বৃহস্পতিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বর্ষাকালেও তাপদাহ : হাঁপিয়ে উঠেছে জনজীবন

শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২
59 ভিউ
বর্ষাকালেও তাপদাহ : হাঁপিয়ে উঠেছে জনজীবন

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জুলাই) :: আষাঢ় মাস শেষ হচ্ছে আজ। পঞ্জিকার পাতায় এখন ভরা বর্ষা। আকাশজুড়ে থাকার কথা ঘন কালো মেঘ। ঝুম বৃষ্টিতে শীতল হওয়ার কথা প্রাণ-প্রকৃতি; কিন্তু ঋতুচক্রের এ নিয়ম ভেঙে সেই আকাশ এখন শরতের মতো শুভ্র। কাশফুলের মতো মেঘের ভেলা ঘুরছে। কিন্তু গরমে টেকা দায়। সূর্য ঢেলে দিচ্ছে তাপদাহ। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রকৃতিতে খরতাপ যেন গ্রীষ্ফ্মের কথাই বেশি মনে করিয়ে দিচ্ছে। বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকায় আঁচটা খুব বেশি।

আর এ ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। প্রতিদিন সকাল ৬টা বাজতে না বাজতেই সূর্যের তাপ ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘আগুন ছড়াতে’ থাকে সূর্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বাতাসেও বেড়েছে জ্বলীয় বাষ্পের পরিমাণ। জলীয় বাষ্প বায়ুমন্ডলে থাকলে প্রচুর তাপমাত্রা ধরে রাখে আর এ কারণে গরমের অনুভূতিও বেশি হয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আরও দুই থেকে তিন দিন মৃদু তাপপ্রবাহ থাকতে পারে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে লঘুচাপ কমেছে বঙ্গোপসাগরে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, মৌসুমি বায়ু আসে দক্ষিণ দিক থেকে। সেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরের অংশে তাপমাত্রা বেশি থাকে। এ কারণে ওই দিক থেকে বাতাস এলেও তা গরম থাকে। যার ফলে বাতাসও পাওয়া যায়, আবার গরমও অনুভূত হয়। তা ছাড়া বৃষ্টিও কয়েক দিন ধরে হচ্ছে না। এসব কারণে যত গরম, অনুভূত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি।

সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে দুর্বলভাবে অবস্থান করছে। সে কারণে বৃষ্টি কম হওয়ায় গরম অনুভূত হচ্ছে। তা ছাড়া বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, তাপপ্রবাহ কাল শনিবার নাগাদ কিছুটা কমে আসতে পারে এবং বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ১৬-১৭ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই থাকতে পারে। মাঝে মধ্যে কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও গরম খুব একটা কমবে না। গরম কমতে হলে টানা বৃষ্টি হতে হবে। ১৭ বা ১৮ জুলাইয়ের পর বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এখন যেসব এলাকার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা এখনও মাইল্ড অবস্থায়ই আছে। গড়ে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকছে তাপ।

আষাঢ় মাসে এমন গরম পড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল মান্নান বলেন, এখন বর্ষা চলছে। বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প আছে। এই জলীয় বাষ্পের কারণে শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। তা ছাড়া এখন দিনের ব্যাপ্তি বেশি। দীর্ঘ সময় ধরেই সূর্যের তাপ ভূপৃষ্ঠে পড়ে। এসব কারণে এখন গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাপপ্রবাহের মতিগতিও বদলাচ্ছে, সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে এর প্রভাবের এলাকা, বাড়ছে ‘হটস্পটের’ বিস্তার। এ সংকট জনস্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনকে ফেলছে ঝুঁকিতে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, মেঘ তৈরি না হওয়া এবং বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এই জলীয় বাষ্প ভূপৃষ্ঠ থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারছে না। চলমান অনাবৃষ্টি পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হলো জেট স্ট্রিম, যা ভূপৃষ্ঠের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত বায়ু; এর পেছনের অর্ধেক অংশের একটি তরঙ্গ এখন বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিহারের ওপর অবস্থান করছে। জেট স্ট্রিমের এই অংশ মেঘ সৃষ্টিতে বাধা দিচ্ছে, তাই বৃষ্টিপাত হচ্ছে না।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতিতে শৈত্যপ্রবাহ, খরা ও অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির মতো নানা বৈরিতা এখন বাস্তবতা। এর ভুক্তভোগী বিশ্বের প্রতিটি দেশ। তিনি বলেন, খালবিল, নদীনালা ও জলাশয়গুলো সংরক্ষণ করতে হবে। শহর-গ্রামে সবুজ বাড়াতে হবে। গ্রিনহাউস নিঃসরণ কমানো না গেলে সবার জন্য অপেক্ষা করছে বিপদ।

গবেষকদের বিশ্নেষণ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ২০৩৭ সাল নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা এখনকার তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। আর ২০৫১ সাল নাগাদ তা আরও ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

59 ভিউ

Posted ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ জুলাই ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com