
কক্সবাংলা ডটকম(২০ নভেম্বর) :: ব্যাটে-বলে দারুণ জমে উঠেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর। সিলেটে শুরুর পর ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি২০ লিগটির খেলা চলছে এখন ঢাকায়। এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে লিগ পর্বের প্রায় অর্ধেক ম্যাচ। বাকি আছে আরো ২২ ম্যাচ। এরপর প্লে-অফের গণ্ডি পেরিয়ে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিপিএলের পঞ্চম আসর।
বিগত আসরগুলোর মতো এবারো দেশী-বিদেশী ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। লিগ পর্বের ২০ ম্যাচের পরিসংখ্যানে ব্যাটিংয়ে এগিয়ে বিদেশী ক্রিকেটাররা আর বোলিংয়ে দেশীরা।
টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়াতে চলতি মৌসুমের শুরুতেই বিদেশী খেলোয়াড় কোটা শিথিল রাখার ঘোষণা দেয় বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর অনুরোধে মাঠে সর্বোচ্চ পাঁচজন বিদেশী খেলানোর পাশাপাশি লিগের যেকোনো সময়ে বিদেশী খেলোয়াড় রিক্রুটের অনুমতিও দেয়া হয়। এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে মাঠেও।
শুরু থেকেই এবারের বিপিএলে রাজত্ব চলছে বিদেশীদের। যে দলের বিদেশীরা পারফর্ম করেছে, সেই দলই জিতেছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশীদের টক্কর দিচ্ছে দেশি ক্রিকেটাররাও। তবে সেটা ব্যাটিংয়ে নয়, বোলিংয়ে।
এ মুহূর্তে লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সিলেট সিক্সার্সের শ্রীলংকান ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। ৬ ম্যাচে ৩ হাফ সেঞ্চুরিসহ তিনি করেন ২০৭ রান। তার চেয়ে ৩ রান কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ঢাকা ডায়নামাইটসের ব্যাটসম্যান এভিন লুইস। ৫ ম্যাচে ২ হাফ সেঞ্চুরিসহ এ ক্যারিবিয়ানের সংগ্রহ ২০৪ রান। বোলিংয়ে যুগ্মভাবে শীর্ষে বাংলাদেশের দুই তরুণ পেসার— আবু হায়দার রনি ও আবু জায়েদ চৌধুরী। ৫ ম্যাচে দুজনেরই শিকার ১০ উইকেট করে।
তবে কেবল ৩ ম্যাচে ৯ উইকেট তুলে নিয়ে ২ নম্বরে থাকা পাকিস্তানি লেগ স্পিনার শহীদ আফ্রিদির কাছে রনি-জায়েদরা কতক্ষণ নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিপিএলের গত মৌসুমে ব্যাট হাতে রানের ফুলঝুরি ফুটিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু এবার যেন উল্টো চিত্র। গত আসরের সর্বোচ্চ তিন রান সংগ্রাহক— তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান এখনো নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। পেশির ইনজুরি কাটিয়ে সবে ফিরেছেন তামিম। অন্যদিকে ব্যাট হাতে ধুঁকছেন মুশফিকুর রহিম ও সাব্বিররা।
ব্যাট হাতে স্থানীয়দের নিষ্প্রভতার মিছিলে সেরা ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন কেবল দুজন— ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল হক। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ৫ ম্যাচে ৬০.৩৩ গড়ে ১৮১ রান নিয়ে তালিকার ৩ নম্বরে ইমরুল। তাতে নেই কোনো ফিফটি। সর্বোচ্চ রান ৪৭, অন্যদিকে তালিকার ৫ নম্বরে থাকা মুমিনুল ৬ ম্যাচে করেন ১৫৬ রান।
যদিও রাজশাহী কিংসের হয়ে এ বাঁহাতির শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। দলের তৃতীয় ম্যাচে রাইডার্সের বিপক্ষে ৬৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার খেতাব পান মুমিনুল। কিন্তু পরে সে ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে পারেননি তিনি।
গত মৌসুমে বিপিএলের মাঝামাঝি সময়ে দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন সাব্বির। কিন্তু এবার এখনো কোনো সেঞ্চুরি দেখেনি। এরই মধ্যে যোগ দিয়েছেন ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মতো হার্ডহিটাররা। এ পর্যন্ত ফিফটি এসেছে ১৯টি; যার মধ্যে ১৬টিই এসেছে বিদেশীদের ব্যাট থেকে। দেশী ব্যাটসম্যানদের ফিফটি মাত্র তিনটি। সর্বোচ্চ তিন ফিফটি থারাঙ্গার। এদিকে চার-ছক্কা হাঁকানোর দৌড়ে এগিয়ে ক্যারিবীয়রা।
সর্বোচ্চ ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কার্লোস ব্রাফেট শীর্ষে। সর্বোচ্চ ২৩টি চার মেরেছেন এভিন লুইস। তবে ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রেও দেশী-বিদেশীর লড়াই সমানে সমান। বৃষ্টিবিঘ্নিত দুই ম্যাচ বাদ দিলে ১৮ ম্যাচে নয়বার ম্যাচসেরা হয়েছেন দেশীরা। আর নয়বার বিদেশীরা।
এর মধ্যে রয়েছেন শ্রীলংকার তিনজন; দক্ষিণ আফ্রিকার দুজন; পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের আছেন একজন করে। অন্যদিকে দেশীদের মধ্যে আছেন— মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ, আবু জায়েদ রাহি, জাকির হোসেন, জহুরুল ইসলাম, ইমরুল ও মেহেদী হাসান।

Posted ৩:২১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta