সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

সোমবার ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মডেলিংয়ের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী

মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১
243 ভিউ
মডেলিংয়ের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী

কক্সবাংলা ডটকম :: ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম মৌ। দু’জনই কথিত মডেল। নামের সামনে মডেল শব্দটি যুক্ত থাকলেও মডেলিং জগতে তাদের তৎপরতা তেমন একটা নেই। চেহারার লাবণ্য আর শারীরিক সৌন্দর্যকে পুঁজি করে তারা হেঁটেছেন ভিন্ন পথে। ঢাকার বিত্তশালীদের কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন। বাসায় পারিবারিক পার্টির কথা বলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের ডেকে নিতেন। সুযোগ বুঝেই রূপের আড়ালের আসল মানুষটাকে চেনাতেন। বাসায় আমন্ত্রিত অতিথিকে ফাঁদে ফেলে বস্ত্রহীন ছবি-ভিডিও তুলে রাখতেন।

তারপর সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে করতেন ব্ল্যাকমেইলিং। আদায় করতেন লাখ লাখ টাকা। কাঙ্ক্ষিত টাকা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চলে এই পন্থা। এভাবে পিয়াসা ও মৌ দীর্ঘদিন ধরে তাদের রংমহলে ডেকে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ব্ল্যাকমেইলিং করে আসছিলেন। হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। অবশেষে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ কথিত এই দুই মডেলকে গ্রেপ্তার করেছে।

রোববার গভীর রাতে ঢাকার অভিজাত এলাকা বারিধারার ৯ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি’র সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। এ সময় পিয়াসার বাসার টেবিলে অভিযানিক দল চার প্যাকেট ইয়াবা, রান্নাঘরের ক্যাবিনেট থেকে ৯ বোতল বিদেশি মদ, ফ্রিজে একটি আইসক্রিমের বাক্স থেকে সিসা তৈরির কাঁচামাল এবং বেশ কয়েকটি ই-সিগারেট পাওয়া গেছে। এছাড়া পিয়াসার কাছ থেকে ৪টি স্মার্টফোন জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পিয়াসাকে আটকের পর অভিযানিক দল মোহাম্মদপুরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মরিয়ম মৌ’কে আটক করে। তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযানিক দল মদের বারের অস্তিত্ব পায়। এছাড়া ৭৫০ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয় তার বাসা থেকে।

ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এক আলোচিত নাম। বিভিন্ন কারণে তিনি আলোচনায় এসেছেন বেশ কয়েকবার। পিয়াসা ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। এনটিভি’র রিয়েলিটি শো ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’র অন্যতম প্রতিযোগী ছিলেন পিয়াসা। কাজ করেছেন এশিয়ান টেলিভিশনের পরিচালক এবং প্রিভিউ কমিটির প্রধান হিসেবে। ২০১০ সালের পরে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদের সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।

২০১৫ সালের ১লা জানুয়ারি শাফাতকে ১ টাকা কাবিনের বিনিময়ে বিয়ে করে আলোচিত হন। তারপর ২০১৭ সালে রাজধানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় আলোচিত হন মডেল পিয়াসা। ওই ঘটনায় তার স্বামী শাফাত ছিলেন নাটের গুরু। এ বছর আবারও আলোচনায় আসেন পিয়াসা। গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়, তাতেও পিয়াসার নাম রয়েছে। সর্বশেষ ব্ল্যাকমেইলিং করে টাকা হাতিয়ে নেয়া ও বাসায় সিসা লাউঞ্জ ও মাদক রাখায় গ্রেপ্তার হয়ে ফের আলোচনায় আসেন।

