মঙ্গলবার ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গল গ্রহের বুকে সর্বাধিক উচ্চতায় হেলিকপ্টার উড়িয়ে নয়া রেকর্ড সৃষ্টি নাসার

বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২
65 ভিউ
মঙ্গল গ্রহের বুকে সর্বাধিক উচ্চতায় হেলিকপ্টার উড়িয়ে নয়া রেকর্ড সৃষ্টি নাসার

কক্সবাংলা ডটকম :: মঙ্গলে সর্বাধিক উচ্চতায় উড়ল নাসার ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার। নাসার বিজ্ঞানীরা এই কীর্তি গড়ে মঙ্গলের বুকে নয়া রেকর্ড সৃষ্টি করলেন। সম্প্রতি নাসার ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টার বড়ো সফ্টওয়্যার আপডেটের পরে উড়ান সর্বাধিক উচ্চচায় পাঠিয়ে চমকে দিয়েছে বিশ্বকে। চাঁদে আর্টমিস মিশনের সাফল্যের সঙ্গে মঙ্গলের বুকে রেকর্ডে আরও একটি পালক যুক্ত হয়েছে নাসার।

মঙ্গলের আকাশে সর্বাধিক উচ্চতায় হেলিকপ্টার ওড়াল নাসা, নয়া রেকর্ড গড়লেন বিজ্ঞানীরা
নাসার ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টার ৩ ডিসেম্বর মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওড়ে। মঙ্গল পৃষ্ঠ থেকে আগের রেকর্ড ভেঙে এবার ১৪ মিটার উপরে ওড়ে। এটি ছিল মঙ্গলের বুকে নাসার তিন নম্বর ফ্লাইট পরিচালনা। আগের দুবার সর্বোচ্চ ১২ মিটার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার। এখানে উল্লেখ্য, নাসার এই ইনজেনুইটি মার্স হেলিকপ্টার হল সৌর-চালিত রোটারক্রাফ্ট।

২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পারসিভারেন্স রোভারের সঙ্গে মঙ্গলে অবতরণ করেছিল নাসার এই মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার। ২০২২-এর ১৯ এপ্রিল প্রথমবারের মতো মঙ্গল গ্রহে উড়েছিল নাসার ওই সৌর-চালিত রোটারক্রাফ্ট। সেটিই ছিল বাইরের কোনও গ্রহ থেকে পরিচালিত প্রথম উড়ান। নাসা মঙ্গলের ভূমিতে ইতিহাস সৃষ্টি করে দেখিয়েছিল।

৩ ডিসেম্বরের ফ্লাইটের আগে ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার মঙ্গলের আকাশে উড়েছিল ২২ নভেম্বর।। তার আগে নাসার মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারে একটি বড়ো সফ্টওয়্যার আপডেট করা হয়। সফ্টওয়্যার আপডেটের পর এটি ছিল দ্বিতীয় উড়ান। উড়ানের পর একই অবস্থানে অবতরণের আগে ইনজেনুইটি প্রায় ৫ মিটার বাতাসে উড়েছিল।

নাসার মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারে সফ্টওয়্যার আপডেটের পর যেমন সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছিল উড়ানটি, তেমনই ৫ মিটার বাতাসে ভাসমান অবস্থায় ছিল। রোটারক্রাফ্ট সেই নিরিখে একটা বড় মাইলফলক উপস্থাপন করেছে। সফ্টওয়্যার আপডেটের পরে নাসার মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার নতুন করে ক্ষমতা পেয়েছে। তার ফলেই বেশি উচ্চতায় উড়ানে সম্ভবপর হয়েছে যেমন, তেমনই ল্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও বিপদ এড়ানোর ক্ষমতা পেয়েছে। এই উড়ানে নেভিগেট করার জন্য একটি ডিজিটাল মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

নাসা জানিয়েছে এই ফ্লাইটের সময় মঙ্গল গ্রহে মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারটি ল্যান্জ করতে কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি। মঙ্গল পাথুরে গ্রহ হলেও বিপদ এড়িয়েই তা ল্যান্ডিং করেছে। নেভিগেশন ক্যামেরা ব্যবহার করে তা ল্যান্ডিংয়ে সফল হয়েছে। নাসার মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারটি পাহাড়ি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ে সমস্যার মুখে পড়ছিল। নেভিগেশন সিস্টেম মনে করছিল, তা একদিকে ঘুরছে। এই ত্রুটি মোকাবিলায় নেভিগেশন সিস্টেমটি মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার ঘুরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা ছিল। নতুন আপডেটের পর সেই সমস্যাও দূরীভূত হয়েছে।

