শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আপনার যাওয়া উচিত কি ?

বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০১৭
421 ভিউ
মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আপনার যাওয়া উচিত কি ?

কক্সবাংলা ডটকম(১১ অক্টোবর) :: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বর্তমানে বিশ্বের ৩০ কোটির বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।  আর এই সমস্যার প্রভাব পড়ছে কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর। সিধেঁল চোরের মতোই একজন মানুষকে নিঃস্ব করে ফেলে।

আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবস পালন করা হয়। দিবসটিতে অর্থসূচকের পাঠকের জন্য থাকছে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ছোট্ট একটি কোলাজ-

সাধারণত বিষণ্নতা, অবসাদ, মানসিক উদ্বিগ্নতা, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার এর মতো মানসিক সমস্যাগুলোই বেশি দেখা যায়। অনেক সময় এই সমস্যাগুলো প্রচ্ছন্ন হতে পারে। তখন হয়তো সমস্যাটিকে  অনুভব করা যায় না। যার কারণে সমস্যা শুরুর দিকেই নেওয়া যায় না সমাধানেরও ব্যবস্থা।

তবে কিছু বিষয় বা প্রশ্ন মাথায় রাখলেই আপনি আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাবেন।

আপনার অনুভূতিগুলো কেমন তীব্র?

জীবনের উঠা নামার অভিজ্ঞতা সবার জন্য স্বাভাবিক। কিন্তু, আপনার নিজেকে যা জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন তা হল, আপনার ঐ উঠানামাগুলো কেমন তীব্র এবং প্রায়ই কি আপনি তা অনুভব করেন?  যদি আপনি অনুভূতির দ্বারা পুরোপুরি বন্দী মনে করেন˗ তা হোক রাগ, দুঃখবোধ বা এমনকি খুশির ও যদি তীব্র বহিঃ প্রকাশ ঘটে তাহলে এর পেছনে একটা আভ্যন্তরীণ বিষয় থাকতে পারে। যখন কিছু অপ্রত্যাশিত এবং চ্যালেঞ্জিং কিছু ঘটে আপনি কি প্রথমেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থার কথা চিন্তা করেন? যদি তাই হয়, তাহলে আপনি হয়তো উদ্বেগ বা অনুভূতির রোগে ভুগছেন।

আপনার অনুভূতিগুলো কি আপনাকে দৈনন্দিন জীবনে বাধা দেয় বা তা কঠিন করে তোলে?

এইসব তীব্র অনুভূতিবোধ কি আপনাকে আপনার প্রত্যাশিত জীবন যাপনে পিছিয়ে দিচ্ছে? আপনি কি প্রায়ই দুঃখবোধ বা উদ্বেগের কারণে কর্মপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন বা বন্ধুদের সাথে সামাজিকতা এড়িয়ে চলেন? প্রায়ই খাবার খান না? যদি আপনার অনুভূতিগুলো আপনার জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসা আপনাকে আপনার জীবনপথে ফিরিয়ে আনতে এবং সঠিক নির্দেশনায় চলতে সাহায্য করবে।

আপনি কি অবিরত একটা কষ্টকর ঘটনা প্রত্যক্ষ করছেন?

কষ্টকর ঘটনার উদাহরণ হল প্রিয়জনের মৃত্য, সঙ্গীর সাথে বিচ্ছেদ বা চাকরি হারানো যেসব ক্ষেত্রে কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হয়। সবার এই বিষয়গুলো থেকে সেরে উঠতে সময় লাগে, কিন্তু যখন এর বারবার আপনার মনে ঘুরপাক খাওয়া বন্ধ করতে পারেন না, বিষন্নতার পর্যায়ে চলে যাওয়া ঠেকাতে পারেন না এটা বিষন্নতার উপসর্গ নামে পরিচিত এবং যদি চিকিৎসা না করা হয় সহজেই তা তীব্র বিষন্নতা রোগে রুপ নিতে পারে ।

