সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাস সেতু ‘পদ্মা’ : প্রতিদিন চলবে ২৪ হাজার যানবাহন

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২০
1675 ভিউ
বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাস সেতু ‘পদ্মা’ : প্রতিদিন চলবে ২৪ হাজার যানবাহন

কক্সবাংলা ডটকম(১০ ডিসেম্বর) :: ভার বহন করবে বেশি, কিন্তু নির্মাণ উপকরণের ব্যবহার হবে কম। নির্মাণে নেই খুব একটা জটিলতা, নকশাও হবে দৃষ্টিনন্দন। এসব কারণে বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় ট্রাস সেতু। পদ্মা সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে এ প্রযুক্তিতে। এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাস সেতু।

পৃথিবীতে ট্রাস সেতুর ব্যবহার ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে পদ্ধতিটি যে বেশ প্রাচীন, তার প্রমাণ মেলে ফ্রেঞ্চ স্থপতি ভিলার্ড দি কোর্তের ত্রয়োদশ শতাব্দীর একটি স্কেচবুকে। এ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশে অসংখ্য বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, ভৈরব ব্রিজ, পাকশী সেতুসহ অনেক রেলসেতু ট্রাস প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা।

এতদিন ট্রাস প্রযুক্তিতে নির্মিত দীর্ঘতম সেতু ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের গোদাবরী সেতু। দুই লেন সড়ক ও সিঙ্গেল লাইন রেলপথের গোদাবরী সেতুর দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার। এ সেতুর স্প্যান সংখ্যা ২৭। প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৯১ দশমিক ৫ মিটার। অন্যদিকে পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সচরাচর কাঠ বা স্টিলের কাঠামো ব্যবহার করা হয় ট্রাস প্রযুক্তিতে। একটি কাঠামোর সঙ্গে আরেকটি সংযুক্ত করা হয় ত্রিভুজাকৃতিতে। একাধিক ত্রিভুজাকৃতির কাঠামো দিয়ে গড়ে তোলা হয় একেকটি স্প্যান। কাঠামোগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি সংযুক্ত থাকায় তার ভার সব কাঠামোর ওপর সমানভাবে ছড়িয়ে যায়। একইভাবে যানবাহনের ভারও পুরো সেতুতে ছড়িয়ে দেয় তা। এটি শুধু সেতুর কাঠামোকে শক্তই করে না, সেতুকে নানা প্রতিকূলতা থেকে রক্ষাও করে।

ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করায় পদ্মা সেতুতে পিয়ারের সংখ্যা কম লেগেছে বলে মনে করেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্যানেল অব এক্সপার্ট টিমের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়া।  তিনি বলেন, কংক্রিটের কাঠামোর সেতু করতে হলে এত অল্পসংখ্যক পিয়ার দিয়ে করা সম্ভব হতো না। ট্রাস প্রযুক্তির এ সেতুতে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একেকটি স্প্যান বসানো হয়েছে। পদ্মা সেতুর স্প্যানগুলোর দৈর্ঘ্য যদি ১৫০ মিটার না হয়ে ১০০ মিটার করে হতো তাহলে পিয়ারের সংখ্যা বেশি লাগত। এতে নির্মাণ ব্যয় ও সময় দুটোই হতো বেশি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে নৌ-চলাচলের জন্য। তলদেশে পানিপ্রবাহ ঠিক থাকলে সেতুর যেকোনো প্রান্ত দিয়েই বড় বড় নৌযান চালানো সম্ভব।

অধ্যাপক বসুনিয়া জানান, পদ্মা সেতুতে ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে। সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার সময় তারা সব ধরনের বিষয় পর্যালোচনা করেই এমন পরামর্শ দিয়েছিল। আর সড়ক কাম রেলসেতু করতে হলে ট্রাস প্রযুক্তি ব্যবহার করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক বলে মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে গতকাল পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মায় নির্মাণাধীন সড়ক কাম রেলসেতু। বুধবারই স্প্যানটি নিয়ে রাখা হয়েছিল দুই প্রান্তের সংযোগস্থলে। এটি সারা রাত ঝুলে ছিল ভাসমান ক্রেনে। ঘন কুয়াশায় স্থাপনকাজ বিঘ্নিত হওয়ার কিছুটা শঙ্কা অবশ্য ছিল। তবে সকালের দিকে কুয়াশা তেমন জুত করে উঠতে পারেনি। ৯টার পর থেকেই উঁকি দিতে শুরু করে সূর্য। এর ঠিক মিনিট চল্লিশেক পরই শুরু হয় পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর কাজ। পুরোপুরি বসানো শেষ হয় দুপুর ১২টা নাগাদ। এখন স্প্যানের ভেতরে রেলওয়ে স্ল্যাব আর ওপরে সড়ক স্ল্যাব বসলেই পদ্মা সেতু দিয়ে চলবে গাড়ি।

