মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২রা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বাংলা ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর : কি পেলাম, কি হারালাম,আরেকটি আন্দোলনের ডাক দেবে কারা?

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
40 ভিউ
বাংলা ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর : কি পেলাম, কি হারালাম,আরেকটি আন্দোলনের ডাক দেবে কারা?

কক্সবাংলা ডটকম(২১ ফেব্রুয়ারি) :: আজ বাংলা ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠির চোখ-রাঙ্গানি ও প্রশাসনের ভয়-ভীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল। সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলিতে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তাদের জীবনের ত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি আজ পেয়েছে মাতৃভাষা বাংলাকে।

একুশের গল্প হৃদয় কাঁদায়
প্রাণ দিয়েছে আমার ভাই
বরকত রফিক সালাম জব্বার
তাঁদের কথা ভুলি নাই।

কবি শাহ্জাহান সিরাজের এ কবিতার মাঝে ফুটে ওঠে ২১ ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্য। কবি তার কবিতার মাধ্যমে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রাপ্তির কঠোর আন্দোলনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বাংলা ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরে আমরা কিছু পেলাম নাকি হারালাম তার একটি ছোট চিত্র তুলে ধরবো।

ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরে আমরা যেমন পেয়েছি অনেক কিছু তেমন অনেক হারিয়েছি। আমরা পেয়েছি মাতৃভাষা বাংলাকে। মা কে মা বলে ডাকার অধিকার। মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার। এই বাংলায় ৩০ কোটির বেশি মানুষ এখন কথা বলছে। বাংলা ভাষা পেয়েছে পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম ভাষার মর্যাদা। সব থেকে বড় মর্যাদা দেয়া হয়েছে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা। এই মর্যাদার পরে সারা বিশ্বে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। একজন বাংলা ভাষাভাষি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া।

অন্যদিকে হারিয়েছি বা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছি নিজের মাতৃভাষা বাংলাকে। হারিয়েছি অনেক ভাষা সৈনিককে। তাদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে আমরা ভাষা দিয়ে এতো কিছু অর্জন করেছি তাহলে হারাচ্ছি কিভাবে। হারাচ্ছি বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের সম্মানকে। বাংলার প্রতি অবহেলা দিনের পর দিন আমাদের বাড়ছে। শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত, এমন কোনও জায়গা নেই যেখানে বাংলার অবহেলা হচ্ছে না। ফলে আমরা দিনের পর দিন হারিয়ে ফেলছি আমাদের প্রিয় এই বাংলা ভাষাকে। উপেক্ষার ফলেই ক্ষতির মুখে আমাদের এই ভাষা।

ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই আমাদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা হয়ে যায় দ্বিগুণ তিনগুণ। কিন্তু আর সারা বছর কোনও খরব থাকে না। এটি আসলে ভাষার প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ। বাংলাকে ভালোবাসতে হবে সব সময়।

এই ভাষা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে বাংলা শব্দের বানান ও উচ্চারণ সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বহুদিন আগেই। এই বিষয়গুলো মেনে চললে বাংলা ভাষা আবার পাবে তার আসল রুপ এবং আমাদের ব্যবহারের ফলে বেঁচে থাকবে যুগের পর যুগ।

কারা আরেকটি ভাষা আন্দোলনের ডাক দেবে?

২১ ফেব্রুয়ারি এখন নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে! ইংরেজি ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত বাঙালিরা গভীর ঘুম থেকে হঠাৎ একুশের চেতনায় আড়মোড়া ভেঙে জেগে ওঠে! ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র লালিত লুটেরা ধনিক শ্রেণির রক্ষা ঢাল সংবাদ মাধ্যমেগুলো সুবিধাভোগী অথবা কুপমন্ডক লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী,  সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের দ্বারা সংবাদপত্র,  রেডিও, টিভি তথা গণমাধ্যমে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে হৃদয় উজাড় ভালবাসা আর চেতনা উচ্চকিত লেখা লিখিয়ে বা কথা বলিয়ে একমাস ভাষাপ্রেম, দেশপ্রেম, জনপ্রেমের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে, চেতনা ব্যবসা সম্পন্ন  করে আবার এক বছরের জন্য ঘুমিয়ে পড়ে।

আশির দশক পর্যন্ত যে একুশের বইমেলা ভাষা শহীদদের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ভালোবাসা আর অকৃত্রিম শোকের ভাবগাম্ভীর্যের প্রতীক ছিল, বাংলা ভাষা সাহিত্যের সৃজনশীল বিকাশ ও সমৃদ্ধির প্রেরণার উৎস ছিল সেই মহান বইমেলা এখন অযোগ্য, অপদার্থ, ভন্ড, প্রতারক, ধান্ধাবাজ, মোসাহেব, লোভাতুর ছেঁছড়াদের মহাপরিচালনায় মাসব্যাপী কপট প্রেমের জনারণ্য, একটিও বই না কেনা লীলাবাজদের ঘোরাঘুরি, হাই- হ্যালো, ডার্লিং,  ফ্রেন্ডস, অসভ্য আড্ডা, অখাদ্য গ্রন্থ প্রসবের প্রজনন মৌসুম, দখলবাজদের স্টল বরাদ্দের মাতম, প্রতিদিন  মধুলোভী বুদ্ধিজীবীদের অর্থবিত্ত, পদ-পদবী, পুরস্কার, প্লট, বিদেশ ভ্রমণসহ নানান সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির চাটুকারীতার বক্তৃতা সেশন। এক কথায় একুশের নামে তরুণ প্রজন্ম এবং দেশ ও জাতিকে এক বিজাতীয় বিনোদনের দিকে ঠেলে দিয়ে একুশের মূল চেতনা ধ্বংস করার মহা উৎসব।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল রাষ্ট্রভাষা আর সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন। কিন্তু  উনসত্তুর বছরেও তা সম্ভব হয়নি।  বরং মনে প্রাণে বাঙালি হওয়া,  বাংলা ভাষায় কথা বলা, শিক্ষার মাধ্যম বাংলা করাকে  হীনমন্যতা ভাবে উচ্চাভিলাষীরা। সর্বস্তরে ইংরেজি প্রতিষ্ঠাকেই তারা তাদের মোক্ষ লাভের একমাত্র উপায় মনে করে। বিজাতীয়, বিভাষীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিই আজ তাদের আরাধ্য। আমাদের মহান জাতীয় সংসদ, জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের দেবতাগণ, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার অধিকাংশ কুশিলববৃন্দ শুদ্ধ বাংলা লিখতে, পড়তে, বলতে পারে না!

হায় আমার মাতৃভাষা! আ`মরি বাংলা ভাষা! তুমি আজ হাঁটছো ভূতের পায়ে উল্টো পথে! কে তোমাকে রক্ষা করবে আজ? কোথায় পাবে আজ তোমাকে `মা` ডাকা সন্তান-সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরকে? কে তোমার জন্য আবার বুকের রক্ত ঢেলে দেবে? কারা আরেকটি ভাষা আন্দোলনের ডাক দেবে?

40 ভিউ

Posted ৪:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com