শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিপিসির অফিসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
67 ভিউ
বিপিসির অফিসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কক্সবাংলা ডটকম(১০ আগস্ট) ::জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লিয়াজোঁ অফিসে ঢুকে বিক্ষোভ করেছে ঢাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেল ৫ টার দিকে ঢাকার বিপিসি কার্যালয়ে এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। এসময় তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, আজ বিকাল পাঁচটায় বিপিসি সংবাদ সম্মলনের আয়োজন করেছিল। সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই সেখানে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ছোট ছোট লিফলেট ছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান এবিএম আজাদের বরাবর এক চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে একে একে পরিবহনগুলোতে ভাড়াবৃদ্ধিসহ সব খাতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যও উত্তরোত্তর বেড়ে যেতে থাকে।

সবকিছুর মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার নেপথ্যে মুখ্য ভূমিকা হিসেবে পালন করেছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এ অবস্থায় আবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বর্তমানে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের মধ্যবিত্ত সাধারণ নাগরিকের কাছে পাহাড়সম বোঝার মতো।

চিঠিতে তারা বলেন, জ্বালানির এ অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এখন সব মানুষের দাবি। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে অবিলম্বে তেলের দাম কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আমরা বিপিসির কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।

অকটেনে লিটার প্রতি মুনাফা ২৫ টাকা: বিপিসি

ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে নির্ধারণের পর প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। আর এই নতুন দামে অকটেন বিক্রি করে লিটার প্রতি প্রায় ২৫ টাকা লাভ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসি চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে অকটেনে লাভের মুখ দেখলেও প্রতি লিটার ডিজেলে ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডলার-সংকট ও বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। এখন ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের খুচরা মূল্য প্রতি লিটার ১১৪ টাকা, পেট্রল ১৩০ ও অকটেন ১৩৫ টাকা। নতুন দামে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৮০ টাকা থেকে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একইভাবে পেট্রলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ৫১ দশমিক ১৬ এবং অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে ৫১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান এমন সময় সংবাদ সম্মেলনে আসলেন যখন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সংলাপে সংস্থাটি দাবি করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতিটি পণ্যে বিপিসি মুনাফা করবে।

তড়িঘড়ি করে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিপিসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, ‘এখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত সেটি বহাল আছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেল ক্রয়ে ব্যারেল প্রতি খরচ হতো ৯৬.৯৫ ডলার ডলার। পরিশোধন করে তখন প্রতি লিটারে খরচ পড়ত ৮৩ টাকা ৬ পয়সা। ওই সময়ে বিপিসি বিক্রয় করত ৮০ টাকা করে। সেখানে লিটারে ৩ টাকার মতো লোকসান ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৮.৫৫ ডলার ছুঁয়েছে। তখনো বিপিসি বিক্রি করেছে ৮০ টাকা লিটার। যে কারণে ওই মাসে ৯ টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে।’

দেশে জ্বালানি তেলের মজুতের হিসাব দিয়ে বিপিসি প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ৩০ দিনের ডিজেল, ১৮ থেকে ১৯ দিনের অকটেন, ১৮ দিনের পেট্রল ও ৩২ দিনের জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।’

উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্যই কি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ক্রুডের দাম বাড়ার কারণে। ক্রুডের দাম বাড়ার কারণে কৌশলগত কারণে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

বিগত বছরে ৪৭ হাজার কোটি টাকা বিপিসি লাভ করলেও কেন কয়েক মাসের লোকসানের মুখে দাম বাড়ানো হল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত জ্বালানি খাতে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হয়, যার পরিমাণ প্রায় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকার মতো। তার মধ্যে সরকার ভর্তুকি বাবদ ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকার মতো বিপিসিকে প্রদান করে। পরে আরও প্রায় ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল যা আমরা পরে মুনাফার সঙ্গে সমন্বয় করি।’

বিপিসি চেয়ারম্যান দাবি করেন গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসির প্রকৃত লোকসান ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকা।

ত্রুটিপূর্ণ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: সিপিডি

ত্রুটিপূর্ণ তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়ার অভিযোগ এনেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ বিষয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লাভ-লোকসানের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত ছয় বছরে বিপিসি ৪৬ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। যার মধ্য থেকে সরকার নিয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩৬ হাজার কোটি টাকা কোথায়? বলা হয়েছে, ওই টাকার মধ্যে ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। কোথায় সেই বিনিয়োগ হয়েছে সে তথ্য জনম্মুখে আনার দাবি জানিয়েছে সিপিডি।

আজ বুধবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংলাপে সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব কথা বলেন।

‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এখন এড়ানো যেত কি?’ শীর্ষক সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

মোয়াজ্জেম বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সূত্রে যে খতিয়ান দেখতে পাই, তাতে নিজস্ব অর্থায়নে ১১টি প্রকল্পের তথ্য পেয়েছি। সেখানে ব্যয় হবে ৮ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে মাত্র ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। বাকিগুলো বন্ধ আছে। তাহলে বিপিসির টাকা কোথায়? আমরা জানতে পেরেছি বিভিন্ন ব্যাংকে বিপিসির ২৫ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে। তাহলে ওই টাকা কোন টাকা? এ ছাড়া বাকি টাকা কোথায়? আমার ধারণা বাকি টাকাও বিপিসির হিসাবেই রয়েছে। তাহলে কেন লোকসান দেখিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হলো?

তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছরেও ৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বিপিসি। আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি, এ বছরেও বিপিসি বিনিয়োগ করবে! জনগণের মাথায় বোঝা চাপিয়ে বিপিসি কোথায় বিনিয়োগ করবে?

গবেষণা পরিচালক মোয়াজ্জেম বলেন, অবশ্যই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এড়ানো যেত। বিপিসি যদি তার হিসাবে স্বচ্ছতা রাখতো, তাহলে বাড়তি ব্যয়ের হিসাব সমন্বয় করা যেত। বিপিসি কীভাবে তার অর্থের হিসাব রাখছে, আমাদের জানা দরকার। তারা কোনটা লাভ, কোনটা লোকসান বলছে, সে হিসাব জনগণের সামনে আসা দরকার।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ফাহমিদা বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিপিসি ৪৬ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা লাভ করেছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে নেপাল ও পাকিস্তানের বেশি। এখানে মনে রাখতে হবে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম। নীতি নির্ধারকদের এ বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে। দাম কাদের চেয়ে বেশি; সিঙ্গাপুর, হংকং ও জার্মানির চেয়ে বেশি আছে। যাদের মাথাপিছু আয় ৫০ হাজার ডলারের কাছাকাছি তাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। যখন তুলনা করব তখন সে দেশের অর্থ সামাজিক অবস্থান ও প্রেক্ষাপট মাথায় রাখা জরুরি।

67 ভিউ

Posted ১০:০৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com