বৃহস্পতিবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার ২৯শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

মিয়ানমারে সহিংসতা : এবার সীমান্তে আশ্রয় নিল ৪১২ হিন্দু নারী-পূরুষ-শিশু

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭
1011 ভিউ
মিয়ানমারে সহিংসতা : এবার সীমান্তে আশ্রয় নিল ৪১২ হিন্দু নারী-পূরুষ-শিশু

কক্সবাংলা রিপোর্ট(৩১ আগস্ট) :: মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ও রাখাইন সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গাদের উপর থেমে থেমে নির্যাতন, জুলুম, নিপীড়ন, ঘর বাড়িতে আগুন, মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।আর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উখিয়ার ২টি রোহিঙ্গা শিবিরে ও বস্তিতে প্রায় ৩০ হাজার লোক প্রবেশ করেছে। কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সহিংসতায় নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও।

চলমান সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে ৮৬ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।যাদের অধিকাংশই রাখাইনের মংডুর ফকিরাবাজার গ্রামের বাসিন্দা।আর বুধবার রাতেই প্রাণ ভয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ৪১২ হিন্দু নারী-পুরুষ শিশু উখিয়ার কুতুপালং এলাকার পশ্চিম হিন্দু পাড়ায় আশ্রয় নিয়েছে।

এছাড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্ট অপেক্ষা করছে আরো দুই শতাধিক হিন্দু।তারাও প্রবেশের অপেক্ষা করছে বৃহস্পতিবার উখিয়ার কুতুপালং এর পশ্চিম হিন্দু পাড়া সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়,৪১২ জনের হিন্দু নারী-পুরুষ ও শিশু একটি মুরগির খামারে মানবেতর দিনযাপন করছেন।তাদেরকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে স্থানীয় কিছু হিন্দু পরিবার। সহায় সম্বলহীন এ হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্যের প্রয়োজন।

কুতুপালং ৩নং হলদিয়া পালং ইউনিয়নের পশ্চিম হিন্দু পাড়ার মেম্বার স্বপন শর্মা রনি জানান,গত মঙ্গলবার রাতে ১৬ জন হিন্দু মিয়ানমার থেকে আমাদের গ্রামে এক আত্বিয়র পরিবারে আশ্রয় নেয়।পরে তাদের দেয়া তথ্য মতে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অর্ধাহারে-অনাহারে অবস্থান করা ৪১২ জন হিন্দুকে আমাদের গ্রামের একটি পরিত্যাক্ত মুরগির খামারে আশ্রয় দিই।তাদের বুধবার রাত থেকেই আহারের ব্যবস্থা করি।আর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নের্তৃবৃন্দ পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক তাদের আহারের ব্যবস্থা করে।পরে উখিয়া ইউএনও ও ওসি পরিদর্শনে আসেন।কিন্তু সহায় সম্বলহীন এ হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্যের প্রয়োজন।

আশ্রয় নেয়া হিন্দুরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রাখাইনের মংডুর চিকনছড়ি,ফকিরাবাজার সহ কয়েকটি হিন্দু অধ্যূষিত গ্রামে মুখোশধারী কিছু স্বশস্ত্র লোক তাদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়েছে।তাদের পুরো পাড়া ঘিরে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে অনেককে গুলি করে হত্যা করছে।শিশু ও মহিলাদেরকেও নির্যাতন করা হচ্ছে। অনেকে পরিবার আতংকে পাহাড়, ধান ক্ষেতে ও বনজঙ্গলে পালিয়ে লুকিয়ে আছে।কিছু হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাধা ও ভয়ের কারনে কেউ ঢুকতে পারছেনা।ক্ষুদার জ্বালায় তারা রাতের আধারে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান।

পালিয়ে আসা মিয়ানমারের মংডুর চিকনছড়ি গ্রামের কুলালল পাড়ার বকুল বালা জানান, মুখোশধারী কিছু স্বশস্ত্র লোক তাদের গ্রামে ঢুকে তাদের উপর অত্যাচার চালায়।এক পর্যায়ে তার স্বামী কালু রুদ্র,কন্যা সন্ধ্যাবালা ও নাতী বাপ্পুকে তুলে নিয়ে যায়।পরে খবর পেয়েছি র নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

একই এলাকার বিজয় রাম পাল জানান,তিনি মংডুর চিকনছড়ি গ্রামে হালচাষ করতেন। কিন্তু সহিংসতা শুরুর পর থেকে তাদের গ্রামেও মুখোশধারীরা নিরীহ হিন্দুদের উপর অত্যাচার,নির্যাতন ও ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দেয়।প্রাণ ভয়ে তিনি কয়েকদিন পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলেন।পরে খবর পেয়ে সীমা খোনে আশ্রয় নিয়েছি।

মংডু এলাকার কোয়াছং হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা দীজেন্দ্র হানান,তার অনেক আত্বিয়স্বজন থাকতেন ফকিরাবাজারে। সেখানকার ৮৬ জনকেই হত্যা করেছে মুখোশধারী কিছু স্বশস্ত্র বাহিনী।

ফকিরা বাজার থেকে পালিয়ে আসা মিলন মল্লিক জানান, মুখোশধারী কিছু স্বশস্ত্র লোক তাদের গ্রাম ঘিরে ফেলে।এরপর ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়অ অনেককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।আমার পরিবারের অনেকের কোন খবর পাচ্ছিনা।

এদিকে উখিয়ার কুতুপালং এর পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের হিন্দু পরিবারদেরকে দেখতে যান জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়োতষ শর্মা চন্দন,সহ সম্পাদক চঞ্চল দাশগুপ্ত,অর্থ সম্পাদক স্বপন গুহ।তারা তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে তাদের আহারের ব্যবস্থা করেন।

এ ব্যাপারে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়োতষ শর্মা চন্দন মিয়ানমারের সহিংসতায় ৮৬ জন হিন্দু নিহত হওয়ায় এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,রাখাইনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর হস্তক্ষেপ করতে হবে।আর রাখাইনে নিরীহ হিন্দুদের উপর হত্যা-নির্যাতন কোনভাবেই মেনে নেয়া যায়না।তিনি কুতুপালং এর পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা করার জন্য প্রশাষন ও সংশ্লিষ্ঠদের সহযোগিতা করার জন্য অনুরো জানান।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন জানান, কুতুপালং এর পশ্চিম হিন্দুপাড়ায় আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের হিন্দু পরিবারদেরকে নিরাপত্তা সহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এব্যাপারে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, মিয়ানমারে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে এবার বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে ছুটে আসছে হিন্দুরা। যারা এসেছে তাদের নিরাপত্তাসহ যাবতীয় মানবিক সহযোগিতা করা হবে।

1011 ভিউ

Posted ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com