মঙ্গলে ছিল এক কিলোমিটার গভীর সমুদ্র, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

মঙ্গলে একটা সময়ে বিশাল জলরাশি ছিল। শুধু জলরাশি বললে ঠিক বলা হবে না, মঙ্গলে ছিল বিশাল সমুদ্র। কারণ সেই সমুদ্রের গভীরতা ছিল হাজার ফুটেরও বেশি। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। অর্থাৎ গবেষণার পরে মঙ্গলকে আর রুক্ষ্ম, শুষ্ক গ্রহ বলে মনে করলে চলবে না।

মঙ্গলে ছিল এক কিলোমিটার গভীর সমুদ্র, সাম্প্রতিক মহাকাশ গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

মঙ্গল আদতে লাল গ্রহ। তপ্ত লোহার মতো মঙ্গলের রং। কিন্তু মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। ফলে গরমের লেশমাত্র ভাগও নেই। হিমাঙ্কের তাপমাত্রার থেকে অনেক মঙ্গলের তাপমাত্রা। স্বাভাবিকভাবেই এই গ্রহে যা কিছু জলরাশি তা বরফ হয়ে থাকতে চায়। তার উপর বায়ুমণ্ডল খুব পাতলা এবং খুব ঠান্ডা হওয়ার কারণে বরফ ছাড়া আর কোনও জলের অস্তিত্ব নেই এখানে।

তবে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় কিন্তু ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলেও জলরাশি ছিল। ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে মঙ্গল গ্রহে ৩০০ মিটার অর্থাৎ প্রায় হাজার ফুট গভীর সমুদ্র ছিল। এই সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল গত ১৭ নভেম্বর। তারপর থেকেই মঙ্গলে সমুদ্রের অস্বিত্ব নিয়ে চর্চা চলছে।

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মঙ্গলে সমুদ্রের উপস্থিতি নিয়ে একটি গবেষণা করেন। সেন্টার ফল স্টার অ্যান্ড প্ল্যানেট ফর্মেশনের প্রফেসর মার্টিন বিজারো একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, মঙ্গল গ্রহে বরফে ভরপুর গ্রহাণু বর্ষণ হয়। এই কাণ্ড গ্রহেৎ বিবর্তনের প্রথম ১০০ মিলিয়ন বছরে ঘটেছিল।

এই গবেষণায় আর একটি আকর্ষণীয় দিক যা উঠে এসেছে, তা হল- গ্রহাণুগুলি জৈব অণু বহন করে, যা জীবনের জন্য জৈবিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বরফের গ্রহাণুগুলি যে কেবল লাল গ্রহে জল পরিবরণ করেছিল, এমনটা নয়, সেই সঙ্গে আবার অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো বায়োলজিক্যাল উপাদানগুলিও বহন করেছিল। ফলে মঙ্গলে জলের সঙ্গে জীবনও ছিল।

সাম্প্রতির এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মঙ্গল গ্রহের ওই প্রাচীন মহাসাগরগুলি কমপক্ষে ৩০০ মিটার গভীর ছিল। এক কিলোমিটার গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছেছিল মহাসাগরগুলি, এমন প্রমাণও মেলে। গবেষকরা বলেন, মঙ্গলে তখন এতটাই জল ছিল যে, পৃথিবীতেও এতটা জল ছিল না। সেই সময়ে পৃথিবীর সঙ্গে অন্য একটি গ্রহের বিশাল সংঘর্ষ হয়েছিল বলেও গবেষণার উঠে আসে। ফলে তখন পৃথিবীতে নেমে এসেছিল বিপর্যয়।

গবেষকরা বলেন, পৃথিবীর সঙ্গে অন্য এক গ্রহের সংঘর্ষের ফলে আর্থ-মুন সিস্টেম গঠিত হয়েছিল। একইসঙ্গে পৃথিবীর সমস্ত সম্ভাব্য জীবনকে নিশ্চিহ্ন করেছিল সেই সংঘর্ষ। সাম্প্রতিক গবেষণার ফলে বিজ্ঞানীদের কাছে সত্যিই আরও দৃঢ় প্রমাণ চলে এল। প্রমাণ পেলেন গবেষকরা যে, পৃথিবীর থেকে অনেক আগে মঙ্গলে প্রাণের উদ্ভবের পরিবেশ ছিল।

 

65 ভিউ

Posted ১:১০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com