এদিকে মডেল মরিয়ম মৌ’কে নিয়ে বের হয়েছে চাঞ্চল্যকর নানান তথ্য। ৪৩ বছর বয়সী মৌ ফার্স্ট ফাইন্যান্স নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক একেএম ফয়সাল আহমেদ চৌধুরীর চতুর্থ স্ত্রী। মোহাম্মদপুরের ২২/৯ বাবর রোডের বাসায় থাকতেন। বাসাটি তার স্বামী ফয়সালের। এ বাসা থেকে মৌ মাদক বিক্রিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। এছাড়া তিনি ঢাকার ধনাঢ্য পরিবারের নারীদের কাছে টাকার বিনিময়ে ছেলে সরবরাহ করতেন। ফয়সালকে বিয়ে করার আগে মৌ আরও ১১টি বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রত্যক স্বামীকে মোটা অংকের কাবিনে বিয়ে করেন। সুযোগ বুঝে তালাক দিয়েছেন। তার আগে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। মূলত টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার জন্য বিয়ের ফাঁদও পাতেন। সাইবার সূত্র জানিয়েছে, পিয়াসা ও মৌ একই চক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্য সখ্য। তারা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছিলেন। তাদের চক্রে একাধিক সদস্য রয়েছে। প্রত্যকেরই আলাদা আলাদা কাজ ছিল।

ঢাকা শহরে এমন একটি লেডি মাফিয়া গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন মরিয়ম আক্তার মৌ। গত রোববার রাতে মৌয়ের মোহাম্মদপুর বাবর রোডের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা আর সিসা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাসায় প্রায় প্রতিদিনই মদের আসর বসে। আর এ আসরের মধ্যমণি হয়ে থাকেন মৌ। তার গ্রুপে রয়েছে অসংখ্য নারী। চট্টগ্রামের একটি পার্টিতে পিয়াসার সঙ্গে পরিচয় হয় মরিয়ম আক্তার মৌয়ের। সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা। ধীরে ধীরে পিয়াসার নেটওয়ার্কে বিচরণ ঘটে তার। পিয়াসার পরামর্শে মাঝে মাঝেই ২২/৯, বাবর রোডের বাসায় আসর বসাতেন মৌ। অনেকটা মিনিবারের মতো করেই মৌ তার ড্রয়িং রুমের ডেকোরেশন করেছেন। অনেক সুন্দরীর উপস্থিতিতে সেই পার্টিতে রাখা হতো বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। অর্থের বিনিময়ে তাদের কাছে মদ, ইয়াবা, সিসাসহ অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করতেন। তাদের রিমান্ড আবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ওই আসরে ধনী ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে ফাঁদে ফেলে ব্লাকমেল করতেন মৌ। ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, মৌ তার নিজের বাসায় নাচ ও গানের আসর বসান। তার সঙ্গে আরও দু-তিনজন জড়িত রয়েছেন। আসামি মৌ একজন নারী মাদক ব্যবসায়ী। স্বামী একটি লিজিং কোম্পানির কর্মকর্তা। তবে তিনি স্ত্রী মৌয়ের নির্দেশনায়ই চলতেন। মৌ তার দ্বিতীয় স্ত্রী। আগের স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পরই মৌকে বিয়ে করেন তিনি।

ডিবি’র সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম সূত্র জানিয়েছে, দু’জনই রাতের রানী ছিলেন। তারা দিনভর ঘুমাতেন আর রাতের বেলা রঙ্গমহল সাজাতেন। তাদের রঙ্গমহল পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকজন সহযোগী ছিল। তারা সবাই একই চক্রের সদস্য। ব্ল্যাকমেইল করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। পিয়াসা বারিধারায় একাই একটি অভিজাত ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতেন। সন্ধ্যার পর থেকে তার ফ্ল্যাটে চলতো পার্টি। ডিজে গানের তালে তালে স্বল্প বসনা হয়ে পিয়াসা নাচতেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে আনন্দ বিলিয়ে দিতেন। নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা অতিথির সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটাতেন। আর এসব দৃশ্য ধারণ করে রাখতেন তার সহযোগীরা। সাইবারসূত্র জানিয়েছে, পারিবারিক পার্টির নামে এসব আয়োজন চলতো। পার্টিতে বিদেশি মদ, ইয়াবা থাকতো। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মাদক সংগ্রহ করে রাখতেন।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পিয়াসা ও মৌ দু’জনই গ্ল্যামার্স গার্ল। কিছুদিন মিডিয়া অঙ্গনে থাকার জন্য মোটামুটি পরিচিতি ছিল তাদের। এছাড়া তারা দু’জনের গ্ল্যামার্স থাকার কারণে অনেকেই তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইতেন। তারাও কাউকে নক করলে যে কেউ তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যেত। এর বাইরে তারা কিছু লোককে টার্গেট করে কাজ করতেন। চক্রের পুরুষ সদস্যরা কিছু লোককে টার্গেট করে তাদের ফেসবুক আইডি, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে এসব আইডিতে বন্ধু হবার প্রস্তাব পাঠাতেন। অনেক সময় মোবাইল নম্বরে রং নম্বর বলে ফোন দিয়ে পরিচয়ের সূত্রপাত করতেন। কারো সঙ্গে পরিচিত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সখ্য গড়ে তুলতেন। তারপর পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের বাসায় পার্টিতে আমন্ত্রণ জানাতেন।

