শনিবার ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশদ্বার নিউইয়র্ক শহর গড়ে উঠার ইতিহাস

শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৯
73 ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশদ্বার নিউইয়র্ক শহর গড়ে উঠার ইতিহাস

কক্সবাংলা ডটকম(১১ জানুয়ারি ) :: নিউইয়র্কের এলিস আইল্যান্ডকে বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশদ্বার। ১৮৯২ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে সুন্দর ভবিষৎতের স্বপ্ন বুকে চেপে এই পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে ১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী। সেই সময় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসীদের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছিল তেমনি শহরের স্কাইলাইনও পরিবর্তিত হচ্ছিল দ্রুত। ব্যবসা-বাণিজ্য ও নানা ধরনের কর্মকান্ডের কেন্দ্রে থাকা নিউইয়র্ক শহর ওই সময় নব উদ্যেমে নিজেকে সাজায়। ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে গড়ে উঠা নিউইয়র্ক শহর পরিণত হয় আধুনিক এক মেট্রপলিটান শহরে। আজকে জানবো বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিউইয়র্কের বেড়ে ওঠা বিশেষ করে এই শহরের গগণচুম্বি ভবনের বেড়ে ওঠা সম্পর্কে।

ওই সময় নিউইয়র্কের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটনের উর্ধ্বমুখী হবার অন্যতম কারণ ছিল নতুন প্রযুক্তি, উন্নতমানের নির্মাণ উপকরণ ও পর্যাপ্ত সহজলভ্য শ্রম। এসব ব্যবহারের ফলে শহর আগের যেকোন সময়ের চেয়ে উঁচু ও বড় হচ্ছিল। ১৮৯০ সালে নির্মিত নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং থেকে শুরু করে ১৯৩০ সাল অবধি নির্মিত সুউচ্চ ভবনগুলো তৎকালীন বিশ্বে সর্বোচ্চ ভবনের তমকা অর্জন করছিল।
উত্তোলন করার ক্যাবল কোন কারণে নষ্ট হলে লিফট বা উত্তোলক যন্ত্রের ভূপাতিত হওয়াই ছিল সেসময় উচু ভবন নির্মাণের অন্যতম প্রধান সমস্যা। ১৮৫৪ সালের এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে উদ্ধাবক ইলিসা গ্রাভেস অটিস নিউইয়র্কবাসীদের সামনে এমন একটি লিফট প্রদর্শন করলেন যা উত্তোলক ক্যাবল নষ্ট হলেও লিফটের পতন ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম ছিল।

নিউইয়র্কে আকাশ ছোয়া ভবন নির্মাণ যুগের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করে দেয় ইলিসের ছোট্ট ওই আবিষ্কারসহ ও অন্যান্য উদ্ধাবন। যেমন ১৮৫৫ সালে হেনরি বেসেরমে উদ্ধাবন করেন স্বল্পব্যায়ের স্টিল। তার আগে ১৮৫০ ও ১৮৮০ সালে ব্যাপক হারে উৎপাদন শুরু হয় যথাক্রমে প্লেট গ্লাস ও ইলেকট্রিক লাইটিং এর। নিউইয়র্ক শহরে সুউচ্চ ভবনের নির্মাণে গতির সঞ্চার করে এসব উপকরণ। এসব উদ্ধাবনের পর থেকে নিউইয়র্ক শহরে ভবনগুলো ঊর্ধ্বমূখী ছোটার পালে হাওয়া লাগে।

ম্যানহাটনের আকাশচুম্বি অট্রালিকা নির্মাণে প্রযুক্তি ছাড়াও আরো যেসব বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তাদের অন্যতম হচ্ছে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া জনসংখ্যা, প্রপার্টির মূ্ল্য বৃদ্ধি, শত্রুতা, ভৌগোলিক অবস্থান, আত্মগর্ব এবং লোভ। ‘স্কাইসক্রেপার’ শব্দটি প্রথমবার ব্যবহার করা শুরু হয় ১৮৭১ সালে শিকাগোতে ঘটে যাওয়া স্মরণকালের সবচেয়ে মর্মান্তিক অগ্নিকান্ডের পর। তার আগে ওই নামটি জাহাজের পতাকা, টেনিস বল ও মাথায় পড়ার হ্যাটের সঙ্গে জড়িত ছিল। ম্যানহাটন শিকাগোর চেয়ে বেশি সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থানে ছিল। কেননা শিকাগো যেখানে গড়ে উঠেছিল কর্দমাক্ত মাটির ওপর সেখানে ম্যানহাটনের ভূমি ছিল গ্রানাইট পাথরে গড়া। উপরের দিকে বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায়ও ছিল না বর্ধিষ্নু এ শহরটির।

