
কক্সবাংলা ডটকম(২৫ নভেম্বর) :: কমনওয়েলথ বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে সংস্থার মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করেন এবং এ ব্যাপারে কমনওয়েলথের অবস্থান জানান।
সংস্থার মহাসচিব পাঁচ দিনের সফর শেষে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা ছেড়েছেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে তার এই সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সফরকালে তিনি আগামী নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন ও অংশীজনেরা কে-কী ভাবছেন তা বোঝার চেষ্টা করেছেন।
একই সঙ্গে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি না বা আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করেছেন শার্লি।
শার্লি বলেন, কমনওয়েলথ ও বাংলাদেশের মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচনের দিকে এগোতে থাকায় এই অংশীদারত্বের গুরুত্ব এখন আরও বেশি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অভিন্ন অঙ্গীকার হলো একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশকে সমর্থন করা, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো হবে। এটিই বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, সবার জন্য ন্যায়সংগত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়াসে বাংলাদেশ কমনওয়েলথকে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে আস্থায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে তিনি গণতান্ত্রিক যাত্রায় কমনওয়েলথের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
সফরকালে কমনওয়েলথ মহাসচিব প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি, আইন উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার, তরুণ প্রতিনিধিদলসহ অন্য প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন।
আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো, বিশেষ করে শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সমৃদ্ধির জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশের ধারাবাহিক জাতীয় অগ্রগতির প্রতি সমর্থন জানান শার্লি।
পাশাপাশি তিনি কমনওয়েলথের নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ তুলে ধরেন, যার তিনটি প্রধান স্তম্ভের একটি হলো গণতন্ত্র। বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক উত্তরণে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দেন তিনি।
এখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক বলতে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের বিষয়টি উত্থাপন করেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় গণভোট নিয়েও কমনওয়েলথ মহাসচিব কথা বলেছেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকের সময় কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ের কাছে জাতীয় পার্টি অভিযোগ করে যে তাদের দলকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। জাতীয় পার্টির বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকার বাধা দিচ্ছে বলে কমনওয়েলথ মহাসচিবকে জানানো হয়।
পরে মহাসচিব শার্লি যখন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করেন, তখন জাতীয় পার্টির অভিযোগের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
এই অভিযোগের জবাবে আইন উপদেষ্টা শার্লিকে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। আইনগতভাবে নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দল ছাড়া কাউকে সরকার বাধা দেয়নি। আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে একে অপরকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থাকতে পারে।
এদিকে কমনওয়েলথ মহাসচিব গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য কমনওয়েলথের পূর্ণ সমর্থন চান।
তিনি কমনওয়েলথ মহাসচিবকে বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রতি গভীর আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জবাবে শার্লি প্রধান উপদেষ্টাকে আশ্বস্ত করেন যে কমনওয়েলথ বাংলাদেশের নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী রূপান্তরের ক্ষেত্রে পূর্ণ সমর্থন দেবে।
মহাসচিব নিশ্চিত করেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য কমনওয়েলথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত অক্টোবরে কমনওয়েলথের প্রাক-নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ সফর করে।

Posted ১২:২২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta