রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

রবিবার ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রমজানের প্রস্তুতিতে কক্সবাজারবাসী : তৎপর অসাধু ব্যবসায়ীরা

বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮
235 ভিউ
রমজানের প্রস্তুতিতে কক্সবাজারবাসী : তৎপর অসাধু ব্যবসায়ীরা

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৭ মে) :: সমাজ ও ব্যক্তি জীবনে বছর এবং মাসের মর্যাদা অনেক। বিশেষ মাস এবং দিনের উদযাপন করা হয়ে থাকে ঘটা করে। ঠিক তেমনি আরবি মাসের নবম মাস ‘রমজান’ আমাদের দরজায় কড়া নেড়েছে। বছর ঘুরে আবারো আমাদের মাঝে আগমন সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান।সেই মাসটিও উদযাপন করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে কক্সবাজার পৌরবাসী।

আর এই প্রস্তুতি নেয়ার জন্য শুরু করেছে মসজিদের ইমাম থেকে ঘরের গৃহীনি পর্যন্ত। তাদের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে নিজের এবং আশপাশের পরিবেশের।শহরের পাড়া মহল্লার যুবকরা শুরু করেছে সেহারীতে এলাকাবাসীকে ডাকার জন্য প্রস্তুতি।মসজিদে ধোয়া-মোছা থেকে রমজানের সময় সূচী ছাপানোর জন্য কাজ শেষ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ইফতার মাহফিলের দিন তারিখ নির্ধারণের কাজ এবং দাওয়াত কার্ড প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছে। তবে এসব কাজে ছেদ পড়ছে বাজারের দ্রব্যমূল্যের লাগমহীন দাম এবং শহরজুড়ে তীব্র যানজট।

এদিকে শহরের কয়েকটি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, রমজানের প্রথম রোজা থেকেই মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। যা একটানা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। ক্রেতাদের সুবিধার্থে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।আর ইতিমধ্যেই দোকানিরা ঈদের মালামাল উঠানো শুরু করেছে।

কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মৌলানা মাহমুদুল হক কক্সবাংলাকে বলেছেন,পৌর এলাকায় প্রায় দেড়শতাধিক মসজিদের ধোয়া-মোছার মূল কাজ শেষ হয়েছে। আর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সারা বছরের অনেক কাজ জমা ছিল যা শেষ হয়েছে। আল্লাহ রমজান মাসটি ভালভাবে যাতে শেষ করায় তার জন্য বিশেষ মুনাজাতে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অপরদিকে কক্সবাজার পৌর শহরে পাইকারী বাজারসহ বেশ কয়েকটি বড় খুচরা বাজারে রমজানকে উপলক্ষ করে বিক্রি বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। এমন বেচাকেনার আড়ালে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা করছে ফাঁকিবাজি। তবে এমন সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে।শহরের বড়বাজারে দোকানীরা নিয়ম রক্ষার্থে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখলেও তাতে মূল্য লিখে না। কোন কোন ব্যবসায়ী অনেক দিন আগে মূল্য লিখে রেখেছে। পরে আর সেখানে হাত লাগাননি।তাই আগের তালিকাই দিব্যি ঝুলছে। আবার কেউ কেউ হাত লাগালেও সঠিক মূল্য লিখেনি। যে দাম হাঁকছেন তার থেকে অনেক ব্যবধান রেখে দিয়েছেন বোর্ডের তালিকায়।

এই অবস্থা দেখাগেছে শহরের বড়বাজার,শহরের কালুর দোকান,বাহারছড়া বাজার,কানাইয়া বাজার,রুমালিয়ার ছড়া,কআতলী সহ আশপাশের বাজারগুলোতে।

বড়বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, সকল দোকনেই একই অবস্থা। পাইকারী আর খুচরা কোন তফাৎ নাই। বাজার মনিটরিং যখন হয় তখনি একটু তোর জোড় থাকে। অন্য সময় কোন খবর থাকে না।

তিনি আরও বলেন,সব দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো হয়। তবে তা সঠিক কোন সময় দেখা যায় না। আর রমজান, ঈদ, পূজা মৌসুমে তাদের কাছে কিছুই না। ক্রেতা বেশিতো দাম বেশি। এ বিষয় দেখার কেউ নাই। মনিটরিং করে কী লাভ। যেই তিমির সেই তিমিরেই থেকে যায়।

অরও এক ক্রেতা বলেন, যে সব প্যাকেটজাত পণ্য তার বিষয়ে একেবারেই দায়িত্বহীন দোকানী। পেকেটে কম দিল না বেশি দিল তার বিষয়ে দোকানী কোন দায়িত্ব নিতে রাজি না। এমন অবস্থা চললে প্রশাসনে কী দরকার। ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশাসন এবং ভোক্তারা জিম্মি। কারো কাছেই কোন পতিকার পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন,শুনেছি বাজার মনিটরিং করতে কক্সবাজারে ক্যাব নামে একটি সংগঠন রয়েছে। জনগনের সুবিধার্থে তাদের দায়িত্ব নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

তবে বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সবারই শেষ কথা কক্সবাজারে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট স্বাভাবিক রাখা। তাদের সকলেরই অভিযোগ সরকার দ্রব্যমূল্য কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। কদিনের ভেতরে পেঁয়াজের ঝাঁজে জীবন থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে মরিচ,টমেটো সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। অনেকের মত রমজানতো সবে শুরু হচ্ছে। এখনই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে পুরো রমজানে কী অবস্থা হবে। ভাবতেই অনেকের কপালেই ভাঁজ লক্ষ্য করা গেছে।

এব্যাপারে কক্সবাজার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক খাজা নাজিম উদ্দিন বলেন,চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৭মে পবিত্র রমজান মাস শুরু । তিনি বলেন,রমজান মাস হচ্ছে আল্লাহ তালার রহমতের মাস, পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস এই মাসে মুসলামানদের প্রধান কাজ হচ্ছে ইবাদত করা। হালালভাবে ব্যবসা করা সেটাও একটি ইবাদত। সেখানে যদি অতিরিক্ত লাভের আশায় কোন মুসলামানকে কষ্ট দেওয়া হয় তাহলে তার জন্য অনেক গুনাহ হবে। তাই সংযমই হতে হবে সব মুসলমানের প্রধান লক্ষ্য।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল আফসার কক্সবাংলাকে বলেন, রমজান মাসে ক্রয়মূল্যের ওপর সরকার নির্ধারিত মুনাফার অতিরিক্ত আদায় করা হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কামার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর কর্মকর্তা আজমল হুদা কক্সবাংলাকে জানান, রমজানে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য চেম্বারের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যাতে মূল্য বৃদ্ধি না হয় সেজন্য বাজার মনিটরিং কমিটির নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। একই সাথে রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

235 ভিউ

Posted ৭:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com