মঙ্গলবার ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বাংলাদেশ দীর্ঘ ছুটিতে যে সব সঙ্কটে পড়বে

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০
62 ভিউ
বাংলাদেশ দীর্ঘ ছুটিতে যে সব সঙ্কটে পড়বে

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ মার্চ) :: করোনাভাইরাসের কারণে সরকার ১০ দিনের লম্বা সাধারণ ছুটি দিয়েছে। আগামী ২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনের ছুটি হয়েছে। তবে অনেকে মনে করছে যে, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ যদি শেষ পর্যন্ত আরো বাড়ে, তাহলে এই ছুটির মেয়াদ আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।

এই ছুটির যৌক্তিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই কারণ, সামাজিক নৈকট্য হলো করোনাভাইরাস সংক্রমণের সবথেকে সহজ অনুষঙ্গ এবং সামাজিক আরস শারীরিক ভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়াই হলো করোনাভাইরাস মোকাবেলার সবথেকে বড় হাতিয়ার এবং এটা সারাবিশ্বেই এখন প্রমাণিত হয়েছে।

আর একারণে সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ছুটির কোন বিকল্প ছিলনা। তবে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির একটি দেশে এরকম ছুটির ধাক্কা সামলাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এই ছুটির ফলে সাদামাটা চোখে বাংলাদেশ কতগুলো মৌলিক সমস্যায় পড়বে।

অনিশ্চয়তার মুখে গার্মেন্টস শ্রমিকরা:

এই ছুটির কারণে গার্মেন্টস শ্রমিকরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস শিল্পে সঙ্কট দেখা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, বাংলাদেশের অনেকগুলো অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে এবং এর ফলে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে গার্মেন্টস শিল্প। তারপরে এই ছুটির ফলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। অনেক মালিকই তাঁদের বেতন দিতে পারবে না এবং যেহেতু এই ছুটি ২৬ তারিখ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত হচ্ছে, কাজেই এই সময়ের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বুঝিয়ে দেয়া ইত্যাদি একটি বড় ইস্যু। অনেক গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে তাঁদের অনেকেই এখন এই সময়ের মধ্যে বেতন দেয়ার জন্য প্রস্তুত নন।

গার্মেন্টস শিল্পটাই সঙ্কটের মুখে:

আমাদের গার্মেন্টস শিল্পটাই সঙ্কটের মুখে পড়বে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টসগুলো ক্রেতা হারাতে শুরু করেছে, ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করছে। তাঁর মধ্যে এই ছুটির মধ্যে গার্মেন্টসগুলো যে স্থানীয়ভাবে কিংবা নতুন বাজার খোঁজার জন্য কাজ করবে সেটাও বাঁধাগ্রস্ত হবে। ফলে গার্মেন্টস শিল্প একটা বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। অনেক মালিক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন, অনেকে আর্থিক দেনার দায়ে দেউলিয়া হয়ে যাবে বলে গার্মেন্টস মালিকরাই আশঙ্কা করছেন।

ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পের কর্মীদের বেতন:

২৬শে মার্চ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে। আমরা জানি যে, প্রতিটি ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোই মাসের শুরুর দিকে বেতন দিয়ে থাকে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ১ থেকে ৫ তারিখ এবং মধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দিয়ে থাকে। এর ফলে যে সমস্যা হবে, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা কাজ করে, তাঁরা বেতন সঙ্কটে পড়তে পারে। কারন যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং গত বেশ কয়েকদিন যাবত করোনা আতঙ্কে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে একটি বড় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মচারীদের বেতন দিবে না বা দিতে পারবে না বলেও আশঙ্কা করছে কর্মচারীরা।

সঙ্কটে পড়বে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা:

শুধু কর্মচারীরাই নয়, সঙ্কটে পড়বে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরাও। যারা প্রতিদিন যুদ্ধ করে নিজের প্রতিষ্ঠান চালান, টানা অনিশ্চয়তার কারণে তাঁদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির মুখে পড়বে। অনেক খুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

চাকরি হারাবে অনেকে:

এই দীর্ঘ ছুটির কারণে যারা খন্ডকালীন চাকরি করেন, শিক্ষানবিস-তাঁদের অনেকেই চাকরি হারাবেন এবং এই ছুটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশে অনিবার্যভাবে বেকারত্ব বাড়বে।

তারল্য সঙ্কট দেখা দিবে ব্যাংকিং খাতে:

এই ছুটি দীর্ঘায়িত হলে তারল্য সঙ্কট দেখা দিবে ব্যাংকিং খাতে। ব্যবসায়িক লেনদেন না থাকলে ব্যাংকে টাকা আসবে না এবং ইতিমধ্যেই ব্যাংকগুলোর মধ্যে আর্থিক সঙ্কট দেখা গেছে এবং এই ছুটি লম্বা হলে এই সঙ্কট আরো বাড়বে। ফলে ব্যাংকগুলো আর্থিক সঙ্কটে পড়বে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো ব্যহত হবে:

এই ছুটি দীর্ঘায়িত হলে সরকারের মেগা প্রজেক্টগুলো সঙ্কটের মুখে পড়বে। ইতিমধ্যে করোনার প্রকোপে উন্নয়ন কাজ শিথিল হয়েছে। এই ছুটি দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো ব্যাপকভাবে ব্যহত হবে বলে মনে করছেন সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হবে:

এই ছুটির ফলে খাদ্যশস্যের যে স্বাভাবিক প্রবাহ, সেই প্রবাহ ব্যহত হবে। ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হবে। ইতিমধ্যে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে এবং এই উর্ধ্বগতি আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পহেলা বৈশাখ, রমজান বাধাগ্রস্ত হবে:

বাংলাদেশের সবথেকে বড় উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। এতে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ নির্বিশেষে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এবার পহেলা বৈশাখের উৎসব রাঙাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এরপর শুরু হবে পবিত্র রমজান এবং এই রমজানে একদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সঙ্কট একটি বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করবে। এর ফলে জনগণের মাঝে হতাশা বাড়তে পারে।

আর সর্বশেষ হলো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থতির অবনতি। একটা রাষ্ট্রে যখন অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দেয়, যখন বেকারত্ব বাড়ে, তখন অনিবার্যভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থতির অবনতি ঘটে। আর এরকম অবনতি ঘটার সম্ভাবনা বাংলাদেশে রয়েছে।

62 ভিউ

Posted ২:৩১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com