পরিকল্পিত সেই পার্টিতে নাচ-গানের ব্যবস্থা থাকতো। অতিথিকে মদ খাইয়ে মাতাল করা হতো। অনেক সময় নেশাদ্রব্যের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেয়া হতো। তারপর অচেতন অতিথির সঙ্গে পিয়াসা-মৌ অন্তরঙ্গভাবে দাঁড়িয়ে শুয়ে ছবি ভিডিও করাতেন। আবার অনেক সময় তাদের হেফাজতে থাকা অন্যান্য নারীদের দিয়ে একই কাজ করাতেন। অভিযানের সময় পিয়াসা ও মৌ-এর মোবাইল থেকে অন্তরঙ্গ অনেক ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।

সাইবার সূত্র আরও জানিয়েছেন, পিয়াসা ও মৌ শুধু প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাসায় ডেকে বিভিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করতেন না। তারা দু’জন পুরুষের কাছে টাকার বিনিময়ে নারী ও বিভিন্ন ধনাঢ্য ঘরের নারীদের কাছে পুরুষ সরবরাহ করতেন। এই কাজ করে তারা লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। সরবরাহ করার জন্য তাদের কাছে অনেক নারী পুরুষ ছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি-উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশীদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পিয়াসা ও মৌ দু’জনই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে আজ তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। দু’জনের বাসায় বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসা পাওয়া গেছে। মৌ-এর বাড়িতে মদের বারও ছিল। তিনি বলেন, আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রানী। তারা দিনের বেলায় ঘুমান এবং রাতে এসব কর্মকাণ্ড করেন। উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের পার্টির নামে বাসায় ডেকে আনতেন তারা। বাসায় এলে তারা তাদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। পরবর্তীতে তারা সেসব ভিডিও ও ছবি ভিক্টিমদের পরিবারকে পাঠাবে বলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিতেন।

এদিকে পিয়াসা ও মৌ-এর বিরুদ্ধে ডিবি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দু’টি মামলা দিয়েছে। মোহাম্মদপুর থানায় মৌ-এর বিরুদ্ধে আর গুলশান থানায় পিয়াসার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল বিকালে দু’জনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। পরে আদালত দু’জনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বাড়িতে গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা !

মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌয়ের টার্গেট ছিল ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। বিভিন্ন পার্টিতে গিয়ে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতেন তারা। তারপর পার্টির নামে নিজ বাসায় ডেকে আনতো তারা। পার্টি শেষে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করতো। মডেল পিয়াসার পুরো বাসায় গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা পেয়েছে গোয়েন্দারা। এসব সিসিটিভির ফুটেজ জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রবিবার (১ আগস্ট) বারিধারা ও মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, দেড় হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, সীসা খাওয়ার উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পিয়াসার নামে গুলশান থানায় ও মৌয়ের নামে মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সোমাবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ন কমিশনার হারুণ অর রশিদ বলেন, ‘এরা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের টার্গেট হলো কোটিপতি ব্যবসায়ী বা ব্যবসায়ীদের সন্তানেরা। বিভিন্ন ক্লাব বা বারে গিয়ে তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে ব্ল্যাকমেইল করতো তারা। একই সঙ্গে তারা বাসায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের আসর বসাতো। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পিয়াসা বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাসার যে ফ্ল্যাটে থাকেন, সেটির আয়তন চার হাজার বর্গফুট। এই ফ্ল্যাটের ভাড়া প্রায় আড়াই লাখ টাকা। তিনি আরএম গ্রুপে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে নামকাওয়াস্তে একটি চাকরি করেন। ব্ল্যাকমেইলিং করে আয়কৃত অর্থ দিয়েই তিনি বিলাসবহুল জীবন-যাপন করতেন।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গত শনিবার রাতেও পিয়াসা তার বাসায় মদ-ইয়াবা সেবনের একটি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। ওই পার্টিতে দেশের নামকরা একটি গ্রুপ অব কোম্পানিজের মালিকের ছেলে উপস্থিত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিয়াসা জানিয়েছে, তার বাসাতে মাঝে-মধ্যেই এ ধরণের আয়োজন হতো। এসব পার্টিতে উচ্চবিত্ত ও ধণাঢ্য ব্যক্তিরা নিয়মিত অংশ নিতেন। তারাই তাকে নিয়মিত অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল জীবন-যাপন করতে সহায়তা করতো।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারের পর পিয়াসা আরেকটি নামকরা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রেফারেন্স দিয়ে বলেছিলেন, ‘…. ভাইয়া আমাকে যেকোনও মূল্যে ছাড়িয়ে নিবে।’ কিন্তু পিয়াসার জন্য কেউ তদবির করেনি জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তার মোবাইলে গুলশান-বনানী-বারিধারা এলাকার প্রায় সকল ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সেভ করা রয়েছে। তাদের সঙ্গে পিয়াসা নিয়মিত বিভিন্ন পাটিতে অংশ নিত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালের মে মাসে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার সেলিমের ছেলে সাফাতের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রথম আলোচনায় আসেন পিয়াসা। পিয়াসা সেসময় সাফাতের বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন। দিলদার সেলিম সেসময় অভিযোগ করেছিলেন, তার পূত্রবধূ পিয়াসাই তার ছেলেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এরপর গত এপ্রিলে গুলশানের একটি বাসা থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার হলে আবারও আলোচনায় আসেন পিয়াসা।

গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, পিয়াসার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। তার বাবা মাহবুব আলম চট্টগ্রাম পোর্টে পরিদর্শক হিসেবে চাকরি করতেন। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। কিন্তু পিয়াসা ঢাকায় এসে মডেলিং করার নামে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন, যাদের কাজই হলো কোটিপতি ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের ব্ল্যাকমেইল করা। পিয়াসার সিন্ডিকেটে কয়েক ডজন নারী রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে মৌয়ের বাবর রোডের বাসায় অভিযানের সময় তিনি ভাসাবির জামানের স্ত্রী তানজি ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসিয়েছে বলে দাবি করেন। মৌয়ের ভাষ্য, তানজির সঙ্গে মোকাম্মেল নামে কোনও এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পিয়াসার সঙ্গে তার ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলার বিষয় এবং তানজির প্রেমের বিষয়টি তিনি জানতেন। এজন্য তানজি তাকে বাসায় পুলিশ পাঠাবেন বলে হুমকিও দিয়েছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাসাবির যে জামানের কথা মৌ বলেছিলেন, তিনি ভাসাবি ফ্যাশন হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল জামান মোল্লাহ। তিনি একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। মৌয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার কোনও ভাষ্য পাওয়া যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উচ্চবিত্ত ও কোটিপতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে পার্টিতে যাতায়াত ও মেলামেশা নিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় পিয়াসা ও মৌ ইন্ধন দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পিয়াসা ও মৌ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেও নিজেরা আর্থ হাতিয়ে নিয়ে থাকে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

