শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ঋণ নিয়ে লুকোচুরি : বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত আইএমএফ

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০২২
96 ভিউ
ঋণ নিয়ে লুকোচুরি : বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত আইএমএফ

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ জুলাই) :: সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দাতা সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে আইএমএফের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত তারা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। এ পরিস্থিতিতে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোসহ নানা পদক্ষেপ নিয়ে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

খরচ কমাতে বিদেশি ফল, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রী আমদানি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সরকারের খরচ কমাতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

এ পরিস্থিতিতে ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে গত রবিবার আইএমএফকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সরকার।

সেখানে বলা হয়েছে, সময় একটু খারাপ (ক্রিটিক্যাল টাইম) বলে জরুরি ভিত্তিতে লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা ও বাজেট সহায়তা বাবদ বাংলাদেশের অর্থের দরকার।

রয়টার্স বলছে, কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি।

তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং তাতে লেনদেন ভারসাম্যে চাপ পড়েছে।

আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশ তাদের নতুন চালু করা রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটির আওতায় ঋণ নিতে আগ্রহী ছিল।

তাছাড়া আইএমএফের আরেকটি কর্মসূচির আওতায় ঋণের বিষয়ে আলোচনার জন্যও অনুরোধ করেছে।

আইএমএফের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, আইএমএফ বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

তহবিলের বিদ্যমান নীতি ও প্রক্রিয়ার আলোকে কর্মসূচি প্রণয়নে কর্মকর্তারা (আইএমএফের) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।

আলোচনায় যে কর্মসূচি ঠিক হবে, সে অনুযায়ী সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

ঋণ নিয়ে লুকোচুরি

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ঋণ সহায়তা চাওয়া নিয়ে এক ধরনের লুকোচুরি চলছিল। অবশেষে ঋণ সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ গত রবিবার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এর ফলে আইএমএফের ঋণ নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি অনেকটাই কেটে গেল। অর্থনীতির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে আইএমএফ থেকে সমর্থন চাওয়া দেশের তালিকায় পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি এবার যুক্ত হলো বাংলাদেশও। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ঊর্ধ্বগতির মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে দেশগুলো।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করতে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভাকে চিঠির মাধ্যমে দেয়া আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঋণের অঙ্ক ও সুদহার উল্লেখ করা হয়নি বলে গতকাল জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও বিশেষ বরাদ্দের অধিকারের অঙ্ক হিসাবে বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার (৭ বিলিয়ন) পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। এর আগে গত ২০ জুলাই ঋণ নেয়ার বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দুই ধরনের বক্তব্যে এক ধরনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম বাড়ায় রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে, গত বছর যা বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফ থেকে বাজেট সহায়তা হিসেবে ঋণ সহায়তা নেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ঋণ নেয়ার বিষয়টিকে অর্থনীতিবিদরাও ইতিবাচক মনে করেন। তবে আইএমএফের দেয়া শর্ত যেন দেশের স্বার্থের অনুকূলে থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে বলে মনে করেন তারা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের অনুরোধ জানানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলাপকালে বলেন, আমাদের এখানে সম্প্রতি আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল এসেছে, আমাদের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে। এটা রুটিন, প্রতি বছরই হয়। জাইকা, এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়। আইএমএফের সঙ্গেও কথা হয়। আমরা কী কী ফ্যাসিলিটি নিতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মুখ্য সচিব বলেন, ১৯৯৩ সালে ৭৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এক্সটেনডেড ট্রেড ফ্যাসিলিটি থেকে নেয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালে ৫০৬ মিলিয়ন ও ২০১২ সালে ৯৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যালেন্স অব পেমেন্ট সহায়তা নেয়া হয়েছে আইএমএফ থেকে। করোনা অতিমারিকালে ২০২০ সালে র‌্যাপিড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি এবং র‌্যাপিড ফিন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট থেকে ৭৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নেয়া হয়েছিল আইএমএফ থেকে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি থেকে আমরা নিয়মিত নিচ্ছি। আগে আমরা প্রজেক্ট ফিন্যান্সিং বেশি নিতাম। তাতে দীর্ঘ মেয়াদি হয়ে যায়। এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি এত মজবুত হয়েছে এবং আমাদের ই-পেমেন্ট এত ভালো সেজন্য ওরা আমাদের বাজেট সহায়তা দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, করোনা অতিমারিকালে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও জাইকা আমাদের বাজেট সহায়তা দিয়েছে। টাকাটা তারা দিচ্ছে ঋণ হিসেবে। এটার ভালো দিক হলো আমাদের ওপর আস্থা এসেছে, আমরা এটার বেটার ইউজ করতে পারি। এবারো বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এটা বেইল আউট না। মূলত উন্নয়ন কাজে ব্যয়ের জন্য আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা দরকার, বলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী  বলেন, কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে, তা জানি না। নিরাপত্তার জন্য আইএমএফএর কাছ থেকে ঋণের জন্য চিঠি দিয়েছে। এটা হতে পারে ‘এভয়েড ক্রাইসিস’ কৌশল। এর বাইরে অন্যকোনো কৌশল আছে কিনা, সেটা অর্থমন্ত্রীই ভালো জানেন। তিনি বলেন, যে কোনো দেশ যদি অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে বা অনুমান করে সমস্যা হতে পারে, সেক্ষেত্রে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নিতে পারে।

