শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০
12 ভিউ
বঙ্গবন্ধুর দুই খুনিকে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

কক্সবাংলা ডটকম(৮ আগস্ট) :: বঙ্গবন্ধুর পাঁচ পলাতক খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের বিষয়ে তৎপর সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নানা প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে খুনি মেজর (বরখাস্ত) রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় আশার আলোও দেখা গেছে। কানাডা থেকে অন্য খুনি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি দুই পর্যায়েই চেষ্টা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। এখনো খোঁজ না পাওয়া বাকি তিন খুনির অবস্থান জানতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা চায় সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর পাঁচ পলাতক খুনির মধ্যে দুজনের অবস্থান আমরা জানি; একজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং একজন কানাডায় অবস্থান করছেন। তাদের ফেরত আনার জন্য সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে দূতাবাসগুলোকে বলেছি অন্তত মাসে একবার লোকজন নিয়ে ওইসব খুনির বাসার সামনে গিয়ে অবস্থান করতে। যেন জনগণের কাছে ধিকৃত হয়।

তিনি বলেন, অবশিষ্ট তিন খুনির অবস্থান আমরা এখনো জানি না। তাদের অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সব বৈদেশিক মিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুনিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সরকারকে সহায়তার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকারীদের বিচারের পথ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে রুদ্ধ করেন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এবং উল্টো তাদের চাকরি দিয়ে বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপনের সুযোগ করে দেন। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ খোলে। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিচারের গতি শ্লথ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১০ সালে পাঁচ খুনির মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। দন্ডিত আরেক খুনি আবদুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে ২০০১ সালের ২ জুন মারা যান।

সবশেষ ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থেকে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১২ এপ্রিল তার ফাঁসি কার্যকর করে সরকার। এর বাইরে পলাতক পাঁচ খুনি হলেন খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রাশেদ চৌধুরী ও কানাডায় আছেন নূর চৌধুরী। অন্য তিনজন মোসলেম উদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম ও খন্দকার আবদুর রশীদের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

কূটনৈতিক সূত্র জানান, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরাতে প্রায় এক যুগ ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। খুনি রাশেদ চৌধুরীর প্রত্যর্পণ চেয়ে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ ২০১৯ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতরের ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস ঢাকা সফরে এলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চান। ওই ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রাশেদ চৌধুরীর নথিপত্র চান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত নথিপত্র যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পাশাপাশি নিয়মিত তৎপরতা অব্যাহত রাখে। এ তৎপরতার পর রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ পর্যালোচনা করছে।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে দেশটির একটি আদালতের মাধ্যমে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন রাশেদ চৌধুরী। সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সেক্রামেন্টো থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের শহর কনকর্ডের হ্যাকলবেরি ড্রাইভে বসবাস করতেন তিনি। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ইলিনয়, মিসৌরিসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বসবাস করেছেন রাশেদ চৌধুরী। এখন নানান চেষ্টায় দেড় যুগ পর রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের মামলাটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল বিল বার রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের ফাইল তলব করেন। তিনি ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে এ আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের প্রতিক্রিয়া জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীকালে ৩১ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এ আইনি প্রক্রিয়ায় রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে। সে ক্ষেত্রে তাকে বাংলাদেশেই ফেরত পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর পর সরকার রাশেদ চৌধুরীর মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে এক থেকে তিন বছর লাগতে পারে। অন্যদিকে, কানাডায় অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ক্রমাগত কানাডা সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ মে মাসে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সো ফিলিপ শাম্পেইনের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ অনুরোধ করেন। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে উপরোক্ত দুই ঘাতককে মৃত্যুদন্ড প্রদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের অবিলম্বে বাংলাদেশে সোপর্দ করার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানা যায়, কানাডা সরকার তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে। সব ধরনের মৃত্যুদন্ডবিরোধী অবস্থানের কারণে এ খুনিকে ফেরত দিতে আগ্রহী নয় তারা। তবে নূর চৌধুরীর যদি মৃত্যুদন্ড কার্যকর না হয় (অর্থাৎ আজীবন দন্ড) তাহলে কানাডার কোনো আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়েছে কানাডা। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দন্ড কমানোর সুযোগ না থাকায় এ বিষয়ে কানাডায় ল ফার্মের মাধ্যমে আইনি লড়াই ও লবিং করছে বাংলাদেশ সরকার।

12 ভিউ

Posted ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.