কিছু ক্ষেত্রে যারা কষ্টকর অভিজ্ঞতার মাধ্যমে প্রভাবিত তারা সহজেই অতিউৎফুল্লতাপ্রবন আচরন করেন˗ বন্ধুদের সাথে বেশি মেশা, ঘুমহীনতা বা উদ্দেশ্যহীন/অপ্রয়োজনীয় খরচ করা বা পার্টি/উৎসবে মেতে থাকা হল সর্তক সংকেত যে ব্যক্তি তার পরিস্থিতিটা আরোগ্য উপযোগীভাবে মোকাবেলা করছে না এবং মানসিক সুস্থ্যতার চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

আপনার কি ক্রমাগত মাথাব্যথ্যা?

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়সমূহ যার চিকিৎসা করা হয়নি বিশেষত সমাধান করা হয় নি এমন চাপ বা উদ্বেগ অনেক সময়ই শারীরিক বিভিন্ন উপসর্গ তৈরি করে যেমন প্রতিদিন মাথাব্যথা, পেট খারাপ, প্রায়ই ঠাণ্ডা লাগা বা ফ্লু হওয়া, ঘাড়ে ব্যথা, যৌন চাহিদা কমে যাওয়া এবং অন্যান্য। কিছু ক্ষেত্রে এই উপসর্গসমূহ অন্যান্য রোগের উপসর্গসমূহের মতই হয়ে থাকে তাই আপনার ডাক্তারের সাথে যেকোনো উপসর্গের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলা খুব জরুরি।

আপনি কি মাদকদ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে অনুভূতির তীব্রতা কমানোর চেষ্টা করেন?

যদি আপনি প্রায়ই ‘কষ্ট কমানোর জন্য’ মদ বা ঔষধ/মাদকদ্রব্য খোঁজেন বা প্রায়ই বা বেশি পরিমানে মদ্যপান করেন তাহলে আপনি শুধু মাত্র সমস্যা মোকাবেলার চেয়ে সমস্যা ঢাকছেনই না বরং নিজেকে আরো বেশি আসক্তির ঝুঁকিতে ফেলছেন। এইভাবে নিজে নিজে ঔষধ খাওয়া মানুষ ১২% উদ্বেগজনিত রোগের দিকে নেয়ার মাধ্যমে আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

আপনি কি সমস্যা সমাধানের  বিষয়ে হতাশ?

যদি আপনি সব ধরনের ‘সঠিক মাধ্যমে’চেষ্টা করেছেন যেমন বেশি ব্যায়াম করা, আত্মসহায়তাকারী বই, বন্ধু এবং পরিবারের সাথে নিজের অনুভূতি বিষয়ে কথা বলা এবং অনলাইনে সহায়তা দলের খোজ করা ˗এবং আপনি এখনো একইরকম বোধ করেন ˗এটা একটা সংকেত যে, আপনার পেশাদার/বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলর বা থেরাপিষ্টের সহায়তা দরকার।

আপনি কি কর্মজীবনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন?

যখন আপনার মানসিক অবস্থা স্কুলে বা কর্মক্ষেত্রে অনুমানযোগ্য হয়ে যায়˗অনেক দিন অসুস্থ থাকা, সময়মতো কিছু শেষ করতে না পারা, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া˗ তখন আপনার পেশাদারদের/বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সহায়তা দরকার। যদি চিকিৎসা না করা হয় তবে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে- যা শেষে আপনার বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্যকে আরো খারাপ করে তুলবে এবং সবকিছুকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

আপনি কি আপনার সাধারণ শখ এবং কার্যক্রমের প্রতি ভালবাসা হারিয়েছেন?

আপনি গাছের নিচে শুয়ে আপনার প্রিয় বই পড়তে, আপনার বন্ধুদের সাথে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাইরে যেতে পছন্দ করতেন। কিন্তু এখন আপনি মনে করেন যে এই কার্যক্রমগুলো তাদের আকর্ষণ হারিয়েছে এবং আপনি নিজেকে বেশি বেশি বাসায় একা, টেলিভিশনের দিকে তাকিয়ে থাকতে বা নেতিবাচক চিন্তারত অবস্থায় দেখেন। যারা মানসিক রোগে ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে বাইরের জগতের সাথে বিচ্ছিন্নতা বোধ করা খুব স্বাভাবিক।

আপনার সম্পর্কগুলো কি কষ্টদায়ক মনে হচ্ছে?

