
কক্সবাংলা ডটকম(২৫ সেপ্টেম্বর) :: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চীনপন্থী মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন পরাজয় মেনে নিয়েছেন। আর বেশ বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ভারতপন্থী বিরোধীদলীয় প্রার্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতকে অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে মালদ্বীপে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। ওই সময় সেখানে থাকা বাংলাদেশীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তাও জারি করেছিল বাংলাদেশ।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালদ্বীপের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদ নয়াদিল্লিকে সৈন্য পাঠানোর অনুরোধও করেছিলেন। এমনকি ইয়ামিন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থগিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বানও জানান। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের পেছনে ছিল চীনের সমর্থন।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর জয় ভারত মহাসাগরে চীনকে পেছনে ফেলে ভারতের প্রভাবই দেখছে ঢাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখালের সফরেও গুরুত্ব পেয়েছিল মালদ্বীপ ইস্যু।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, মালদ্বীপের রাজনৈতিক সংকট বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারত। তবে ভারতপন্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর জয় নিশ্চিত হওয়ায় একপ্রকার স্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র ভারত এ অঞ্চলে একপ্রকার কূটনৈতিক জয় পেয়েছে। তবে ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহর জয় নিয়ে বাংলাদেশ খুবই সতর্ক আচরণ করবে।
নিয়ম অনুযায়ী, একটি প্রতিবেশী দেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সর্বোচ্চ অভিনন্দন বার্তা পাঠানো হবে। কারণ এক্ষেত্রে আমাদের অন্যতম অংশীদার চীনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। তবে সরকার প্রধান (প্রধানমন্ত্রী) দেশে ফিরেই সব সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনের আধিপত্য বেশ স্পষ্ট লক্ষ করা যাচ্ছে। পাকিস্তান ও শ্রীলংকা চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটানেও চীনের আধিপত্য বাড়ছে। আফগানিস্তানে চীনের উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতো এত বেশি না হলেও বাংলাদেশে চীনের বেশ ভালো প্রভাব রয়েছে।
মালদ্বীপে চীনাপন্থী প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের জয় হলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে হতো। অন্যতম প্রতিবেশীকে সন্তুষ্ট রাখার বিষয়টি প্রাধান্য পেত নাকি বৃহৎ অংশীদারকে সন্তুষ্ট রাখা হতো, তা নিয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ত ঢাকা।
এদিকে ভারত ও শ্রীলংকা সলিহকে অভিনন্দন জানানোর পর মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মালডিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী সলিহ নির্বাচনে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন।’ নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দেখা গেছে, সলিহ ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। পক্ষান্তরে ইয়ামিন ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
২০১৩ সালে বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মালদ্বীপে আইনের শাসনের অবনতি হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গাইয়ুম, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলি হামিদসহ বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন।
মালদ্বীপের গণতন্ত্র সূচনার নেপথ্যে যাকে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেয়া হয়, দেশটির সেই সাবেক নেতা মোহাম্মদ নাশিদ এ পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি নাশিদ এক টুইটার পোস্টে নয়াদিল্লিকে সেনা পাঠানোর আহ্বান জানান।
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের মতো মালদ্বীপও ভারতের ওপর নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্ভরশীল। ভারত এ অঞ্চলের প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ১৯৮৮ সালে নয়াদিল্লি মালদ্বীপে এক অভ্যুত্থান নস্যাৎ করতে সেনা পাঠায়।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেকে বিশ্বাস করেন, মালদ্বীপের রাজনীতিকে দেখভাল করে রাখা ভারতের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এক প্রকার অস্বস্তি তৈরি করেছে ভারতের জন্য।

Posted ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta