রবিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে কর্মী সংকট : হতাশার সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভ

শনিবার, ০২ মার্চ ২০১৯
114 ভিউ
বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে কর্মী সংকট : হতাশার সঙ্গে বাড়ছে ক্ষোভ

কক্সবাংলা ডটকম(১ মার্চ) :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বোচনের পরে বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে কর্মীসংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তায় কিংবা হলরুম কোনো কর্মসূচিতেই শোরগোল বা হাততালি দেয়ার মতোও কর্মী উপস্থিতি নেই। দর্শক সারির পেছনের চেয়ারগুলোও পড়ে থাকে ফাঁকা। কোনো কোনো দিন দেখা যায় ¯্রােতার চেয়ে বক্তার সংখ্যা বেশি থাকে। অল্পসংখ্যক কর্মীর মধ্যেও আবার কেউ কেউ মাঝপথে বক্তব্য থামিয়ে নেতাদের ফেলছেন তোপের মুখে। এ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

বিএনপির কর্মী পর্যায়ের নেতারা জানান, নির্বাচনে ভরাডুবি, নির্বাচনের পরে দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি না আসায় পুরোপুরি মনোবল হারিয়ে ফেলেছেন তারা। তারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে নির্বাচন হয়ে গেল, কিন্তু ফল হলো না। তার মুক্তির ব্যাপারেও জোড়ালো কর্মসূচি নেই। দলের ওপর আর ভরসা করতে পারছেন না তারা। ঘরের ভেতরে লোক দেখানো কর্মসূচিতে তাদের আগ্রহ নেই। এমনই তো মামলা হামলায় সব শেষ, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ, হাতে টাকা-পয়সা নাই। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়। এভাবে কষ্টে থেকে টিভিতে চেহারা দেখানো কর্মসূচি পালন করে কি হবে, না মুক্তি পাবেন ম্যাডাম, না ফিরবে দলের অবস্থা। এর চেয়ে দাবি আদায় রাজপথে কর্মসূচিতে থাকতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, পকেট কমিটির কারণে যোগ্যরা স্থান পায় না দলে। নেতৃত্বের পুনর্গঠন নেই। দলীয় কর্মসূচিতেও কর্মীদের চিন্তার প্রতিফলন হচ্ছে না। কর্মসূচিতে সমন্বয়েরও ভয়াবহ ঘাটতি রয়েছে। অনেক কর্মসূচিতে এখন সিনিয়র নেতারা নিজেরাই যান না অভ্যন্তরীণ দ্ব›েদ্বর কারণে। এ ছাড়া নেতারা কর্মীদের কর্মী না ভেবে কর্মচারী মনে করেন। কর্মীদের কর্মচারী ভাবা যেদিন বন্ধ হবে, সেদিন বিএনপির সুদিন ফিরে আসবে।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভায় হলরুমের দর্শকসারির অনেক চেয়ারই ছিল ফাঁকা। শুধু তাই নয়, ডায়াসেরও কয়েকটি চেয়ার ফাঁকা ছিল। ওই সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন বক্তব্য দেন তখন কর্মীরা তাদের বক্তব্যে বাধা দিয়ে জানতে চান, কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নেই কেন? বিএনপির কমিটি ভেঙে দেয়ারও দাবি জানান তারা।

গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর আলোচনা সভায়ও ছিল না নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিতেও আগের মতো দলটির নেতাদের উপস্থিতি ছিল না। এর বাইরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মসূচিতেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি হতাশাজনক। ১৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মানববন্ধনে সংগঠনটির অনেকেই অংশ নেননি। চলতি মাসে জাতীয়তাবাদী তাঁতি দলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতেও হাতেগোনা কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

২২ ফেব্রুয়ারি দলের গণশুনানিতে সরকারবিরোধী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও খোদ বিএনপিরই অনেক সিনিয়র নেতা তাতে সাড়া দেননি। ঐক্যফ্রন্টের মিত্র ২০ দলীয় জোটের ছিলেন মাত্র তিনজন। এর বাইরে বাম জোটের কেউই যাননি। সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষের শতাধিক প্রার্থী। এমনকি কর্মসূচিতে যারাও এসেছিলেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঐক্যফ্রন্টের নীতিনির্ধারকদের দাঁড় করিয়েছেন কাঠগড়ায়। কেউ বা কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যর্থতার জন্য দাবি করেছেন আরেকটি গণশুনানির।

