কক্সবাংলা ডটকম(২০ নভেম্বর) :: সব প্রশ্নের মুখে জবাব দিয়ে HAL কর্তা জানালেন ভারতের আকাশকে সুরক্ষা দেওয়ার যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে তেজসের। দেশে তৈরি তেজস ফাইটার জেট নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
এরপর এমনই উত্তর দিলেন সংস্থার ওই ফাইটার জেটের নির্মাতা সংস্থা ‘হিন্দুস্থান’ অ্যারোনটিক্সের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর টি সুবর্ণ রাজু। ভারতীয় সেনা যখন বিদেশ থেকে সিঙ্গল ইঞ্জিন জেট আমদানি করার কথা ভাবছেন, তখনই এমন মন্তব্য করলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, যে ৪২টি মডিফিকেশনের দাবি জানিয়েছিল তার সবকটিই পুরণ করা হয়েছে। অস্ত্রসজ্জাও বাড়ানো হয়েছে সেনাবাহিনীর দাবি মেনেই।
তিনি বলেন, ‘তেজস হল ফোর অ্যান্ড হাফ জেনারেশনের বিশ্বমানের ফাইটার জেট। সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিভিন্ন দিক থেকে এই ফাইটার জেটের আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। তেজস নিয়ে আমরা গর্বিত। প্রত্যেক ভারতীয় এই যুদ্ধবিমান নিয়ে গর্ব বোধ করবে।” এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন সংস্থার কর্ণধার।
কিছুদিন আগেই এমন প্রশ্ন উঠেছিল যে তেজস ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য যথেষ্ট নয়। ইতোমধ্যেই ওই সংস্থার কাছে ৪০টি তেজস জেটের অর্ডার দিয়েছে ভারতীয় সেনা। কিছুদিনের মধ্যে আরও ৮৩টি জেটের অর্ডার দেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।
টি সুবর্ন রাজু বলেন, বেশি সংখ্যায় তেজস সাপ্লাই দেওয়া হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। অন্যান্য এয়ারক্রাফটের মতই এগুলির মেয়াদ ৩০ বছর হবে বলেও দাবি তাঁর। বর্তমানে এক বছরে চারটি তেজস তৈরি করতে পারে ওই সংস্থা। ২০২২-এর মধ্যে বছরে ২৪টি তৈরি করা যাবে বলে জানা গিয়েছে।
কজ দ্রুত এগোনোর জন্য অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চাইছে HAL. সংস্থার ওই কর্তা আরও বলেন, তেজসের সঙ্গে গ্রিপেন কিংবা F-16-এর তুলনা করা কখনই উচিৎ হবে না। কারণ বায়ুসেনার কিছু নির্দিষ্ট ভূমিকার জন্যই তেজস তৈরি করা হচ্ছে আর তেজস তা পালন করতে সক্ষম।

এবার একসঙ্গে ২০০ যুদ্ধবিমান কিনতে চাইছে ভারত। তবে একটাই শর্ত। সেইসব জেট তৈরি করতে হবে ভারতের বিমান নির্মাণকারী কোনও সংস্থার সঙ্গে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক আধিকারিক একথা জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০টি সিঙ্গল ইঞ্জিনের ফাইটার জেট কিনতে গেলে খরচ হবে এক লক্ষ কোটি টাকা। সম্ভবত এটিই হবে ভারতের সবথেকে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। ওইসব বিমান কিনে রাশিয়ায় তৈরি ভারতের পুরনো যুদ্ধ বিমানগুলিকে বাতিল করে দেওয়া। সম্প্রতি ভারত ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধ বিমান কেনার চুক্তি করেছে। এই বিমানটি হাতে এসে গেলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে চিন ও পাকিস্তানের। কারণ ওই ধরনের শক্তিশালী যুদ্ধবিমান তাদের হাতে নেই। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে চিনের সরকারি মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারতে যুদ্ধবিমান তৈরির ব্যাপারে বরাবরই উৎসাহী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি এই নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে মার্কিন বিমান নির্মাণকারী সংস্থা লকহিড মার্টিন। তারা এদেশে একটি কারখানা গড়তে চায়। ওই কারখানায় তৈরি বিমান শুধু ভারতকেই নয়, অন্য দেশেও রপ্তানি করা হবে। সুইডেনের কোম্পানি সাব-ও এদেশে বিমান তৈরি করতে প্রস্তুত। ভারতীয় বায়ুসেনার ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতের কমপক্ষে ২০০টি ফাইটার জেট চাই।