যদি আপনি নিজের সম্পর্কে দুঃখবোধ করে থাকেন, আপনি সম্ভবত নিজেকে বোঝাবেন যে অন্যরাও একইরকম বোধ করে। আপনি হয়তো ভাববেন যে, মানুষ আপনাকে আক্রমণ।আপনি প্রতিরোধপ্রবন হয়ে উঠবেন।

এর কারণ হচ্ছে আপনার আসল অনুভূতিগুলো এবং কেন হচ্ছে তা ধরতে পারছেন না, এটা কাছের মানুষের কাছে প্রকাশ করা কঠিন হতে পারে এবং আপনি আপনার ও কাছের অন্যান্য সবার মধ্যে হয়তো একটা দেয়ালের অস্বিত্ব অনুভব করতে শুরু করেন। আপনি সম্পর্কগুলো হারানোর আগে পেশাদার সাহায্য নিন।

প্রিয়জনেরা কি আপনার কোনো বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে?

আপনি ভেতর থেকে পরিস্থিতি বোঝার চাইতে প্রায়ই বাইরে থেকে আপনার কাছের মানুষদের এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা সহজ সহজ। যদি আপনার কোনো কাছের বন্ধু বা পরিবার আপনার আচরন নিয়ে প্রতিক্রিয়া করে থাকে বা আপনি আপনার এই অনুভূতিগুলো নিয়ে কারো সাথে কথা বলেছেন কি না তা জিজ্ঞেস করে থাকে, তা মাথায় রাখবেন। এই বিষয়ে সৎ হওয়া এবং এই পরিস্থিতি এমনভাবে মোকাবেলা করা যা আপনাকে আরো খারাপ অনুভূতি দেবে না বা আপনাকে কষ্ট দেবে না এমনভাবে এগোনো অনেকের জন্যই খুব কঠিন। কাজেই যদি তারা এই ব্যপারে আপনার সাথে কথা বলার সময় বের করে এই সম্ভাবনা খুব বেশি যে, আপনার তাদের পরামর্শ নেয়া উচিত এবং বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা উচিত।

নিজে করুন

তবে জীবনযাপনে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে সব মানসিক সমস্যা দূরে ঠেলে মনকে ফুরফুরে করে তুলতে পারেন। এ রকম সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে পারেন।

নিয়মমাফিক চলুন

দৈনিক কাজের একটি নিয়ম দাঁড় করান। নিয়ম মেনে খাওয়া, ঘুম থেকে জাগা বা বিছানায় যাওয়ার বিষয়টি মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য দরকারি।

ব্যায়াম করুন

মানসিকভাবে ভালো থাকতে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটাও জরুরি। শরীরকে সক্রিয় রাখতে সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলে সুখ হরমোন নিঃসৃত হয়। মানসিকভাবে হালকা বোধ করতে বা মন ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের চর্চা করে যান।

পুষ্টিকর খাবার খান

পুষ্টিমানসম্পন্ন ও সুষম খাবার খাবেন। খাবারের তালিকায় বেশি করে ফল আর সবজি রাখুন। মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে এমন খাবার, বিশেষ করে বাদাম কিংবা পালংশাকের মতো খাবার খান।

যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করুন

এখনকার সময় মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন কিংবা মনোযোগ কেড়ে নেওয়া নানা যন্ত্র রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যতটা সম্ভব যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোনসহ যন্ত্র ব্যবহার বাদ দিন। এমনকি দিনের বেলাতেও যন্ত্র যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

সক্রিয় থাকুন

সংবাদপত্র পড়ে, পাজল মেলানো, ক্রসওয়ার্ড সমাধান করার মতো নানা কাজে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখুন। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে, এমনকি শেখার দক্ষতা বাড়বে।

421 ভিউ

Posted ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১১ অক্টোবর ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com