শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা হত্যার কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৮
159 ভিউ
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা হত্যার কথা স্বীকার মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১০ জানুয়ারী) :: রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যায় সম্পৃক্ত থাকার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদের একটি তদন্তদলের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে মংডুর কাছে ইন দিন গ্রামে ১০ রোহিঙ্গাকে ধরার পর হত্যার সঙ্গে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর চারজন সদস্য জড়িত।

বুধবার মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লিয়াংয়ের ফেসবুক পোস্টে এই স্বীকারোক্তি এসেছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

ওই তদন্তদলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) কথিত হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চারজন সদস্য গ্রামবাসীকে সহযোগিতা করেছে।

গত মাসে রাখাইনে একটি গণকবর নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির কাজ করতে গিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুজন সাংবাদিক আটক হন। তাঁদের কাছে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাখাইনের ইন দিন গ্রামে গণকবরের সন্ধান মেলে। সেখানে ১০টি কঙ্কাল মিললেও তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এরপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেই এর তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের ফল অনুযায়ী, ইন দিন গ্রামের ওই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে গত ২ সেপ্টেম্বর। গণহত্যার শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বেঙ্গলি সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘এটা সত্য যে গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মিলে ১০ বেঙ্গলি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।’

পোস্টে আরো বলা হয়, ‘যারা এসব হত্যার জন্য দায়ী এবং যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে সেনাবাহিনী তাদের বিচার করবে।’ হত্যাকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী গ্রামবাসীকে হুমকি দেওয়ায় এবং সন্ত্রাসীরা উসকানি দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী যে অন্যায় করেছে তার বিরল স্বীকারোক্তি এটি। এর আগে গত নভেম্বর মাসে মিয়ানমার বাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন তো দূরের কথা কোনো ধরনের অন্যায় আচরণ করার অভিযোগও নাকচ করে।

তবে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রধান যায়িদ রা’দ আল হোসেইন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার আশঙ্কা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে রাখাইনে গণহত্যার অন্যতম মূল হোতা এক শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মিয়ানমার রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি বিশ্বের কাছ থেকে আড়াল করতে সেখানে কাউকে যেতে দিচ্ছে না।

এমনকি মিয়ানমারে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লির সফর পরিকল্পনাও আটকে দিয়েছে। ইয়াংহি লি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা শুনতে পাঁচ দিনের সফরে আগামী ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসছেন।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে নতুন মাত্রায় গণহত্যা শুরুর পর থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তির পরও মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে নিরপেক্ষ বিচারের আওতায় আনা কঠিন হবে।

রাখাইনে আটকা পড়েছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৬০ হাজার বা তারও বেশি রোহিঙ্গা শিশু আটকা পড়েছে। তারা অত্যন্ত অমানবিক পরিস্থিতিতে আছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ বুধবার এ কথা জানিয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইউনিসেফের মুখপাত্র ম্যারিক্সি মারক্যাডো ৬ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি মিয়ানমার সফর করেন। ওই সফর নিয়ে গত মঙ্গলবার জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অংশীদাররা (মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা) এমন ২০টি শিশুকে চিহ্নিত করেছে যারা সহিংসতার সময় তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এমন শিশুর সংখ্যা ১০০ হতে পারে। তাদের বেশির ভাগই রাখাইন রাজ্যে। কিন্তু অংশীদাররা সেখানে যেতে পারছে না।

তারা গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর আগে সেখানে ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভোগা চার হাজার ৮০০ শিশুর সেবা করছিল। ওই শিশুরা এখন আর তা পাচ্ছে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অংশীদারদের পরিচালিত ১২টি বহির্বিভাগ থেরাপি চিকিৎসা কেন্দ্রের সবই বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো হয় লুটপাট বা ধ্বংস হয়েছে, নয়তো কর্মীরা সেখানে যেতে পারছে না।’

মুখপাত্র ম্যারিক্সি মারক্যাডো রাখাইনে ঝুঁকিতে থাকা রোহিঙ্গাদের কাছে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পৌঁছাতে না পারাকে বড় যন্ত্রণার বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গার দিকেই সারা বিশ্বের দৃষ্টি। অথচ মধ্য রাখাইনে ময়লা-আবর্জনায় ভরা শিবিরে এখনো ৬০ হাজার রোহিঙ্গা থাকার কথা বিশ্ব প্রায় ভুলেই গেছে। পল্লী অঞ্চলে যে রোহিঙ্গা শিশুরা আছে তারা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। আমরা রোহিঙ্গা ও রাখাইন—দুই সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে উচ্চমাত্রার পরিবেশদূষণের কথা শুনছি।’

ম্যারিক্সি মারক্যাডো রাখাইন রাজ্যে পেয়োক্তো টাউনশিপে তাঁর দেখা সবচেয়ে খারাপ শিবিরের বর্ণনা দেন। সেখানে পৌঁছতে নৌকায় তাঁর চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি বলেন, সেখানে গেলে প্রথমেই ভয়াবহ অপুষ্টির শিকার শিশুদের চোখে পড়ে। আক্ষরিক অর্থেই শিবিরটি একটি ভাগাড়। ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৮ দিনে তিন থেকে ১০ বছর বয়সী চারটি শিশুর মৃত্যুর কথা শিবিরের ব্যবস্থাপক তাঁকে জানিয়েছেন।

159 ভিউ

Posted ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Archive Calendar

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com