শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম সম্পত্তি ক্রয়ে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশিরা

বুধবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৮
177 ভিউ
মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম সম্পত্তি ক্রয়ে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশিরা

কক্সবাংলা ডটকম(৭ নভেম্বর) :: মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের আওতায় সম্পত্তি কেনা নাগরিকদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশিরা। দেশের বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলারা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমের বাসিন্দা হয়েছেন।

মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম (এমএম ২ এইচ) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২০০৭ সালে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৯৯টি ইউনিট সেকেন্ড হোমের অধীনে বিক্রি করা হয়েছে। আর এই সম্পত্তি কেনায় চায়না এবং ইংল্যান্ডের নাগরিকদের পরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান।

চলতি মাসে দেশটির স্থানীয় সরকারমন্ত্রী রাজা কামারুল বাহরিন শাহ সাংবাদিকদের বলেন, এমএমটুএইচ’র অধীনে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি কিনেছেন চায়নিজ নাগরিকরা। মোট বিক্রয়কৃত সম্পত্তির ৩৭ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ৬৬৪ ইউনিট কিনেছেন চায়নার নাগরিকরা।

তিনি জানান, এরপর সবচেয়ে বেশি বাড়ি কিনেছেন ইংল্যান্ডের ৩৫৭ ইউনিট, বাংলাদেশের ২৫০ ইউনিট, ইরানের ২১৭ ইউনিট, জাপানের ২০৮ ইউনিট, পাকিস্তানের ১৯২ ইউনিট, সিঙ্গাপুরের ১৭৫ ইউনিট, অস্ট্রেলিয়ার ১৪৭ ইউনিট, দক্ষিণ কোরিয়ার ১২৭ ইউনিট, আমেরিকার ১১৫ ইউনিট এবং অন্যান্য দেশের মোট ১ হাজার ৪৭ ইউনিট।

২৫০ ইউনিটের অধীনে ঠিক কতগুলো বাড়ি রয়েছে জানা যায়নি। তবে ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে দেশটিতে সেকেন্ড হোম কেনা বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৪৬ জন।

এমএম ২ এইচ হলো- এমন একটি কর্মসূচি, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে অন্য দেশের একজন নাগরিক মালয়েশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও অন্যান্য সুবিধা পান। বিভিন্ন দেশ থেকে এ কর্মসূচিতে গত ২০১৭ সালের আগস্ট পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩৫ হাজার ৮২১ জন অংশ নিয়েছেন।

বাড়ি কেনায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে চায়না এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নিবাস গড়তে বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সেকেন্ড হোম কর্মসূচিতে যারা অংশ নিয়েছেন তারা টাকা পাচার করেছেন।

এই সুবিধা পেতে হলে একজন ব্যক্তিকে ৭ হাজার, স্বামী-স্ত্রীর জন্য সাড়ে ৭ হাজার এবং একটি পরিবারের জন্য ৮ হাজার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা) মালয়েশীয় রিঙ্গিত ফি দিতে হয়। পরিবার বলতে স্বামী ও স্ত্রী ছাড়া তাদের দুজনের সন্তানকে নিয়ে একটি পরিবার বিবেচনা করা হয়। পরিবারের সদস্য এর চেয়ে বেশি হলে প্রতিটি সন্তানের জন্য বাড়তি আড়াইশ’ মালয়েশীয় রিঙ্গিত ফি দিতে হয়।

এ দিকে নিরাপত্তার অজুহাতে চলছে অবৈধভাবে অর্থপাচার। মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমে বসবাসকারী অনেকের কাছেই এটি ওপেন সিক্রেট। বিষয়টি জানে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও। তারপরও থামছে না এ অর্থপাচার।

কী পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানা যায়নি। তবে গড়ে ২০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে হিসাব করলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশিরা নিয়ে গেছেন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কেবল সরকারকে দিতে হয়েছে।

তবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জন প্রতি ১২ কোটি টাকা করে প্রায় ৪২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা সেকেন্ড হোমধারীরা মালয়েশিয়ায় অবৈধ পথে নিয়ে গেছেন।

