মঙ্গলবার ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ায় সামনে যত ফাঁদ

বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮
380 ভিউ
বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ায় সামনে যত ফাঁদ

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ মার্চ) :: ১৬ কোটি মানুষ ও ৬৮৬.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি-সংবলিত বাংলাদেশ ২০১৪ সাল নাগাদ ‘উন্নয়নশীল দেশ’ হওয়ার নির্ধারিত ছয় বছরের গ্রাজুয়েশন পিরিয়ডে প্রবেশ করার প্রেক্ষাপটে দেশটি আগামী দিনে কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন।

মাত্র একটি পণ্যকেন্দ্রিক রৈখিক রফতানি ঝুড়ি, অবকাঠামো উন্নয়নে মন্থর গতি, শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মশক্তির অভাবের মতো সমস্যাগুলো ওই মর্যাদা প্রাপ্তি দেশের জন্য নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

অধিকন্তু, গ্রাজুয়েশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেশটি জাতিসংঘের একটি শ্রেণী ত্যাগ করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেশটি স্বল্প উন্নত দেশ (এলডিসি)-এর তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটবে। এর অর্থ হলো দেশটি আর বাণিজ্য, সরকারি উন্নয়ন সহায়তা, জলবায়ু-পরিবর্তন সমর্থন, ভ্রমণ ও অন্যান্য বিষয়ে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সমর্থনমূলক পদক্ষেপের যোগ্য হিসেবে পরিগণিত হবে না।

অবশ্য আশাবাদী অর্থনীতিবিদদের বেশির ভাগই বলছেন, আগামী দিনে রাজনৈতিক গোলযোগের শঙ্কা থাকলেও প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল অগ্রগতি ধরে রাখতে পারলে এবং কিছু ফলপ্রসূ বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারলে এলডিসি ব্লক ত্যাগে কোনো সমস্যা হবে না।

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার গ্রাজুয়েশন

গত শুক্রবার বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার গ্রাজুয়েশন করার যোগ্যতা অর্জন করে। তিনটি বৈশিষ্ট্যের সবগুলো তথা মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা সূচকে (ইভিআই) ন্যূনতম মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পয়েন্ট লাভ করে।

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করার পর ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি ব্লকে অবস্থান করছিল। এই ব্লকে থাকা অপর দুটি দেশ মিয়ানমার ও লাওসও বাংলাদেশের সাথে গ্রাজুয়েশন পিরিয়ডে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি কমিটির (সিডিপি) সর্বশেষ দফা দেশ পর্যালোচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জাতিসংঘ ১৯৭১ সালে ১৭টি দেশকে এলডিসি মর্যাদা দিয়েছিল। বর্তমানে এলডিসিভুক্ত দেশের সংখ্যা ৪৭। এখন পর্যন্ত পাঁচটি দেশ গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে এ তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে: ১৯৯৪ সালে বোতসোয়ানা, ২০০৭ সালে কেপ ভার্দে, ২০১১ সালে মালদ্বীপ, ২০১৪ সালে সামোয়া এবং গত বছর ইকুয়েটোরিয়াল গিনি।

সিডিপি তিন বছর পরপর এলডিসি দেশগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করে এবং গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে পারে এমন দেশ সম্পর্কে সুপারিশ করে। সবশেষ পর্যালোচনা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এসময় নেপাল ও ভুটানকেও এলডিসি ব্লক থেকে উত্তরণের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার যোগ্য বলে সুপারিশ করা হয়েছিল।

এলডিসি শ্রেণি থেকে উত্তরণের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় তা হলো মাথাপিছু জিএনআই হতে হবে ১,২৩০ ডলার বা এর বেশি, এইচএআই হবে ৬৬ বা এর বেশি, ইভিআই হবে ৩২ বা এর কম। বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু জিএনআই হলো ১,৭২৪ ডলার, এর এইচএআই ৭২ ও ইভিআই ২৫.২।

সিডিপি গ্রাজুয়েশন পিরিয়ডের অন্তর্বতীকালে বাংলাদেশের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবে ২০২১ সালে। বাংলাদেশ যদি এই ছয় বছরে তিনটি শ্রেণিতেই তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তবে ২০২৪ সালে এলডিসি ব্লক থেকে উত্তরণ ঘটবে।

গ্রাজুয়েশন অবশ্যই হবে

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একমাত্র দেশ হিসেবে এলডিসি ব্লক থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার জন্য একইসময় তিনটি বৈশিষ্ট্যের সবগুলো পূরণ করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আমাদেরকে এখনো আরো দুটি পর্যালোচনা সম্পন্ন করতে হবে যথাক্রমে ২০২১ ও ২০২৪ সালে। তবে আমি বাংলাদেশের গ্রাজুয়েশন সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তিনি বলেন, এ কাজে বাংলাদেশ তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রথমটি হলো অবকাঠামোর অভাব। বাংলাদেশ বিশাল বিশাল অবকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিন্তু এসবের অগ্রগতি মন্থর। এর গতি বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যমান বিধিবিধান। এগুলোর বাংলাদেশে ব্যবসার ব্যয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তৃতীয়টি হলো মানবসম্পদ উন্নয়ন। তিনি বলেন, আমাদের বিশাল, সক্ষম তরুণ কর্মশক্তি রয়েছে। তবে তাদের দক্ষতা ও শিক্ষার অভাব রয়েছে। বাংলাদেশ তার জনসংখ্যাগত সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারছে না। এই ধারা চলতে থাকলে দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, জিএনআই ও এইচএআইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বে না। তবে দেশটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকায় ইভিআই স্কোর টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়বে। তবে যাই হোক, বাংলাদেশের আর এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে থেকে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

পথে পথে সমস্যা আর ফাঁদ

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রীর মর্যাদায় অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী আজিজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশী পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা ও বিদেশী ঋণের সুদ হার বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য সমস্যার কারণ হবে।

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এলডিসি শ্রেণি থেকে উত্তরণ ঘটানোর পর বাংলাদেশ প্রতি বছর ২.৭ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয় হারাবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ৪০টিরও বেশি দেশে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পেয়ে থাকে। এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটানো হলে অতিরিক্ত ৬.৭ ভাগ শুল্ক দিতে হবে। আর অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার না থাকায় রফতানি ৫.৫-৭.৫ ভাগ কমে যেতে পারে।

সিপিডির অর্থনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন অথনৈতিক ও বাজার বৈচিত্র্যকরণ করা। আমাদের রফতানি ঝুড়ি প্রায় পুরোটাই তৈরী পোশাককেন্দ্রিক। ‘উন্নয়নশীল’ মর্যাদা অর্জনের জন্য এটি ভালো নয়।

তিনি আরো বলেন, নতুন নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য অবাধ বাণিজ্য চুক্তির দিকে নজর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে চীন, তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও ভারত হতে পারে এ দিক থেকে সম্ভাবনাময় দেশ।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হার অর্জনের জন্য বাংলাদেশের সামাজিক অবকাঠামো সামর্থ্য বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এটি করা না হলে বাংলাদেশ ‘মধ্য আয়ের ফাঁদে’ পড়ে যাবে। তিনি বলেন, অনেক দেশ নিম্ন মধ্য আয়ের মর্যাদায় ডুবে রয়েছে, তারা এ থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারছে না।

গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক গোলযোগের সম্ভাব্য প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকার পরিবর্তনের ফলে উন্নয়ন রেখায় তেমন প্রভাব পড়ে না।

380 ভিউ

Posted ২:৪৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com