বৃহস্পতিবার ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বন্যার পূর্বাভাস পাত্তা দেয়নি মানুষ

রবিবার, ১৯ জুন ২০২২
41 ভিউ
বন্যার পূর্বাভাস পাত্তা দেয়নি মানুষ

কক্সবাংলা ডটকম(১৯ জুন) :: যুদ্ধেও মানুষ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে এক স্থান থেকে সন্তর্পণে অন্যত্র নিরাপদে চলে যায়। কিন্তু সিলেট, সুনামগঞ্জের বর্তমান প্রলয়ংকারী বন্যা-পরিস্থিতি যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ নেই। জরুরি সেবা নেই। ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ দুই দিন ধরে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন, বিপন্ন। গ্রাম-গঞ্জে কোথাও এক খণ্ড শুকনা জায়গা নেই। কেউ মারা গেলে ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া কবর দেওয়ার উপায় নেই। শবদাহ করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রবল পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বৃষ্টিপাতে আজ শনিবার সকাল থেকে সিলেট শহরের সাবস্টেশন প্লাবিত হওয়ার সিলেট শহরেও বিদ্যুৎ নেই। শহরের যেসব জায়গা কোনোদিন প্লাবিত হবার কথা কেউ কল্পনাও করেনি সেসব এলাকায় বাসা-বাড়িতে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে।

১২২ বছরের ইতিহাসে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৩ দিনে ২৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একদিনে সর্বোচ্চ ৯৭২ মিলিমিটার। অথচ এই বৃষ্টি ও ভয়াল বন্যা নিয়ে আমাদের আবহাওয়া বিভাগের কোনো পূর্বাভাস ও তৎপরতা নেই। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো পূর্বপ্রস্তুতি নেই। মনে হচ্ছে স্যাটেলাইট যুগে নয়, আমরা আদিম যুগে বাস করছি।

সুনামগঞ্জ জেলা দুই দিন ধরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কেউ জানে না সেখানে কী ঘটছে। মানুষ, পশু, পাখি কেমন আছে। সবার বাড়ি-ঘর প্লাবিত হওয়ায় খাবার-দাবার রান্না করার কোনো সুযোগ নেই। টিউবওয়েল সব ডুবে আছে। বিশুদ্ধ পানি নেই। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছে তাদের অবস্থা আরও করুণ। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ ও পশু গাদাগাদি করে মানবেতর অবস্থায় আছে। ঘুমানো দূরে থাক, বসার অবস্থা নেই। খাবার-দাবার নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই। পয়নিষ্কাশন বা স্যানিটেশন বলতে কিছু নেই। রীতিমতো মানবিক বিপর্যয় চলছে। অনেক এলাকায় লোকজন বেঁচে আছে, নাকি বানের জলে ভেসে গেছে সে খবরও জানা যাচ্ছে না।

যেসব এলাকার অবস্থা খুব করুণ সেখানে কোনো উদ্ধার বা ত্রাণ তৎপরতার কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ উচিত ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় স্পিড বোট, ট্রলার, নৌকা, হেলিকপ্টার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। সিভিল ও মিলিটারি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যেসব নাম্বার দেওয়া হয়েছে এসব একটা নাম্বারেও কল রিচ করে না। আর যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন মানুষ ফোনই-বা দেবে কি করে? ওই এলাকায় তো নেটওয়ার্কই নেই!

স্মরণকালের ভয়াবহ বানে ডুবে আছে সিলেট অঞ্চল। পানির এমন রুদ্র রূপ দেখে বিস্মিত সবাই। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া এই প্লাবনে অন্তত অর্ধকোটি মানুষ পানিবন্দি। এ বন্যার জন্য একদিকে উজানে ভারতের আসাম-মেঘালয়ের টানা ভারি বৃষ্টি, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে লাগাতার বর্ষণকে দায়ী করা হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে বন্যার এমন মহাদুর্যোগ হঠাৎ করে আসেনি। জুনের মাঝামাঝি বন্যা ফণা তুলবে- এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল এ মাসের শুরুতেই। তবে এই পূর্বাভাস পাত্তা দেয়নি কেউ।

জানা যায়, জুনের শুরুতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষকদের কৃষি আবহাওয়া সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি বিরূপ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে একাধিক সেমিনারে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহযোগিতায় হওয়া এসব সেমিনারে দেওয়া হয়েছিল ভয়াবহ বন্যার পূর্বাভাসও।

মধ্য জুনে বন্যার আশঙ্কা করে প্রকাশ করা হয়েছিল প্রতিবেদন। তবে গত মে মাসের সিলেটে বন্যার অভিজ্ঞতায় এখনকার প্লাবনের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষ ধারণা করতে পারেনি। ফলে বন্যার পূর্বাভাসকে যতটুকু গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা কেউই আমলে নেয়নি।

পাউবোর এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিস্থিতি আসলে ধারণার বাইরে চলে গেছে। এমন বন্যা সিলেটে কখনও হয়নি। তাই পূর্বাভাসকে সম্ভবত কেউ বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। এখন খেসারত দিতে হচ্ছে।

সিলেটে নদনদীর পানি গত বুধবার থেকে বাড়তে শুরু করলেও তা কেউ গা করেনি। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে শহর তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সুনামগঞ্জ। তার আগেই সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়। শুক্রবার সকালের মধ্যে সিলেট জেলার ১০ লাখের বেশি মানুষ হয়ে পড়ে পানিবন্দি। একই দিন হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে।

গত শনিবার সিলেট অঞ্চলের ৪০ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিভাগে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা ডুবছে। বন্যায় গৃহবন্দি মানুষকে উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রমের গতি বাড়ানো হচ্ছে।

সিলেট অঞ্চলে এক মাস আগের বন্যায় আউশ ধানের পর এবার আমনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৪৯ হেক্টর, সুনামগঞ্জে ১০ হাজার হেক্টর, মৌলভীবাজারে ৩০০ হেক্টর ও হবিগঞ্জে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর আউশ ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া সিলেট জেলায় ১ হাজার ৫৪৪ হেক্টর, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর এবং মৌলভীবাজারে ৫০ হেক্টর মৌসুমি সবজি বন্যার পানিতে ডুবে আছে। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে পরপর দু’দফা বন্যায় সিলেট-সুনামগঞ্জে বোরো ও আউশ ধানের পর এবার আমন তলিয়ে যাওয়াকে বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সংশ্নিষ্টরা।

সিলেটে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টি ও পাউবো বন্যার পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। এ দুটি পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষকের করণীয় কী হবে, তা নিয়েই মূলত সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব সেমিনারে কৃষকদের আমনের বীজতলায় ধীরে বুনতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এখন অ্যাপের মাধ্যমেও যে কেউ কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেতে পারে। এই বিষয়টাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্পে পাউবো বন্যা ও আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস বিষয়ে সহযোগিতা করে। এবারের পূর্বাভাসকে মানুষ সেভাবে আমলে নেয়নি বলে দ্রুতগতিতে পানি চলে আসায় শেষ পর্যায়ে কেউ বেরোতে পারেনি। বসতভিটা তলিয়ে গেলেও নৌকা বা যোগাযোগের অভাবে মানুষ ঠাঁই নিতে পারেনি নিরাপদ আশ্রয়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত করা হয়েছে।

সিলেট পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশা বলেন, সিলেটে ভয়াবহ বন্যার মূল কারণ উজানে ভারি বৃষ্টি। উজানে গত তিন দিনে ২ হাজার ৪৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যেখানে গত মাসের বন্যার সময় এক সপ্তাহে বৃষ্টি হয়েছিল ২ হাজার ২০০ মিলিমিটারের মতো। এতেই অনুমান করা যাচ্ছে, এবারের বৃষ্টিপাতের ভয়াবহতা।

এবার সিলেট অঞ্চলেও স্থানীয়ভাবে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ সাধারণত নিজের বসতভিটা ছাড়তে চায় না। এবার যে গতিতে পানি ঢুকেছে, মানুষকে নড়ারও সুযোগ দেয়নি।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, আরও দু’দিন সিলেটে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। উজানেও এ সময়ে ব্যাপক বৃষ্টি হবে। তারপর আশা করি বৃষ্টি কমবে। এতে পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুনের শুরুতে সিলেট অঞ্চলের একাধিক সেমিনারে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বন্যার কথা বলা হয়েছিল।

41 ভিউ

Posted ১১:১০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ জুন ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com