শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতি সমর্থন করায় অসন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র!

মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২
112 ভিউ
বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতি সমর্থন করায় অসন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র!

কক্সবাংলা ডটকম(৯ আগস্ট) :: তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংকে ‘এক চীন নীতি’তে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি আরো কিছু বলেছে কিনা, তা আকারে ইঙ্গিতে জানতে চাইল যুক্তরাষ্ট্র। সরাসরি এ বিষয়ে ঢাকার কাছে জানতে না চাইলেও তাদের কথায় অসন্তুষ্টির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

প্রসঙ্গত, তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরা এবং এ ব্যাপারে ঢাকার সমর্থন নিশ্চিত করে ১৭ ঘণ্টার সফর শেষে গত রবিবার বেলা পৌনে ১১টায় ঢাকা ছেড়ে গেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

ওই সময় ঢাকা সফরে ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসনও। পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন গতকাল সোমবার মিশেল জে সিসনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মঙ্গলবার মিশেল জে সিসন কুয়েতের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বৈঠকে তারা (সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এটা তোলেননি। তারা যেটা বলেছেন, জাতিসংঘ মূল সনদের যে বিষয়গুলো রয়েছে সেটাতে আমরা যেন থাকি, তারাও রয়েছে। জবাবে বলেছি, শুধু জাতিসংঘ কেন, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের মূলনীতিগুলো আছে সেগুলোর বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট

প্রতিশ্রæতি রয়েছে এবং আমরা চাই জাতিসংঘের মূলনীতিগুলো যেন সবাই মেনে চলে। চীন কিংবা তাইওয়ান নিয়ে তারা কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে এটা ঠিক, পরাশক্তিগুলো একেক সময় একেক রকম কথা বলে। তখন দুদিক থেকেই কাটে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে থাকলে তো যুক্তরাষ্ট্র নারাজ হয়- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে আছি মানে ‘এক চীন’ নীতিকে সমর্থন করি। এজন্য যদি অন্য কেউ নাখোশ হয় তাহলে তাদের ম্যানেজ করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব এখন যে অবস্থায় আছে তাতে এক পক্ষ নেয়া হয়েই যায়। কিন্তু আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বহুপক্ষীয় বিষয় নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশেল জে সিসন এবার ঢাকা সফরে আসেন। পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকে উভয় দেশের যৌথ অগ্রাধিকারমূলক বিষয় বিশেষ করে, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্পর্কিত বিষয়াবলি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্পর্কে আলোচনা হয়।

আলোচনায় তাইওয়ান এবং চীন প্রসঙ্গ কীভাবে এলো তার ব্যাখ্যা পররাষ্ট্র সচিব দেননি। তবে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এ ইস্যুতে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের কাছে জানতে চেয়েছিল, ‘এক চীন নীতি’র বাইরে বাংলাদেশ চীনকে আরো কিছু বলেছে কিনা। এর জবাবে পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘের মূলনীতিগুলোর কথা বলেছেন। জাতিসংঘের ওপর বাংলাদেশের আস্থা রয়েছে। আমরা চাই জাতিসংঘ আরো কার্যকর ভূমিকা নিক। তার মতে, চীনকে বাংলাদেশ এমন কিছু বলেনি যাতে যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিসন গতকালের বৈঠকে মূলত আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) মহাসচিব পদে আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থী ডরিন বগডান-মার্টিনের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন চেয়েছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবরের সম্মেলনে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডরিন বগডান-মার্টিন নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন আইটিইউয়ের ১৫৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব। ওই নির্বাচনে মহাসচিব পদে রশিদ ইসমাইলভকে মনোনয়ন দিয়েছে রাশিয়া। অবশ্য এর বাইরেও তার ঢাকা সফরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

আইটিইউয়ের ভোটে বাংলাদেশ কি যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, এখনো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র যেমন তাদের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চেয়েছে, তেমনি আমরাও তাদের কাছে ইউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ভোটের জন্য সমর্থন চেয়েছি।

এ বিষয়ে শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি শেষ হওয়া আসিয়ান সম্মেলনে রাশিয়া মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আবার গত রবিবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফরে এসেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোরালো কোনো বক্তব্য দেননি। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি জটিল থেকেই যাচ্ছে। সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইটিইউয়ের ভোটে সমর্থন আমেরিকা না রাশিয়াকে দেবে তা চিন্তা করা উচিত বাংলাদেশের।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সিসনের সঙ্গে বৈঠকে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে তার এই সফরটি দ্বিপক্ষীয় না থাকায় নিষেধাজ্ঞার ইস্যুতে আলোচনা বেশি এগোয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে একটি আইনি প্রক্রিয়ায় র‌্যাবের বিষয়টি এগুচ্ছে। এখানে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সরাসরি কাজ করার সুযোগ নেই।

আমরা সিসনকে বলেছি, আমরা তাদের সিস্টেমেই কাজ করতে চাই। এরই মধ্যে অনেক উন্নতিও আমরা দেখেছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে আইনি ফার্ম আছে তাদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি। বরং এ ব্যাপারে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়টিও উঠে আসে এবং এর সঠিক প্রয়োগ দেখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ আইনের মাধ্যমে কেউ যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে নজর রাখবে বলে ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমাদের যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ত্রæটিগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি এবং তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গেও আলোচনা করেছে। আমরা চাই এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে প্রয়োগটা সেখানে যেন কোনো ধরনের অসঙ্গতি না থাকে। সেক্ষেত্রে কারো যেন ক্ষতির মুখে না পড়তে হয়। এ ব্যাপারে আমরা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করেছি।

তিনি বলেন, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) আমরা বলেছি, এ ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। আমরাও চেষ্টা করব, যদি কোনো ধরনের অ্যাবিউজড থাকে সেটাকে মিনিমাইজ করতে এবং আমাদের রিভিউর কিছু কিছু কাজও হচ্ছে।

মোমেন বলেন, তার সঙ্গে বহু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনায় বহুপক্ষীয় বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। সামনে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আছে। সেখানকার বিভিন্ন ইভেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে; সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো কোনো ইস্যুতে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমাদের যে সাকসেস আছে, তারা সেখানে প্রশংসা করেছে। আমরাও তুলে ধরেছি, কোভিডের সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।

তিনি বলেন, যদিও এখন সারা বিশ্ব ইউক্রেন সংকটের কারণে একটা দৌড়ঝাঁপের মধ্যে পড়েছে। আমাদেরও পড়তে হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তারা বলেছে ভাসানচরে তাদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। আমরা প্রস্তাব করেছি, আইসিজেতে যে বিচার প্রক্রিয়া আছে, সেখানে যেন তারা সহায়তা করে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আমরা বলেছি, এটার মূল সমাধান হবে তারা যদি রাখাইনে ফিরে যেতে পারে।

112 ভিউ

Posted ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com