সাধারণত, আইএমএফ যখন ঋণ দেয়, তখন অর্থনীতির সংস্কারের কিছু শর্তাবলিও জুড়ে দেয়। অনেক সময় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অর্থনীতির সমস্যার সঙ্গে যে বাস্তবসম্মত হবে, তা নয়। এর আগে ’৮০-এর দশকে ‘কাঠামোগত সংস্কার’ কর্মসূচির আওতায় আমাদের ঋণ দিয়েছিল। বাংলাদেশ সে সময় ঋণ নিয়েছিল এবং শর্তগুলোও পরিপালন করেছিল। কিন্তু সেগুলো তেমন কোনো সুফল বয়ে আনেনি। পরবর্তীতে এ কর্মসূচি বাদ দিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে শুধু আইএমএফ-ই নয়, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকার কাছ থেকেও বাজেট সহায়তা নেয়ার আলোচনা চলছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট

সূত্রে জানা গেছে, এডিবির সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের বাজেট-সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার- এ দুই খাতে অর্থ খরচ করতে হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের জন্য দুই মাস আগেই এডিবির কাছে সহায়তা চেয়েছে সরকার। তবে কিছু শর্ত নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৭০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। জাইকার কাছেও বাজেট সহায়তা চেয়ে অনুরোধ করার ব্যাপারে কাজ চলছে। এ নিয়ে সফররত জাইকার সভাপতি আকিহিকো তানাকার সঙ্গে গত সোমবার বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট বা স্বচ্ছ কোনো কথা বলতে চান না। মূল সমস্যা কী, এর সমাধান কী হতে পারে বা ভবিষ্যতে এর মোকাবিলা কীভাবে হবে এ বিষয়গুলো নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। সবকিছুই একধরনের কেন্দ্রীভূত অবস্থায় রয়েছে। সিদ্ধান্তহীনতা, দীর্ঘসূত্রতা- এসব কারণেই এ লুকোচুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আইএমএফ থেকে আমরা এর আগেও ঋণ নিয়েছি এবং সঠিক সময়ে পরিশোধও করেছি। তাদের যে শর্তগুলো রয়েছে সে বিষয়ে নেগোশিয়েশন করতে পারে। সব শর্ত মানতে হবে এমন কোনো কথা নেই। আমাদের রিজার্ভ কমে গেছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সময় চলে এসেছে- এসব মোকাবিলায় আইএমএফের ঋণ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ঋণ নেয়ার বিষয়ে ‘কৌশল’ অবলম্বন করার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম  বলেন, ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কৌশলের কিছু আছে বলে মনে করি না। তাদের শর্তগুলো নিয়ে নেগোশিয়েট করে ঋণের দিকে এগোতে হবে। এখানে কেন কৌশল নিতে হচ্ছে আমি বুঝতে পারছি না।

চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশের ঋণ চাওয়ার বিষয়টি বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। গত সপ্তাহে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করলে সেই আলোচনা আরো জোর পায়।

তবে গত ২০ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তা নাকচ করে জানিয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত আইএমএফের কাছে কোনো অর্থ সহায়তা চায়নি। আইএমএফও বাংলাদেশের কাছে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব করেনি। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের আইএমএফের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই’। কিন্তু গত মঙ্গলবার কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে আইএমএফ-এর কাছে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়ার খবর আসে। এর পর দিন বুধবার বিষয়টি স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দর কষাকষির সুবিধার জন্য’ তিনি চার দিন আগে সংবাদমাধ্যমকে অন্য কথা বলেছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি যদি আমার চাহিদা এক্সপোজ করে দিই, তাহলে আমার ওপর ঋণের বার্ডেন বা কস্ট তারা বেশি নেবে। সেজন্য ‘নেব, নিচ্ছি, বা প্রয়োজন নেই,’ এই কথাগুলো বলে ম্যানেজ করতে হয়। তাতে করে আমরা লাভবান হই।

তিনি বলেন, আমরা ডলার প্রিন্ট করি না, ডলার অর্জন করতে হয়। রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে আমরা ডলার অর্জন করি। এর মাঝে খারাপ কিছু হয়নি। এটা খুব সহজ জিনিস। আপনারা আমার জায়গায় থাকলে একই কাজ করতেন। আমরা বার্গেইন করে এভাবে ঋণ নিই। শক্ত কোনো টার্ম এন্ড কন্ডিশনস যেন ঋণের মধ্যে ঢুকে না যায়, সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা অর্থ চাইব বলেছি। কিন্তু কত লাগবে সেটা আমরা বলি নাই। তারা কী শর্তে দিতে চাচ্ছে আমরা সেটা দেখব। তারা যদি পজিটিভলি এগিয়ে আসে এবং কম রেটে পাই, তাহলে ইন দ্যাট কেইস, আমরা বিবেচনা করতে পারি। আমরা বিবেচনা করবই- এমন কোনো প্রস্তাব আমরা দিইনি।

করোনা মহামারির মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের অভিঘাতে শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হওয়ার প্রান্তে না পৌঁছলেও বাংলাদেশের অর্থনীতিও ঝুঁঁকির মুখে বলে আইএমএফ মূল্যায়ন করেছে। সংকট বড় নয় বলে বাংলাদেশ সরকার দাবি করে এলেও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে রিজার্ভে টান পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোসহ ব্যয় সাশ্রয়ী নানা পদক্ষেপ নেয়ার মধ্যেই আইএমএফ থেকে ঋণ চাওয়ার খবরটি এলো।

যে তহবিল থেকে বাংলাদেশ অর্থ চেয়েছে বলে আইএমএফের তরফে বলা হচ্ছে, তা থেকে নি¤œ আয়ের দেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে ঋণ দেয়া হয়। কোভিড মহামারি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলার জন্য নীতি সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া হয় এই প্রকল্পে। ২০ বছর মেয়াদে এ ঋণ দিয়ে থাকে আইএমএফ, তার গ্রেস পিরিয়ড ১০ বছর। আর ঋণে সুদের হার আলোচনার মধ্য দিয়ে ঠিক হবে।

বিষয়টি নিয়ে আইএমএফের অর্থ নেয়ার পক্ষে মত দেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আইএমএফ-এর সঙ্গে আলোচনা শুরু ভালো দিক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, দুই বিলিয়ন ডলার হোক আর সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার, আইএমএফের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার প্রয়োজন আছে। এটা মধ্য মেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা এক ধরনের আস্থা পাবেন।

96 ভিউ

Posted ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com