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এরই মধ্যে তিনটি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ। পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়েছে, যেগুলোর ব্যাসার্ধ তিন মিটার। এত গভীরে এত মোটা পাইল আর কোনো সেতুতে করা হয়নি। সেতুর ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের’ সক্ষমতা ১০ হাজার টন, যা সেতুটিকে সর্বোচ্চ ৯ মাত্রা পর্যন্ত ভূমিকম্প থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। এমন বিয়ারিং পৃথিবীর আর কোনো সেতুতে নেই। পদ্মা সেতুর নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য ১১০ কোটি ডলার। এদিক দিয়েও বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প।

পদ্মা সেতুর প্রতিটি পাইলের লোড ৮ হাজার ২০০ টন। আর পিয়ারের লোড ৫০ হাজার টন। পাইলেয়র এ লোড দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামার, যেটি বিশেষভাবে বানানো হয় জার্মান প্রযুক্তিতে, যাতে খরচ পড়েছে ৪০০ কোটি টাকার মতো। পদ্মা সেতুর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংযোজন ও নির্মাণের জন্য যে ওয়ার্কশপটি তৈরি করা হয়েছে, সেতু তৈরির কাজে এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ওয়ার্কশপ বলে দাবি করছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। এ ওয়ার্কশপের বেশির ভাগ কাজ চলছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে। সর্বশেষ স্প্যান ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ১৫টি রোবট।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর পর একদিনের জন্যও নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, শুরুর পর থেকে একটানা কাজ করে আসছি আমরা। সাধারণ ছুটি তো বটেই, ঈদের দিনও কাজ চালু রাখা হয়েছে। চলতি বছর প্রথমে করোনাভাইরাস ও পরে বন্যা কাজ চালু রাখার ক্ষেত্রে বেশ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। করোনার কারণে আমরা প্রকল্পের কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে কাজ চালু রেখেছি। বন্যার সময় ঝুঁকি নিয়েও চালিয়ে যাওয়া হয়েছে নির্মাণকাজ। কাজে ধীরগতি হয়তো এসেছে, কিন্তু কখনো তা থেমে থাকেনি।

স্প্যান বসানোর কাজ শেষ। এখন চলছে স্প্যানের ভেতরে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ। একইভাবে স্প্যানের ওপর বসানো হচ্ছে রোডওয়ে স্ল্যাব। স্প্যানগুলোর ভেতরে রেলওয়ে স্ল্যাব বসবে ২ হাজার ৯৫৯টি। সেতু বিভাগ জানিয়েছে, ১ হাজার ৯৪২টি রেলওয়ে স্ল্যাব এরই মধ্যে বসে গেছে। অন্যদিকে ওপরে বসানো হবে সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব, যার মধ্যে বসানো সম্পন্ন হয়েছে ১ হাজার ৩৩৩টি। রোডওয়ে স্ল্যাবের ওপর গড়ে তোলা হবে চার লেনের সড়ক।

এখন পর্যন্ত মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি শতকরা ৯১ ভাগ। নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি শতকরা প্রায় ৭৬ ভাগ। এরই মধ্যে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সড়কের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি শতকরা ৮২ দশমিক ৫০ ভাগ।

একনজরে পদ্মা সেতু
২০০৭
২০ আগস্ট:একনেকে ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন।

২০১১
১১ জানুয়ারি:সম্ভাব্য ব্যয় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা করে একনেকে প্রকল্পের সংশোধন করা হয়।
২৪ ফেব্রুয়ারি:বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন।
২৮ এপ্রিল: বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই।
২১ সেপ্টেম্বর: দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ
দেয় বিশ্বব্যাংক।
৯ অক্টোবর: প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামকে অপসারণ।

১৩ অক্টোবর: সেতু বিভাগের সচিব
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে বদলি।

২০১২ সাল
৫ জানুয়ারি:যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আবুল হোসেনকে অন্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
৪ এপ্রিল: দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কিত সরকারকে বিশ্বব্যাংকের আরেকটি প্রতিবেদন।
১০ এপ্রিল: বিকল্প চিন্তা থেকে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারের এমওইউ।
৫ জুন: বিশ্বব্যাংকের ৪টি শর্ত প্রদান।
২৯ জুন:শর্ত না মানায় বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিলের ঘোষণা।
২৩ জুলাই: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে আবুল হোসেনের পদত্যাগ।
৩০ আগস্ট:এডিবি ও জাইকার ঋণ কার্যকারিতার মেয়াদ আরেক দফা বৃদ্ধি।
১৮ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমানের ছুটি প্রদান।
২০ সেপ্টেম্বর: পদ্মা সেতু প্রকল্পে পুনরায় সম্পৃক্ত হয় বিশ্বব্যাংক।
১৭ ডিসেম্বর: দুদকের মামলা দায়ের।

২০১৩ সাল
৩১ জানুয়ারি: সরকার বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের অনুরোধ ফিরিয়ে নেয়।
৫ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় সংসদে এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কথা জানান।

২০১৪ সাল
৩ সেপ্টেম্বর: পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি পাওয়া যায়নি বলে জানায় দুদক, সেই আলোকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সংস্থাটি।
নভেম্বর : সেতুর কাজ শুরু।

২০১৫ সাল
১ মার্চ: সেতুর পাইলিং কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি।
১২ ডিসেম্বর: মূল সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৬ সাল: ডিসেম্বর শেষে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়।

২০১৭ সাল
১০ ফেব্রুয়ারি: কানাডার আদালত বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগকে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে মামলার তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
৩০ সেপ্টেম্বর : প্রথম স্প্যান বসে পদ্মা সেতুতে।

২০২০ সাল
১০ ডিসেম্বর : ৪১তম তথা শেষ স্প্যান বসল।

২০২২ সালের জুনে খুলবে সেতু:

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গতকাল এক অনুষ্ঠানে ২০২২ সালের জুন নাগাদ পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আট বছর সেতু বিভাগের সচিব ছিলাম। ফলে আমি এখনো এর দেখাশোনা করি। পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। আমার মনে হয়, ২০২২ সালের মধ্যে আমরা সেতুটি খুলে দিতে পারব।

২৪ হাজার যানবাহন চলবে প্রতিদিন

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াতে গড়ে অন্তত দুই ঘণ্টা সময় বেঁচে যাবে। এটা শুধু অভ্যন্তরীণই নয়, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সেতুতে টোলের হার নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে ফেরিতে একটি বড় বাস পদ্মা নদী পার হতে লাগে ১ হাজার ৫৮০ টাকা। পদ্মা সেতু হলে টোল দিতে হবে ২ হাজার ৩৭০ টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার জন্য বড় বাসের টোল ৯০০ টাকা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলও হবে কয়েক গুণ বেশি।

এদিকে টোল আদায়ের হার ঠিক করা হয়েছে যানবাহন চলাচলের পূর্বাভাস ধরে। ২০২১ সালে পদ্মা সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৮ হাজার বাস চলাচল করবে ধরা হয়েছে। ৩৫ বছর পর এ সংখ্যা দিনে ৭১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এডিবির সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালের শুরুতে যদি পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়, তা হলে ওই বছর সেতু দিয়ে দৈনিক চলাচল করবে প্রায় ২৪ হাজার যানবাহন। সংখ্যাটি প্রতিবছরই বাড়বে। ২০৫০ সালে দৈনিক ৬৭ হাজার যানবাহন চলবে পদ্মা সেতু দিয়ে।

পদ্মা সেতু চালুর পর ১৫ বছরের জন্য একটি টোল হারের তালিকা করেছে সেতু বিভাগ। তালিকা অনুসারে, ছোট ট্রাকের জন্য ১ হাজার ৬২০ টাকা টোল প্রস্তাব করা হয়েছে, মাঝারি ট্রাকের ২ হাজার ১০০ টাকা, বড় ট্রাকের ২ হাজার ৭৭৫ টাকা, চার এক্সেলের ট্রেইলারের ৪ হাজার টাকা এবং ট্রেইলারের ক্ষেত্রে চার এক্সেলের পর প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা টোল যোগ হবে।

পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, সহজ হবে মানুষের চলাচলও। বঙ্গবন্ধু সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক যানবাহন চলাচলও হবে কয়েক গুণ বেশি। পদ্মা সেতু দিয়ে ২০২২ সালে যে ২৪ হাজার যানবাহন চলবে, তার মধ্যে বাস চলবে ৮ হাজার ২৩৮টি, ট্রাক ১০ হাজার ২৪৪টি, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলবে ৫ হাজারের বেশি। সমীক্ষায় আরও প্রাক্কলন করা হয়েছে, ২০২৫ সালে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ হাজার ৮০০টি। ২০৩০ সালে হবে ৩৬ হাজার ৭৮৫। ২০৪০ সালে দিনে যানবাহন চলাচল বেড়ে দাঁড়াবে ৫১ হাজার ৮০৭টি।

পদ্মা সেতু নির্মাণ করে লাভ কী হবে, তা নিয়ে ২০০৯ সালে আলাদা সমীক্ষা করে এডিবি ও জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। এতে দেখা যায়, পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক প্রভাব বা ইকোনমিক রেট অব রিটার্ন (ইআরআর) দাঁড়াবে বছরে ১৮ থেকে ২২ শতাংশ। পরবর্তী সময় সেটি আরও বাড়বে। এ নিয়ে সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার আগে সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, ইআরআর হবে ১৫ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে তা সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। মোংলা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, সহজ হবে মানুষের চলাচলও।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হলে এর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

 

1675 ভিউ

Posted ৩:১০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com