সোমবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ৮ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে নাস্তানাবুদ হবে চিন ?

মঙ্গলবার, ০১ আগস্ট ২০১৭
1077 ভিউ
ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে নাস্তানাবুদ হবে চিন ?

কক্সবাংলা ডটকম(১ আগস্ট) ::ডোকালাম ইস্যু নিয়ে শুধুমাত্র ভারত আর চিনই নয়, উত্তাপ ছড়িয়েছে গোটা আন্তর্জাতিক মহলেই। কিন্তু দেখা গিয়েছে, এই ইস্যুতে ভারতের পাশেই রয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিশেষ করে পশ্চিমি দেশের গণমাধ্যম। এ দাবি করে ক্ষোভ উগরে দিল চিনের সংবাদমাধ্যম। মার্কিন মিডিয়াও যেভাবে ভারতের পাশে রয়েছে তা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না চিন।

চিনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে আরও লেখা হয়েছে যে ভারত তুলনায় দুর্বল বলেই অন্যান্য দেশের সমবেদনা পাওয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রতিবেদনে চিন আরও দাবি করেছে যে ভারত অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়া সত্ত্বেও পশ্চিমি দেশের সংবাদমাধ্যম ভারতের পাশে রয়েছে। আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম ভারতে চিনা অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে সমর্থন করছে না বলেই এমন কথা লিখেছে গ্লোবাল টাইমস। ডোকলাম ইস্যুকে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখছে ওইসব মিডিয়া।

তবে শুধু ডোকলামই নয়, বরাহোতিতও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল চিন। এক সময় এই জায়গা দিয়ে চিনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ মারাত্মক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত যার ফল ১৯৬২-র যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়। গত সপ্তাহে ২৫ জুলাই সকাল নটায় উত্তরাখণ্ডের বরাহোতি দিয়ে চিনা সেনারা অন্তত ৮০০ মিটার থেকে ১ কিলোমিটার ঢুকে এসেছে৷ ভুটানের ডোকালাম নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই চিন একতরফাভাবে এহেন পদক্ষেপ নিল৷

এদিকে হাতে বন্দুক আর পিছনে সারিবদ্ধ কামান। চোখে চোখ রেখে ট্রিগারে আঙুল দিয়ে দাঁড়িয়ে কয়েক হাজার ভারতীয় ও চিনা সেনা। এই হচ্ছে ডোকলাম সীমান্তে পরিস্থিতি। বারুদের স্তূপে একটি মাত্র স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষা, মুহূর্তে ঘটবে সর্বগ্রাসী যুদ্ধের বিস্ফোরণ। যার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তবে সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও ভারতের কাছে নাস্তানাবুদ হবে লালফৌজ, এমনটাই মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এই প্রতিবেদনে জেনে নিন কেন পোষ মানতে বাধ্য হবে ড্রাগন।

১) চিনের জ্বালানির জোগান আটকে দেবে ভারত:

লালফৌজ ও শিল্পাঞ্চল হচ্ছে চিনের শক্তির উৎস। তবে একই সঙ্গে এরাই বেজিংয়ের দুর্বল জায়গা। কারণ হচ্ছে এই দুই বাহুকে কার্যক্ষম রাখতে প্রয়োজন বিশাল পরিমাণের জ্বালানির। লালফৌজ হাজার-হাজার শো ট্রাক, প্রচুর হাউৎজার কামান, বিমান বিধ্বংসী কামান, বাঙ্কার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, মিসাইল লঞ্চিং প্যাড, রকেট লঞ্চিং প্যাড, শত্রুপক্ষের বিমান চিহ্নিতকারী রেডার ইউনিট, অ্যান্টি ট্যাঙ্ক গ্রেনেড, মোবাইল কমিউনিকেশন সিস্টেম ইত্যাদি ব্যবহার করে। এর জন্য প্রয়োজন পেট্রল, ডিজেল-সহ প্রচুর পরিমাণের অন্যান্য জ্বালানির। এছাড়াও রয়েছে শিল্পাঞ্চলগুলিতে জ্বালানির চাহিদা। উল্লেখ্য, চাহিদা মেটাতে মূলত পশ্চিম এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে জ্বালানি আমদানি করে চিন।এই জ্বালানির ৮০ শতাংশ জলপথে মালাক্কা প্রণালী হয়ে চিনে পৌঁছয়। আর এখানেই বিপাকে লালফৌজ। মালাক্কা প্রণালীর নিকটেই নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে রয়েছে ভারতের বিশাল নৌবহর। ফলত সহজেই চিনের জ্বালানি আমদানি বন্ধ করে দিতে সক্ষম ভারত। আর জ্বালানি না থাকলে যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা হারাবে লালফৌজ। মনে করা হয়, এই ভয়েই কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ায়নি চিন।

