সোমবার ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র : তারা কি সরকারের এজেন্ট?

মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১
118 ভিউ
বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র : তারা কি সরকারের এজেন্ট?

কক্সবাংলা ডটকম(৯ ফেব্রুয়ারী) :: প্রথমে মনে করা হয়েছিল কল্যাণ পার্টির নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের যে উদ্যোগ সেটি সবকারের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে একত্রিত করে কূটনীতিকদের সঙ্গে যে মিথস্ক্রিয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন সেই উদ্যোগকে সরকারও সন্দেহের চোখে দেখেছিল। এবং সরকার মনে করেছিল এটি ষড়যন্ত্রের নতুন ধারা। কিন্তু সময় যতই যাচ্ছে ততই সরকার নয় বরং এই ঘটনাটি বিএনপিকে উদ্বিগ্ন করছে। আজকে অনুষ্ঠিত বিএনপি`র একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে চারজন নেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বিএনপিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপি নেতা মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, এলডিপি নেতা কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমেদ এবং শওকত মাহমুদ। এদের বিরুদ্ধে বিএনপি`র প্রধান অভিযোগ হলো যে, বিএনপি`র চিন্তা চেতনার বাহিরে গিয়ে এরা আলাদা একটি প্লাটফর্ম করতে চাইছেন এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক হয়ে বৈঠক করছেন এবং বিএনপি`র যে নির্ধারিত কর্মসূচি, সেই কর্মসূচির বাইরে গিয়ে তারা বিভিন্ন মহলকে সংগঠিত করতে চাইছেন। এবং তাদের এই পদক্ষেপকে বিএনপি`র অনেক নেতাই মনে করছেন বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র হিসেবে।

গত কিছুদিন ধরে বিএনপি`র মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা এবং অস্বস্তি চলছিল। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোটকে কার্যকর না করা, সরকার বিরোধী আন্দোলন না করা, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন না গড়ে তোলা এসব নিয়ে বিএনপি`র মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা ও বিভক্তি চলছিল। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। এমন প্রক্ষাপটে মেজর (অবঃ) হাফিজ এবং শওকত মাহমুদ এই দুজন ২০ দলীয় জোটের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এই বিক্ষোভ মিছিল করে তারা কারণ দর্শানোর নোটিশ এর শিকার হয়েছিলেন। সেখান থেকে বিতর্কের শুরু হয়।

এরপর কর্ণেল অলি বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে তার বাসভবণে এবং বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে কল্যাণ পার্টির উদ্যোগও অবসবপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে যে ঐক্য তৈরি করা হয়েছে সেই ঐক্য বিএনপি ভাঙ্গারই একটি ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ। আর এরকম পরিস্থিতিতে এদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বিএনপি যাবে কিনা বা যাওয়া উচিৎ কিনা তা নিয়ে আলোচনা বসছে বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ।

লন্ডন থেকে বিএনপি`র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াও যুক্ত হয়েছিলেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন, কল্যাণ পার্টির যে উদ্যোগ সে উদ্যোগের বিএনপি`র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এ ধরনের যদি কোনো মোর্চা করতে হয় তাহলে বিএনপি সেই মোর্চা করার জন্য সক্ষমতা রাখে এটির জন্য কল্যাণ পার্টিকে ভাড়া করতে হবে না। বিএনপি`র অন্য নেতারা বলছেন যে, এধরনের উদ্যোগের ব্যাপারে বিএনপি`র সঙ্গে নূন্যতম আলাপ আলোচনাও করা হয়নি।

বিএনপি`র মধ্যে একটি ধারা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে যারা মনে করছে যে, ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করতে হবে এবং ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করার মধ্য দিয়েই সরকার বিরোধী আন্দোলনের সূচনা করতে হবে। কিন্তু সেই কাজটি করার ক্ষেত্রে বিএনপি`র বর্তমান নেতৃবৃন্দ ব্যার্থ হচ্ছে। বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন, কল্যাণ পার্টির নেতা মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, কর্ণেল অলি`র যে উদ্যোগ, আসলে সরকারের একটি নীল নকশার অংশ এবং একটি সরকার বিরোধী মোর্চা করার জন্য তারা এই উদ্যোগ নিচ্ছে যেখানে মূল লক্ষ্য হলো বিএনপিকে ভেঙ্গে ফেলা।

বিএনপি`র একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি বক্তৃতায় বলেছেন যে, দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা দরকার। এই শক্তিশালী বিরোধী দলের জন্য সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপিকে ভেঙ্গে একটি বিরোধী দল হবে কিনা এ নিয়েও বিএনপি`র মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। তাই প্রথম থেকে কল্যাণ পার্টির উদ্যোগ বিএনপি`র অনেকে আশান্বিত হলেও এখন তারা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখছে।