দলীয় কর্মসূচিতে কর্মীশূন্যতায় হতাশা ব্যক্ত করে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেন, খুব শিগগিরিই অবস্থার পরিবর্তন হবে। অন্তত ২১ হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তার রয়েছেন, কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার না দেখিয়ে আটক রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় তাদের মনোবল আগের মতো চাঙ্গা থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। নেতারা জানান, নির্বাচনের সময়ে মাঠের নেতাকর্মীদের যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে এখন তাদের তাদের বিশ্রাম প্রয়োজন। আগামীতে অবশ্যই কঠোর কর্মসূচি আসছে, তাদের মাঠে থাকতে হবে। তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় করেই সময় মতো কর্মর্সূচি দেয়া হবে। পাশাপাশি সংগঠন পুনর্গঠন, কর্মীসমাবেশও করা হবে, ডাকা হবে নির্বাহী কমিটির সভা। তাদের মামলা নিম্পত্তির ব্যাপারে দলীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। নেতাকর্মীরা আবারো উজ্জ্বীবিত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, খারাপ সময় যাচ্ছে। এখনো মামলা ও গ্রেপ্তার চলছে। কর্মসূচিতে রয়েছে পুলিশের হয়রানি। এর মধ্যেও অনেকে আসছেন। মানুষের বাস্তব অবস্থা তো বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া কর্মীরা আরো জোরালো আন্দোলন চায়। আমরা তাদের মতকে শ্রদ্ধা জানাই। আমরা সময়ের অপেক্ষা করছি।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতউল্লাহ বলেন, মাঠকর্মীদের মনোবল ভেঙে গেছে। নির্বাচনের আগে ও পরে তাদের উপরে যে পরিমাণ হামলা-মামলা হয়েছে তাতে তারা বিপর্যস্ত। তার উপরে কেন্দ্রীয় নেতারা যেভাবে খোঁজখবর নেয়ার কথা ছিল তা নেননি। তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। মাঠের কর্মীদের উজ্জ্বীবিত করতে কর্মীসমাবেশ প্রয়োজন। তাদের দিক-নির্দেশনা প্রয়োজন। নেতারা কর্মীদের কাছে পৌঁছতে না পারলে কিছুদিন পরে দলীয় কর্মীসূচি পুরোপুরিই কর্মীশূন্য হয়ে পড়বে।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আমাদের মধ্যে উচ্ছ¡াস নেই, কষ্ট আছে। খালেদা জিয়া কারাগারে না থাকলে পার্টি অফিস নেতাকর্মীতে সয়লাব হয়ে যেত। তারেক রহমান দেশে নেই। সুতরাং আমাদের কারোর মন ভালো নেই। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে। নেতাকর্মীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারেন না। যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীরা বের হচ্ছেন- এটাই তো অস্বাভাবিক বিষয়। আশা করছি, নতুন সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে আমরা সংকট কাটিয়ে উঠব।

হতাশার সঙ্গে ক্ষোভ বাড়ছে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের কারণে হতাশার সঙ্গে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে নতুন করে বিএনপিতে ক্ষোভও বাড়ছে। এ অবস্থা দলটির স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূল সর্বত্রই বিরাজমান। দলের আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বৈঠকগুলোয় কোনো কোনো নেতা ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। অনেক সিনিয়র নেতা রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও ভাবছেন।

এ অবস্থায় দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেতারা দল পরিচালনায় একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। চূড়ান্ত হলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হবে বলে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপিতে ক্ষোভ বাড়া তো স্বাভাবিক। তাদের নেতারা তো আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলন ও প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক কর্মসূচি করা ছাড়া আর কোনো কর্মসূচিই করেনি। এ অবস্থায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও কৌশল পাল্টাতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

চলমান পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানও তৃণমূলের নেতাদের মতামত জানতে ৮১ সাংগঠনিক জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকেছেন। পর্যায়ক্রমে স্কাইপিতে সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন ইউনিটের সাংগঠনিক অবস্থাসহ এলাকার প্রকৃত চিত্র ও করণীয় কী হতে পারে এ সম্পর্কে জানতে চাইবেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহম্পাদকদের উপস্থিতিতে তারেক রহমান জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে  নিশ্চিত করেছেন দুই সহসাংগঠনিক সম্পাদক।

দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ও এক ভাইস চেয়ারম্যান যোগাযোগ করলে তারা বলেন, চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়াকেই সামনে আনতে হবে। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তাই তাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। এ কর্মসূচি বিএনপিকেই দিতে হবে। এখন যত কর্মসূচি দেওয়া হয়, সেখানে হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অথবা ২০-দলীয় জোটের ব্যানারে। সম্প্রতি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানিতেও বেশ কয়েকজন ধানের শীষের প্রার্থীও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দাবি করেছেন।

দলটির একাধিক নেতা বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতের রায়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি আছেন। তার অবর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। তখন থেকেই তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির নেতাদের সমন্বয়ে যৌথ নেতৃত্বে দল পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর ‘যৌথ নেতৃত্ব’ দৃশ্যমান দেখা মিলছে না। স্থায়ী কমিটির কিছু নেতাসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও নিজেদের মধ্যে বলতে শুরু করেছে খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এ জন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও তারা দায়ী করতেও ছাড়ছেন না।

সম্প্রতি নির্বাচনের পর যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে হামলার শিকার নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শনে গেলে সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহানের নেতৃত্বে যাওয়া প্রতিনিধি দলটি স্থানীয় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে। নেতাকর্মীরা প্রশ্ন করেন ‘খালেদা জিয়া কবে মুক্তি পাবেন, কী করছেন আপনারা, আন্দোলনে যাচ্ছেন না কেন? না খেয়ে পালিয়ে থাকতে থাকতে তো এমনিতেই মরতে বসেছি। আন্দোলনের ডাক দেন, রাস্তায় গিয়ে মরি। আন্দোলনে আমরা তো ব্যর্থ হইনি, আপনারা (কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ করে) ব্যর্থ হয়েছেন’। একই ধরনের ক্ষোভের মুখে রাজধানী ঢাকার কর্মসূচিতেও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পড়তে হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাকালে তখন নেতাকর্মীরা বলে ওঠেন কর্মসূচি দেন।

পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম নেতাকর্মীদের বলেন ‘দাঁড়ান, দাঁড়ান। চাইলেই কর্মসূচি দেওয়া যায় না। কর্মসূচি পালন করতে হবে।’ নেতাকর্মীরা তখন বলেন, ‘হয়তো কর্মসূচি দেন, না হয় বিএনপি ভেঙে দেন।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের যে ক্ষোভ ও ব্যথা, এটি আমরা বুঝি। একই অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও নেতাকর্মীদের ক্ষোভের কবলে পড়েন। তৃণমূলের এই ক্ষোভের মাঝে দল পুনর্গঠন কাজ শুরু করেছে বিএনপি। দলটির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল এবং কৃষক দলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ড্যাব, এ্যাব ও বিএনপির বিদেশবিষয়ক উপকমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনপরবর্তী সময়ে হামলা মামলা ও গ্রেপ্তার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, এ কমিটি গঠন বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটি অবগত ছিল না। এসব ঘটনায় স্থায়ী কমিটির নেতারা নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন।

সিনিয়র এসব নেতা মনে করেন, দলের কোনো পর্যায় থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। যার কারণে উল্লিখিত কমিটিগুলোতে যোগ্য নেতৃত্ব না এসে ব্যক্তিবিশেষের কমিটি হয়েছে। এটি আর হতে দেওয়া যায় না। এমনটি চলতে থাকলে তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। স্থায়ী কমিটির নেতারা এ চিন্তা থেকে দল পরিচালনায় তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত সপ্তাহে একটি বৈঠকও হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরও একটি বৈঠক হতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে তারেক রহমানের সঙ্গে অনেক নেতারই কথা হয়। তাদের একটি অংশ নিজেদের তারেক রহমানের বিশেষ লোক দাবি করে নানাভাবে দলের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে। বাস্তবিক অর্থে এসব চিহ্নিত নেতাকর্মীদের কাছে অপছন্দের। নেতারা মনে করেন, এ মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা না গেলে দলের মধ্যে নেতাদের প্রতি কর্মীদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকবে।

114 ভিউ

Posted ১:২১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০২ মার্চ ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com