শনিবার ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২০শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রবীন্দ্রনাথের জীবনের যে কাহিনিগুলো আগে শোনেননি

শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১
287 ভিউ
রবীন্দ্রনাথের জীবনের যে কাহিনিগুলো আগে শোনেননি

কক্সবাংলা ডটকম(২৫ নভেম্বর) :: রবীন্দ্রনাথ বিপ্লবী ছিলেন এ নিয়ে অনেকের দ্বিমত থাকলেও, বিপ্লব বা বিপ্লবীর আটপৌরে সংজ্ঞা অনুযায়ী তিনি কিন্তু কিছু কম ছিলেন না! তার জীবনদর্শন বাঙ্গালীর মানসপটে যে এক গভীর বিপ্লব এনেছিল সে-কথা স্বীকার করতেই হবে।

রবীন্দ্রনাথকে জানা মানে নিজেকে চেনা। যত বেশি রবীন্দ্রনাথকে আমরা জানবো, ততবেশি আমরা নিজেকে ঢেলে নতুনরূপে সাজাতে পারবো। তার মানবতা, নম্রতা, জীবপ্রেম এমনকি কৌতুকরসও আমাদের জীবনের জন্য পাথেয়স্বরূপ।

তার জীবনের তেমনি কয়েকটি গল্প নিয়েই আমাদের এই ধারাবাহিক।

ঘটনা-১

তখন কলকাতা শহরে কংগ্রেসের অধিবেশন বসেছে। তারকনাথ পালিতের বাসায় ডিনার পার্টির আয়োজন। অনেক দূর দূরান্ত থেকেও  নেতারা এসে পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। ইংরেজদের এ পার্টিতে ধুতি পাঞ্জাবী পড়ে পুরোদস্তুর  বাঙ্গালিয়ানা ভাব নিয়ে বসে আছেন চারজন ব্যক্তি। এই চারজন হল জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির রবীন্দ্রনাথ, সমরেন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ এবং অবনীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ খেয়াল করলেন, পরস্পরকে সাধুবাদ দেয়া ছাড়া তেমন কোনো কর্মকান্ড নেই পার্টিতে। তাই বিনোদনের জন্য যখন গান গাইতে বলা হলো রবীঠাকুরকে, তখন তিনি গেয়ে উঠলেন,

এসেছি কি হেথা যশের কাঙালি
কথা গেঁথে গেঁথে নিতে করতাল…
আমায় বোলো না গাহিতে বোলো না।

কংগ্রেস অধিবেশনে নেমে এলো একরাশ নিস্তব্ধতা…

ঘটনা-২

অতীতে জমিদারকে খাজনা প্রদানের অনুষ্ঠান হিসেবে ‘পূণ্যাহ’ প্রচলিত ছিলো। বছরের প্রথম যেদিন জমিদারি কাছারিতে খাজনা জমা দেয়া হত সেদিন ছিল ‘পূণ্যাহ’।

শিলাইদহের কাছারিতে তিনদিন ধরে এই উৎসব চলতো। পূণ্যাহের দিন জমিদারের সিংহাসনের সামনে জাত অনুসারে আলাদা আলাদা আসনে প্রজারা বসতেন। আসনব্যবস্থার এই বৈষম্য দেখে রবীন্দ্রনাথ আর আসরেই প্রবেশ করেননি। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় আসরে। রবীন্দ্রনাথকে আসরে আনবার জন্য অনেক চেষ্টা করা হল। কিন্তু রবি ঠাকুরের একটাই দাবি, সবার জন্য একই ও সমান ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অবশেষে জয় হল রবি ঠাকুরের মানবতার। অনেক কাহিনী পর সবাইকে একই জাজিমের ওপর বসতে দেয়া হল।

এভাবেই তার হাত ধরে শুরু হয় নতুন এক যুগের।

ঘটনা-৩

চোখের সামনে প্রাণী হত্যা রবীন্দ্রনাথ একেবারেই সহ্য করতে পারতেননা। শিলাইদহের চরে পাখি শিকার বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। পুত্র রথীন্দ্রনাথকেও পাখি শিকারে যথেষ্ঠ বাধা দিতেন।

ছোটবেলায় হিমালয়ে যাবার আগে বাবার সঙ্গে শান্তিনিকেতনে বেড়াতে গিয়েছিলেন রবীঠাকুর। সেখানে মহর্ষির পরিচালক হরিশ মালি তাকে শিকারে নিয়ে যান। শিকার করতে রবি ঠাকুর প্রকৃতির রূপে মুগ্ধ। কিন্তু হঠাৎ হরিশ মালির একটি খরগোশ শিকারের দৃশ্য তার মনে আঘাত দেয়। এই আঘাত তার মনে ভীতির সঞ্চার করে। ভয় কাটাতে বড়ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ তাকে বাঘ শিকারেও নিয়ে যান। কিন্তু বাঘ শিকারেও তার মনের ভাবনা বদলায়নি।

ঘটনা-৪

বঙ্গভঙ্গের সময় খুব ব্যস্ত থাকতেন রবীন্দ্রনাথ। বিভিন্ন সভা-সমিতিতে অংশ নিতেন। এদিকে নাটোরের মহারাজার কন্যার বিয়ে। সব শেষ করে বিয়েতে উপস্থিত হতে ঠাকুরের অনেক দেরি হয়েছিল সেবার।  পৌঁছানোর পর রাজা তাকে বললেন, ‘কোথায় আপনি আসবেন সকাল সকালে, আর আপনি কিনা এলেন এত দেরিতে?’ রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমারও মাতৃদায়, দু’জায়গায় সভা করে আসতে হল।’

জন্মভূমিকে তিনি ‘মা’ ভাবতেন। তিনি লিখে গিয়েছেন, ‘সার্থক জনম, মা গো, তোমায় ভালোবেসে।’ জন্মভূমিকে তিনি মায়ের মতোই ভালোবাসতেন।

ঘটনা-৫

কাউকে কোনোদিন ক্ষুদ্রজ্ঞান করতেননা রবীঠাকুর। উদাহরণস্বরূপ সৈয়দ মুজতবা আলীর স্মৃতিচারণে উল্লেখিত গল্পটির কথা বলা যায়। মুজতবা আলীর সময় শান্তিনিকেতনের আশ্রমে ‘ভাণ্ডারে’ নামক এক মারাঠি ছাত্র ছিলেন। শালবীথির একপ্রান্তে ছিল লাইব্রেরী, অন্যপ্রান্তে দেহলি বাড়িতে থাকতেন রবীন্দ্রনাথ।

কিশোর বয়সের ভাণ্ডারে তখন কয়েক মিনিট হলো এসেছেন আশ্রমে। রবীন্দ্রনাথ কালো জুব্বা, মাথায় টুপি পরে ঘর থেকে বেরলেন। রবীন্দ্রনাথকে দেখামাত্র ভাণ্ডারে রবীন্দ্রনাথের কাছে এলেন। কোনো প্রণাম-টনাম কিছুই না করে জোর করে কী যেন একটা মুঠিতে দিয়ে এসে হাসিমুখে আবার ফিরে এলেন।

এদিকে ভাণ্ডারেকে নিয়ে তো হৈচৈ রটে গেল। সকলে তাকে ঘিরে ধরলো। ঠাকুরের হাতে সে কী গুঁজে দিয়ে এল, তা জানতে হবে তো!

ছোট্ট ডানপিটে স্বভাবের ভারে বললেন, ‘ক্যা গুরুদেব গুরুদেব কারতা হ্যায়, হাম উসকো এক অঠন্নী দিয়া।’

পরে জানা গেল,ঠাকুমা তাকে উপদেশ দিয়েছিলেন, কোনো সন্ন্যাসী দরবেশ দেখলে দান করতে।

এরপর তাকে শত বুঝিয়ে বিশ্বাস করানো গেল না যে তিনি কোনো দরবেশ নয়, রবীন্দ্রনাথকেই দান করেছিলেন।

ছোটো এই কিশোরকে ঘিরে শিক্ষকদের থাকতো নালিশের পাহাড়। একবার একজন ঠাকুরের কাছে ভাণ্ডারের নামে নালিশ করলেন। রবীন্দ্রনাথ ভাণ্ডারেকে ডেকে বললেন, ‘যখন প্রথম এলি,তখন কত ভালো ছেলে ছিলি?মনে নেই তুই দান খয়রাত পর্যন্ত করতিস। আমাকে পর্যন্ত তুই একটা আধুলি দিয়েছিলিস। আজ পর্যন্ত কত ছাত্র এল গেল কেউ তোর মতো আমাকে একটি পয়সাও দেয়নি। সেই আধুলিটি আমি কত যত্নে তুলে রেখেছি দেখবি?’

ঘটনা-৬

রবীন্দ্রনাথ এরকম অনেক ব্যাতিক্রমী কাজ করতেন। রথীন্দ্রনাথ তার স্মৃতিচারণে এমন এক অদ্ভুত কাহিনি লিখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের পাটকিলে রঙের একটি বুড়ো ঘোড়া ছিল। বিকেল হলে রবীন্দ্রনাথ এই বুড়ো ঘোড়া নিয়ে বালিগঞ্জে সত্যেন্দ্রনাথের কাছে যেতেন। চলাচল করতে অনেক সময় নিত ঘোড়াটি। তারপরও একে পরিত্যাগের কথা একবারও ভাবেননি রবীন্দ্রনাথ।

287 ভিউ

Posted ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর ২০২১

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com