নভেম্বরে মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম কেনিয়ায় মারা গেছেন বলে স্ত্রীর বরাতে তার এক ভাইয়ের ফেসবুক ম্যাসেজে জানা যায়। বাকি খুনি লে. কর্নেল (বরখাস্ত) নূর চৌধুরী, লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী, রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন  পলাতক। তাদের সঙ্গে ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদও পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে নূর চৌধুরী বর্তমানে কানাডা এবং লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থানের কারণে নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কানাডা। আরেক খুনি মোসলেহ উদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তবে মোসলেহ উদ্দিন সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েও পাননি। এ ছাড়া খন্দকার আবদুর রশিদ লিবিয়ায় রয়েছেন বলে গুঞ্জন আছে।

ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছেও সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও অবশেষ তিনি গ্রেপ্তার হলেন।

17 ভিউ

Posted ৩:২৩ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.