জাফরুল্লাহ’র ওপর চটেছে বিএনপি

জাফরুল্লাহ’র ওপর চটেছে বিএনপি

ডা. জাফরুল্লাহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা। তিনি বিএনপি ঘরনার একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত। বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাকে বিএনপি’র অন্যতম ‘থিংক ট্যাঙ্ক’ ও মনে করে। করোনা মহামারীর সময় শুরু থেকেই জাফরুল্লাহ’র ওপর ভর করেছিল বিএনপি। করোনা নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে জাফরুল্লাহ যে পথ নির্দেশনা দিয়েছেন সেই পথেই চলেছে বিএনপি।

ডা. জাফরুল্লাহ প্রথমে বলেছিলেন যে, র‍্যাপিড টেস্ট করতে হবে এবং তিনি র‍্যাপিড টেস্টের জন্য ব্যবস্থা করেছিলেন। র‍্যাপিড টেস্টের কিট উদ্ভাবন করেছিলেন। যদিও সেই কিট শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়নি। কিন্তু বিএনপি জাফরুল্লাহ’র সুরেই এই  র‍্যাপিড টেস্টের কথা বলেছিল। ডা. জাফরুল্লাহ করোনা নিয়ে যে সমস্ত পরামর্শ এবং সরকারের সমালোচনা করেছিল সেগুলোই বিএনপি’র নেতাদের মুখে অনুরিত হয়েছিল।

যখন ভ্যাকসিন আসা শুরু হলো তখন ডা. জাফরুল্লাহ এবং ফরহাদ মাজহার, এই দুই জন ভ্যাকসিনের বিরোধিতা করে নানারকম বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছিল। ফরহাদ মাজহার এই ভ্যাকসিনকে ভারতীয় ভ্যাকসিন এবং ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতীক ইত্যাদি বলে নানা সমালোচনা করেছিল।

অন্যদিকে ডা. জাফরুল্লাহ বলেছিলেন যে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করা ঠিক হবে কিনা তা আগে বুঝতে হবে, ভ্যাকসিন কতটুকু মানসম্মত তাও বুঝতে হবে। কিন্তু দুটি কিডনি বিকল হয়ে থাকা একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ডা. জাফরুল্লাহ প্রথম দিন যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম। জাফরুল্লাহ’র এই ভ্যাকসিন নেওয়ার ঘটনাটি বিএনপি’র কেউ জানতোনা।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ডা. জাফরুল্লাহ নিজেই আগ্রহী হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। ভ্যাকসিন নেয়ার পর তিনি বলেছেন যে, এই ভ্যাকসিন ভালো এবং এতে আতঙ্কের কিছু নেই। আপনারা ভ্যাকসিন নিন। ডা. জাফরুল্লাহ’র একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পর তার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ঔষধ নীতি প্রণয়ন ইত্যাদির কারণে স্বাস্থ্যখাতে তাকে একজন অভিভাবক মনে করা হয়। তিনি যখন এই ভ্যাকসিন নিতে বলেছেন তখন ভ্যাকসিন নিয়ে যে বিরোধী পক্ষের যে সমালোচনা সে সমালোচনাগুলো অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ফলে, এখন বিরোধী দল ভ্যাকসিন নিবে কি নিবে না সেই নিয়ে একটা সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি’র নেতারা মনে করছেন যে, ডা. জাফরুল্লাহ যদি ভ্যাকসিন না নিতেন, তাহলে বিএনপি’র নেতারা এই ভ্যাকসিনের সমালোচনা করতে পারতেন এবং ভ্যাকসিন না নেয়ার প্রচারণা বিএনপি’র নেতারা করতে পারতেন। তবে সেটি ঘটেনি। বরং ডা. জাফরুল্লাহ’র এই ভ্যাকসিন গ্রহণের মধ্য দিয়ে ভ্যাকসিনের একটি সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন যে, মন্ত্রী-এমপিরা ভ্যাকসিন নেয়ার মাধ্যমে মানুষ যতটুকু সচেতন হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে ডা. জাফরুল্লাহ’র মতো একজন বিরোধী পক্ষের মানুষের ভ্যাকসিন নেয়ার মধ্য দিয়ে। ডা. জাফরুল্লাহ কেন হঠাৎ করে এই কাজটি করলেন সেটা নিয়ে বিএনপি’র লোকজন বিব্রত এবং তারা এখন জাফরুল্লাহ’র ওপর চটেছেন।

বিএনপি’র একজন নেতা বলেছেন যে, ডা. জাফরুল্লাহ এমন ডিগবাজি দিবেন এটা যদি আমরা আগে জানতাম, তাহলে তার উপর আমরা নির্ভর করতে পারতাম না। এর আগেও ডা. জাফরুল্লাহ বহুবার এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন যেগুলো বিএনপি’র স্বার্থবিরোধী।

যেমন- তারেক জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেছেন, জামাত থেকে বিএনপিকে বিযুক্ত হওয়ার কথা বলেছেন। এই সব কথাই বিএনপির জন্য বিব্রতকর। এখন তিনি এই ভ্যাকসিন নিয়ে বিএনপিকে আরেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন।

118 ভিউ

Posted ২:০১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com