দেশে বাড়ছে সেলিব্রেটি নারী অপরাধী

দেশে বাড়ছে সেলিব্রেটি নারী অপরাধী

একটা সময় ছিলো মনে করা হতো যে, পুরুষরা বেশি অপরাধ করে, নারীদের অপরাধ প্রবণতা কম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে, অপরাধ প্রবণতায় পুরুষকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে নারীরা। আর বিভিন্ন হত্যা, নির্যাতন ইত্যাদি ঘটনা যেমন আছে তেমনি আছে পরিকল্পিত অপরাধ চক্র। অপরাধ চক্রে নারী অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে। শুধু নারী অপরাধী না, সেলিব্রেটি নারী অপরাধী। যারা সমাজে বিভিন্নভাবে পরিচিত তাদের অপরাধের মাত্রা এখন আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।

গত দুই বছরে বাংলাদেশে শোবিজ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে যারা পরিচিত মুখ, প্রভাবশালী এরকম নারীদের অপরাধ প্রবণতার খবর মাধ্যমে আসছে, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে কিন্তু এরকম অনেক অপরাধী এখনো দৃশ্যপটের আড়ালে রয়ে গেছে বলেই বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে।

পাপিয়া ছিলেন যুবলীগের নরসিংদী জেলার সভাপতি। তিনি বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। সেজন্য তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু পাপিয়ার এই ঘটনার পর বন্ধ হয়নি এই ধরনের সেলিব্রেটি নারীদের অপরাধ প্রবণতা।

পাপিয়ার ঘটনার পর মডেল অভিনেত্রী রোমানা স্বর্ণা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং ব্যবসায়ীকে বিয়ের কথা বলে তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ ছবি তুলে তাকে ব্লাকমেইল করেন। এই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি এখন কারাগারে আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের মহিলা উপকমিটির সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও প্রতারণা, জালিয়াতি এবং সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি রিমান্ডে রয়েছেন।

এরকম অপরাধের অভিযোগে গত রাতে আরো দুইজন শোবিজের তারকাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং মরিয়ম আক্তার মৌ। এদের দুইজনই শোবিজে অল্প পরিচিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে এবং ব্ল্যাকমেইল করে তারা বিভিন্ন মহলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন -এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ কারণেই এখন এই সেলিব্রেটি অপরাধীদের ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রগুলো বলছে, যারা শোবিজে একটু পরিচিত তাদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই কিছু কিছু মানুষ আকৃষ্ট হন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চান। আর এটিকেই পুঁজি করে কেউ কেউ অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়েন। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, পাপিয়া, রোমানা স্বর্ণা, হেলেনা, পিয়াসা, মৌ হলো টিপ অফ দ্যা আইসবার্গ।

আরো অনেকেই এরকম আছেন যাদের কাজ হলো মানুষকে ফুসলিয়ে ফাঁদে ফেলে তাদের কাছে অর্থ আদায় করা এবং এই বিষয়গুলো এখন সমাজের বাড়ছে বলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মনে করছে। আর এ কারণেই তথাকথিত এ সমস্ত সেলিব্রেটিদের ব্যাপারে এখন খোঁজখবর নেওয়া বেড়েছে। শোবিজের অনেক ব্যক্তি আছে যাদের বৈধ আয়ের কোন উৎস নাই কিন্তু তারা কিভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন তা রহস্যময়।

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসামঞ্জস্যতার প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে তাদের অন্ধকার জীবনের কথা। সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকজন আলোচিত নারী অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের বিলাসবহুল জীবনের পেছনে রয়েছে অবৈধ সম্পদ এবং মানুষকে ঠকিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করে তারা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। বাংলাদেশের অপরাধ জগতে এটি একটি নতুন এবং এবং উদ্বেগের দিক বলেই মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

 

243 ভিউ

Posted ২:০০ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com