শনিবার ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ১৬ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মহাকাশে ইতিহাস, মঙ্গলের মাটি ছুঁল ‘তিয়ানওয়েন-১’ : কীভাবে অসাধ্যসাধন করল চিন!

সোমবার, ১৭ মে ২০২১
102 ভিউ
মহাকাশে ইতিহাস, মঙ্গলের মাটি ছুঁল ‘তিয়ানওয়েন-১’ : কীভাবে অসাধ্যসাধন করল চিন!

কক্সবাংলা ডটকম :: মঙ্গলে (Mars) পৌঁছনোর দৌড়ে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন-কে ছোঁওয়ার লক্ষ্যে গত বছর জুলাইয়ে দশ কোটি কিলোমিটার দূরে লালগ্রহের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল চিনের মঙ্গলযান ‘তিয়ানওয়েন-১’ (Tianwen-1)। শনিবার সকালে এই চিনা মঙ্গলযানটি নিরাপদ এবং সফলভাবে অবতরণ করে মঙ্গল গ্রহে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সুত্রে জানা গিয়েছে, এর পূর্বে লালমাটি জয় করার রেকর্ড রয়েছে দু’টি দেশের ঝুলিতে।

এই অভিযানে চিন মঙ্গলের উদ্দশ্যে পাঠিয়েছিল যানের দু’টি অংশ। যার মধ্যে একটি হল অরবিটার, যা কি না মঙ্গলের কক্ষপথে পাক খাবে এবং অন্যটি হল রোভার, যা অবতরণ করবে লাল মাটিতে। আজ সেই স্বপ্নই সফল হল লাল ফৌজের।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছে ওই গ্রহ প্রদক্ষিণ করে এই চিনা মহাকাশযানটি। এমনকি লালগ্রহে নামার আগেই তার ছবিও পাঠায়। কিন্তু এবার মঙ্গলের মাটি ছুঁয়ে মহাকাশ প্রতিযোগিতার নতুন যুগ হিসাবে নিজেকে প্রথম সারির প্রতিযোগী হিসাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হল বেজিং।

এই বিষয়ে মহাকাশ অনুসন্ধান বিষয়ক একটি নতুন বইয়ের স্বতন্ত্র বিশ্লেষক ও সহ-লেখক নম্রতা গোস্বামী (Namrata Goswami) বলেন, “চিনের সফল মঙ্গল গ্রহে অবতরণ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে উন্নত ইন্টারপ্ল্যানেটারি স্পেস (Interplanetary space) সক্ষমতা নিয়ে আরও একটি দেশ বিদ্যমান রয়েছে”।

NASA-র অ্যাসোসিয়েটেড অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ফর সায়েন্স (Associate administrator for science) থমাস জুরবুচেন (Thomas Zurbuchen) Twitter-এ চিনকে অভিনন্দন জানান। সেই সঙ্গে তিনি লিখেন, “এই মিশনটি লালগ্রহকে বোঝার ক্ষেত্রে সকলের জন্য এক বিশেষ অবদান রাখবে, আমি এই প্রত্যাশায় রয়েছি।”

চিনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলিতে এই অবতরণ সম্পর্কিত কোনও রিপোর্ট দেখানো হয়নি। তবে মিশনটি সফল হওয়ার কয়েক ঘন্টা পর এই বিষয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়। এই চূড়ান্ত সাফলতার পর শি জিনপিং (Xi Jinping) মহাকাশ সংস্থার বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে তিনি লেখেন, “এটি আমাদের দেশের এরোস্পেসের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে আরও একটি মাইলফলক। আপনারা চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানানোর সাহস পেয়েছেন, শ্রেষ্ঠত্বের জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং আমাদের দেশকে আন্তঃপরিকল্পনা অন্বেষণের বৈশ্বিক শীর্ষে নিয়ে এসেছেন।”

কী ভাবে অসাধ্যসাধন করল চিন!

মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল। কিন্তু সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও ঝুরং-এর এই অবতরণ ছিল লাল ফৌজের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং।

শনিবার রোভার রোবটের এই লাল গ্রহের বুকে সফলভাবে নামার খবর প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। চিনের সম্প্রচারক সিসিটিভি বলেছে, মিশনটি “সফলভাবে পূর্ব-নির্বাচিত অঞ্চলে অবতরণ করেছে”। তাইওয়ান-১ (Tianwen-1) অর্বিটারের থেকে ‘ঝুরং’(Zhurong)-এর এই অবতরণ নিঃসন্দেহে বিশাল বড় জয় বেজিংয়ের।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC জানিয়েছে, ঝুরং নামের রোভার রোবটিতে মোট ছ’টি চাকা আছে। এটি মঙ্গলের ইউটোপিয়া প্লানিটিয়ায় তার মিশন শুরু করবে। বর্তমানে এটি মঙ্গলের উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করছে।

মঙ্গল গ্রহের পরিবেশ অত্যন্ত প্রতিকূল। কিন্তু সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও ঝুরং-এর এই অবতরণ ছিল লাল ফৌজের কাছে বেশ চ্যালেঞ্জিং। ঝুরং এর অর্থ ‘গড অফ ফায়ার’। নিজের সুরক্ষার স্বার্থে এই রোভারটি মঙ্গলে অবতরণের জন্য সুরক্ষাধর্মী ক্যাপসুল, একটি প্যারাস্যুট ও একটি রকেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছিল।

আমেরিকা, রাশিয়ার পর চিনের এই রোভার লাল গ্রহের মাটি ছুঁলেও, এই রোভারের বেশ কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। বলা যায় চিনই বিশ্বের প্রথম দেশ, যা কি না মঙ্গল গ্রহে প্রথম যাত্রার সময় প্রদক্ষিণ, অবতরণ এবং রোভিং অভিযান পরিচালনা করেছে। যার সঙ্গে আমেরিকা ও রাশিয়ায় লাল গ্রহে পৌঁছানোর সাদৃশ্য ছিল না।

তিন মাসের মিশন-

প্রযুক্তিগত দিক থেকে দুই সুপারপাওয়ারের বিরুদ্ধে লড়ে ইতিহাস গড়তেই এই মিশন বেজিংয়ের। যার নাম দেওয়া হয়েছে নিহাও মার্স (Nihao Mars)। চিনের পৌরাণিক অগ্নি দেবতার নামে নামকরণ করা হয় ঝুরং-এর।

ছয় চাকাযুক্ত, সৌরশক্তি দ্বারা চালিত এবং প্রায় ২৪০ কেজি ওজনের এই চিনা রোভার মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে শিলা নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সন্ধানে রয়েছে। এছাড়া মঙ্গলের মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে সেই তথ্য গ্রাউন্ড স্টেশনে পাঠানোর কাজ করবে এই রোভার।

গত বছর জুলাই মাসে মঙ্গল অভিযানে পাঠানো হয় এই রোভারটি। তাইওয়ান-১ অর্বিটারের মাধ্যমে এই রোভারকে লাল গ্রহে পাঠানোর কর্মসূচি নিঃসন্দেহে এক বড় মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।

মহাকাশযানটি ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল এবং সেখান থেকে বেশ কিছু ছবিও পাঠায় সে। মঙ্গলের কক্ষপথে অবস্থান করে ২২ কিলোমাটার দূরের দু’টি গহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হয় চিনের এই মঙ্গলযান। অবশেষে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার ঘোষণা করে যে, এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শঘাট পর্যায়ে’ (Crucial Touchdown Stage) পৌঁছেছে।

জটিল এই অবতরণ প্রক্রিয়াটিকে ‘সাত মিনিটের সন্ত্রাস’ (Seven Minutes Of Terror) বলা হয়েছে। কারণ রেডিও সংকেতগুলি মঙ্গল থেকে পৃথিবীতে পৌঁছতে যত সময় নেয়, তার চেয়ে এটি দ্রুত ঘটেছে।

মঙ্গলে অবতরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু মার্কিন, রাশিয়ান এবং ইউরোপীয় রোভারের প্রচেষ্টা অতীতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে সর্বশেষতম সফল অবতরণ ফেব্রুয়ারিতে হয়েছিল, যখন মার্কিন মহাকাশ সংস্থা NASA তার রোভার পার্সিভরেন্সকে (Rover Perseverance) অবতরণ করায়, যা এখনও লাল গ্রহটিকে অন্বেষণ করে চলেছে।

২০২২ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রত্যাশা নিয়ে চিন গত মাসে সফলভাবে স্পেস স্টেশনটির জন্য তার প্রথম মডিউলটি চালু করেছে।

102 ভিউ

Posted ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৭ মে ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com