নিউইয়র্কের প্রথম স্কাইসক্রাপার ‘নিউইয়র্ক ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং’এর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৮৯০ সালে। সেইসময় ৩০৯ ফুট ওই ভবনটিই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু। যদিও চার বছরের মাথায় উঁচু ভবনের খেতাব ছিনিয়ে নেয় ‘ম্যানহাটন লাইফ ইন্সুরেন্স’ ভবন। এরই সঙ্গে অনুমান করা যাচ্ছিল ম্যানহাটনের আকাশছোয়ার ভবিষৎ কেমন হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্কের আকাশে তখন প্রায় প্রতি বছরই নতুন নতুন ভবন আগের চেয়ে অধিক উঁচুতে মাথা ছড়িয়ে দিচ্ছিলো। ১৮৯৯ সালে নির্মিত ‘দ্য পার্ক রো বিল্ডিং’ সবচেয়ে উঁচু ভবনের তকমা পায়। পরে ১৯০৮ সালে ভবনটি সেই তকমা হারায় ‘দ্য সিঙ্গার বিল্ডিং’ এর কাছে। তবে এসব ভবনের সবগুলোকে ছাড়িয়ে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায় অসাধারণ ‘উলওর্থ বিল্ডিং’। ১৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে, স্থপতি কাস গিলবার্টের নকশায় নির্মিত উলওর্থ বিল্ডিং সেসময়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের খেতাব লাভ করে।

পাশের আটলান্টিক সাগরে চলাচল করা জাহাজগুলো থেকে তখন সবার প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের যে জিনিসটি চোখে পড়তো তা ছিল ওই উলওর্থ বিল্ডিং। ওই ভবন স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো নিউইয়র্কের আইকনিক সিম্বলে পরিণত হয়। জাহাজের ডেক থেকে যাত্রীরা মুগ্ধ নয়নে স্বাধীনতা ও বিশাল স্বপ্নের প্রতীক হিসেবে ওই ভবনটিকে দেখতো। আর নিউইয়র্ক শহর সেই সময় সবার কাছে ‘সিটি অব অপুরচুনিটি ’বা ‘সুযোগের শহর’হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে নিউইয়র্কের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ভবনটি নাম ‘চারিসলের বিল্ডিং’। ১৯২৮ সালে মিশিগানের মোটর শিল্পের এক ধনকুবের ওয়াল্টারক পি. চারিসলের উঁচু ভবন তৈরির প্রতিযোগিতায় নাম লেখালেন। নির্মাণ করলেন তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু চারিসলের বিল্ডিং ভবন।

প্রাথমিকভাবে উচ্চতা ছিল ৯শ ২৭ফুট যা ওই ভবনের স্থপতির নকশা করা অপর একটি ভবন থেকে মাত্র ২ফুট বেশি উচ্চতার। তবে এর স্থপতি উইলিয়াম ভ্যান এলেন সবার জন্য চমক জমা করে রেখেছিলেন। নির্মাণের একেবারে শেষের দিকে এলেন ওই ভবনে এন্টেনা স্তম্ভ স্থাপনের কথা ঘোষণা করেন। সবাইকে বিস্মিত করে মাত্র ৯০ মিনিটে ৭৭ তলায় স্থাপিত এন্টেনাটি ভবনের উচ্চতাকে নিয়ে যায় ১ হাজার ৪৬ ফুটে! আর স্বাভাবিকভাবেই চারিসলের বিল্ডিং বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার ভবনের মর্যাদা অর্জন করে। এটি হচ্ছে প্রথমদিককার ভবনগুলোর অন্যতম যেগুলোর বর্হিআবরণের নকশায় ধাতব ব্যবহার করা হয়। এই ভবনের চকচকে বৈশিষ্ট্য মনে করিয়ে দেয় যে এই ভবন নির্মাতা ছিল তৎকালীন শীর্ষ অটোমোবাইল কোম্পানির একটি।

ভবনটিতে থাকা দৃষ্টিনন্দন নানা রকম বহিঃনকশার অন্যতম হচ্ছে ৬১ তলায় স্থাপিত ঈগলের মুখায়ববের নকশা। ১৯৩০ সালের মে মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হবার পর চারিসলের বিল্ডিং সর্বোচ্চ ভবনের রেকর্ড ধরে রাখতে সক্ষম হয় মাত্র ১১ মাস। পুরো ফিফথ অ্যাভিনিউ জুড়ে নির্মিত ১ হাজার ২শ ৫০ ফুট উচ্চতার ১০২ তলা‘এমপায়ার স্টেট বিল্ডিং’বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের জায়গাটি দখল করে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বাট হুভার এ ভবনের উদ্ধোধন করেন। ভবনের নির্মাতা জন জে. রাসকব স্থপতি সিরিভে, লাম্ব ও হারমনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তোমরা এটিকে কত উঁচু বানাতে পারবে যেন ধসে না পড়ে।