২) উপমহাদেশে চিনা পরিকাঠামো থাকবে ভারতীয় সেনার নিশানায়:

ডোকলামে যুদ্ধ বাধল ভারতের যেকোনও জায়গায় হামলা চালাবে লালফৌজ। কিছুদিন আগে এমনটাই হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং। তবে এক্ষেত্রেও আদতে ক্ষতি হবে চিনেরই। ভারতীয় মিসাইলের আওতায় থাকা বেশ কিছু জায়গায় প্রচুর বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো নির্মাণ করেছে চিন। যেমন, ‘চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর’ (সিপিইসি)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ওই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে চিন। এছাড়াও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর, শ্রীলঙ্কার হামবানটোটা ও পাকিস্তানের গদর বন্দরে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে সে দেশ। যুদ্ধ লাগলে ওই বন্দরগুলিকে ঘিরে ফেলে অচল করে দেবে ভারতীয় নৌসেনা। হামলার মুখে পড়বে সিপিইসি। এমতাবস্থায় প্রবল ক্ষতির সন্মুখীন হবে চিনা অর্থনীতি। তাই আদতে লোকসান হবে চিনেরই।

৩) কূটনৈতিকস্তরে বিপাকে পড়বে বেজিং:

জাপান, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া-সহ প্রায় ১৪টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সীমা বিবাদে জড়িয়ে রয়েছে চিন। ডোকলাম নিয়ে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ালে, ওই দেশগুলির সমর্থন স্বাভাবিকভাবেই ভারতের সঙ্গে থাকবে। ফলত চাপে পড়বে বেজিং। এছাড়াও ভারত-সহ ওই দেশগুলির সঙ্গে ধাক্কা খাবে বাণিজ্যি। উল্লেখ্য, ওই দেশগুলিতে বিশাল অঙ্কের পণ্য রপ্তানি করে চিন। ফলত বাণিজ্য বন্ধ হলে প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হবে কমিউনিস্ট দেশটি। এছাড়াও যুদ্ধ শুরু হলে দক্ষিণ-চিন সাগরে চিনের উপর চাপ সৃষ্টি করবে আমেরিকা ও জাপান। ফলে এই মুহূর্তে হুঙ্কার দিলেও আদতে যুদ্ধের পথে হাটবে না চিন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪) ভারত-আমেরিকা-জাপান বেষ্টনীতে গুঁড়িয়ে যাবে চিন:

অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির বলে বলীয়ান হয়ে এশিয়া মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে চিন। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলিকে টাকার টোপ দিয়ে দেনার ফাঁদে ফেলছে বেজিং। এইভাবেই শ্রীলঙ্কাকে ফাঁদে ফেলে হামবানটোটা বন্দর হাতিয়ে নিয়েছে কমিউনিস্ট দেশটি।একইভাবে পাকিস্তানকে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্পে ব্যবহার করছে সে দেশ। তবে ভারতকে কোনও মতেই ফাঁদে ফেলতে পারেনি চিন। তাই ক্রমশ হুমকির পথে হাঁটছে তারা। কিন্তু এই ভারত ১৯৬২-র ভারত নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এই বয়ান যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত-চিন যুদ্ধ বাধলে। জাপান ও আমেরিকা এগিয়ে আসবে দিল্লির সমর্থনে। এবং একসঙ্গে এই তিন মহাশক্তিকে টেক্কা দেওয়া লালফৌজের পক্ষে কোনও মতেই সম্ভব নয়। ফলত মাথা নোয়াতে বাধ্য হবে বেজিং।

1077 ভিউ

Posted ৭:৩৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০১ আগস্ট ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

SunMonTueWedThuFriSat
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031 

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : Shaheed sharanee road, cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশের সকল পত্রিকা সাইট
Bangla Newspaper

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com