সেকেন্ড হোমধারীদের অর্থপাচার ও কর ফাঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এনবিআর মালয়েশিয়াতে যোগাযোগ অব্যাহত রেখলেও সঠিক কোনো সুরাহা হয়নি এখনও।

২০১৫ সালের শেষের দিকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের যুগ্ম পরিচালক সাব্বির আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ও করা হয়েছিল। ওই কমিটির কার্যপরিধি সংক্রান্ত এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছিল, আয়কর না দিয়ে অবৈধভাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশে পাচার বা সেকেন্ড হোম নির্মাণ করেছেন তাদের তালিকা প্রস্তুত ও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেও পাশাপাশি দুদকের এক উপপরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ টিম সেকেন্ড হোম নেয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে অনুসন্ধানও চালিয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের এ দুই সংস্থার বাইরে ইমিগ্রেশন বিভাগের মাধ্যমে ১০ বছরমেয়াদি মালয়েশিয়ান ভিসাকারীদের রয়েছে এমন তালিকা তৈরির পরই কাজ শুরুর কথা ছিল কিন্তু বাস্তবে কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি।

তবে দুদক ও এনবিআর তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছে, এ সুবিধা পেতে মালয়েশিয়ার ব্যাংকে মোটা অঙ্কের অর্থ জমা রাখতে হলেও এদেশের সুযোগ গ্রহণকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে নানাবিধ সমস্যার মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় অনেকে সেকেন্ড হোম নিয়ে থাকেন। এ কারণে সরকার পরিবর্তনের সময়গুলোয় সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামে আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়।

এখন বিভিন্ন অনলাইনে ও সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। অনেক বাংলাদেশিও ব্যক্তিগতভাবে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ আমলা ও রাজনীতিবিদদের টার্গেট করে সেকেন্ড হোমে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছেন।

মালয়েশিয়ার সরকারি হিসেবেই বলা আছে, সেদেশে সেকেন্ড হোম গড়েছেন ৩ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি। অবশ্য সেকেন্ড হোমের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন এমন বাংলাদেশির সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। দেশের বাঘা বাঘা রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলারা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমের বাসিন্দা হয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ১০ থেকে ১৫ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। আরও প্রায় ৫ হাজার ব্যক্তি সেকেন্ড হোমের আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকেই বলছেন, মালয়েশিয়া টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় বাংলাদেশিরা এই সুযোগ নিচ্ছেন।

এ দিকে মালয়েশিয়াতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা গড়েছেন। ওই দেশে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের পাঁচতারা হোটেল ব্যবসা, গার্মেন্ট কারখানা, ওষুধশিল্পসহ নানা খাতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। অনেকে রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ বড় বড় শপিংমলে দোকানও কিনেছেন। অনেকে স্বর্ণ, খেলনা, তৈরি পোশাকের ব্যবসা করছেন।

এদের কেউই বৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই তারা মালয়েশিয়াতে টাকা নিয়ে গেছেন। অনেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন কৃষি খাতসহ বিভিন্ন খাতে।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ডা. শংকর পোদ্দার বলেন, যারা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোমে যুক্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকেই নিজের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে যুক্ত হয়েছেন।

ডা. শংকর বলেন, বাংলাদেশের সরকারকে এই বিষয়টি অনুধাবণ করতে হবে। কেন নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস করতে যাচ্ছে মানুষ। আর মালয়েশিয়া আমাদের জন্য যা করতে পারছে, আমরা কেন তা পারছি না।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কবে অন্য দেশের মানুষের সেকেন্ড হোম হবে, সেদিকে নজর দেয়া উচিত।

সেকেন্ড হোমের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রবীণ প্রবাসী কমিউনিটি নেতা বলেন, জীবনের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের নিরাপত্তা ছাড়াও মালয়েশিয়ার শিক্ষা এবং যোগাযোগব্যবস্থাও বাংলাদেশিদের সেকেন্ড হোম বানানোর অন্যতম কারণ। ওই দেশে বাংলাদেশি রাজনীতিবিদরাই বেশি সেকেন্ড হোম বানিয়েছেন। এর পরেই আছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেকেন্ড হোম করতে যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা বাংলাদেশ থেকে কেউই বৈধ পথে নেননি।

177 ভিউ

Posted ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com