ভবন ধসে না গেলেও ওই সময় ধসে গিয়েছিল মার্কিন অর্থনীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রান্ত হয় গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দায়। দ্রুত গতিতে এমপায়ার স্টিট মাথা তুলে দাঁড়ালেও ওয়াল স্টিট ধসে পড়ে। ধসে পড়া অর্থনীতি এবং ভবনের বিড়াট আকারের কারণে এমপায়ার স্টেটের জন্য ভাড়াটিয়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি ১৯৩৩ সালে নির্মিত ‘কিং কং’সিনেমাতে এ ভবন দেখানোর পরও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। অবস্থা এমন হয় যে, লোকে রাসকবের অসাধারণ এই নির্মাণটিকে মজা করে ‘ইমপটি স্টেট বিল্ডিং’ নামে ডাকতে শুরু করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা তাদের অফিস স্থানান্তর করে এ ভবনে। যুদ্ধকালীন সময় ১৯৪৫ সালের ২৮ জুলাই একটি বি-২৫ বোমারু বিমান দুর্ঘটনাবশত ভবনটির ওপর আছড়ে পড়ে। ওই ঘটনায় নিহত হয় ১৪ জন। ক্ষতিগ্রস্থ হয় ৭৮ থেকে ৮০ তলা পর্যন্ত। এর পাঁচবছর পর এমপায়ার স্টেট প্রথমবার লাভের মুখ দেখে। স্থাপতের এক অসাধারণ নিদর্শণ এই ভবন বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের তকমা ধরে রাখে টানা ৪০ বছর।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নিউইয়র্কের স্থাপনা নকশাতে আমূল পরিবর্তন আসে। পূর্বের উঁচু ভবন তৈরির ধারণা থেকে বের হয়ে এসে জোর দেয়া হয় আধুনিক ,মসৃণ ভবন নির্মাণের ওপর। এর উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ১৯৫২ সালে নির্মিত ইস্ট নদীর দিকে মুখ করে থাকা জাতিসংঘ ভবনের কথা। সুইচ স্থপতি লিকোরবুজিয়ের ও ব্রাজিলিয়ান স্থপতি ওয়ালেস হ্যারিসন ওই ভবনের নকশা করেন। অভিজ্ঞ ওয়ালেস ১৯৩০ সালে ম্যানহাটনে অন্যতম বহুতল ভবন ক্যারিশমাটিক ‘রকফেলার সেন্টারের’ নকশা তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন। পাতলা, অবিরত জ্যামিতিক নকশাদার এমন টাওয়ার নিউইয়র্কে এর আগে দেখা যায়নি। মূলত ১৯৫০ এরপর থেকেই এ শহরে আধুনিক নকশার ভবন নির্মাণ শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে স্থপতি লুডউইগ মিয়েসের নকশা করা ‘সিগ্রাম বিল্ডিংয়ের’ মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে ঋজুরেখ অফিস ভবন নির্মাণের চল শুরু হয়। ভবনটি শহরের অপরাপর ভবনের তুলনায় না ছিল উঁচু, না ছিল বিশালাকার। আর ওই সিগ্রাম বিল্ডিংকে পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে নির্মিত অগণিত অফিস ভবনের মডেল হিসেবে গণ্য করা হতো।

প্রখ্যাত সুইচ স্থপতি লি কোরবুসিয়ের ১৯৩৫ সালে এ শহর ভ্রমণে এসে মন্তব্য করেন, নিউইয়র্কের ভবনগুলো যেমন রোমান্টিক তেমনি গর্বের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে এবং অবশ্যই এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাস্তাগুলোকে হত্যা করা হচ্ছে আর শহরটিকে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি পাগলাগারদের মধ্যে। আজকের দিনে কোরবুসিয়ের ওই পর্যবেক্ষনের সত্যতা খুঁজে পাওয়া ভার। কেননা ম্যানহাটনের স্কাইসক্রেপারগুলো শহরের রাম্তাগুলোকে মেরে ফেলতে সক্ষম হয়নি। বরং নিউইয়র্ক শহর রয়ে গেছে বিশ্বে স্বচ্ছন্দে হাটা-চলা করা যায় এমন শহরের শীর্ষে।

73 ভিউ

Posted ১০:৩২ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৯

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com