শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শুক্রবার ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীতে জমজমাট পশ্চিমা ধাঁচের ক্যাসিনো ব্যবসা

শুক্রবার, ০৭ জুলাই ২০১৭
206 ভিউ
রাজধানীতে জমজমাট পশ্চিমা ধাঁচের ক্যাসিনো ব্যবসা

কক্সবাংলা ডটকম(৭ জুলাই) :: বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জুয়াড়ি এনে রাজধানীতে চলছে পশ্চিমা ধাঁচের ক্যাসিনো ব্যবসা। অবৈধ হলেও দিন দিন বড় হচ্ছে এ ব্যবসার পরিসর। রাজধানীর নামিদামি রেস্টুরেন্ট ও ক্লাবভিত্তিক এসব ক্যাসিনোয় প্রতি রাতে উড়ছে শতকোটি টাকা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও এ-সংক্রান্ত বেশকিছু অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাব-রেস্টুরেন্টে ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগ পাওয়ার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশনার সঙ্গে অভিযোগের একটি কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে। নির্দেশনা হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছে তারা।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেলী ফেরদৌস বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কাজ শুরু করেছি। বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোর অস্তিত্বও পাওয়া গেছে। এছাড়া বেশির ভাগ ক্লাবেই বসছে জুয়ার আসর। সব তথ্য যাচাই শেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যেসব ক্লাব ও রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে, তার মধ্যে প্রথমেই আছে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় অবস্থিত ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব। অনেক দিন ধরেই ক্লাবটিতে অনানুষ্ঠানিক এ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ পেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই অভিযোগ রয়েছে গুলশান লিংক রোডের ফু-ওয়াং ক্লাব, ধানমন্ডির ধানমন্ডি ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, নিউমার্কেট এলাকার এজাজ ক্লাব, কলাবাগান ক্লাব, পল্টনের জামাল টাওয়ারের ১৪ তলাসহ বেশ কয়েকটি নামিদামি রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীতে ক্যাসিনোগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় গুলশান লিংক রোডের ফু-ওয়াং ক্লাব। অভিজাতপাড়ার এ ক্লাবে সারা রাতই চলে জুয়ার আসর। দুই জুয়াড়ি ফু-ওয়াং ক্লাবের ক্যাসিনোটি পরিচালনা করছেন।

গতকাল রাতে সরেজমিন দেখা যায়, ফু-ওয়াং ক্লাবের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পর ডান পাশে পরপর দুটি অফ-হোয়াইট রঙের দোতলা ভবন। প্রথম ভবনটি ক্যাসিনো। ওই ভবনের নিচে কাচের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই বাম পাশে বাঁকানো সিঁড়ি। ওই সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই ক্যাসিনোর দরজা। দরজা দিয়ে ঢুকে একটি হলরুমে ১৫টি বোর্ড চোখে পড়ে। প্রতিটি বোর্ডের পাশে হলুদ রঙের শার্ট আর কালো রঙের প্যান্ট পরা ২০-২২ বছরের তিনজন করে নারী। বড় হলরুমে বোর্ড রয়েছে মোট ১৫টি। সবুজ রঙের বোর্ডে তাস ছিটানো। নগদ টাকা জমা দিয়ে চিপ (প্লাস্টিক কার্ড) সংগ্রহ করছেন জুয়াড়িরা। একবার চিপ শেষ হয়ে গেলে আবারো টাকা জমা দিয়ে চিপ সংগ্রহ করছেন কেউ কেউ। জুয়াড়িদের অনেকেই এভাবে সর্বস্ব খুইয়ে বাড়ি ফিরছেন।

জানতে চাইলে এক ভুক্তভোগী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে অংশ নিতে একবার ফু-ওয়াং ক্লাবে যাই। সেখানে দোতলায় আলোকসজ্জিত একটি কক্ষে জুয়ার আসর দেখতে পাই। পরে জানতে পারি, এটাই ক্যাসিনো। আগ্রহের বশে বন্ধুরা মিলে ক্যাসিনোয় খেলতে শুরু করি। এরপর দিনের পর দিন অর্থ খোয়াতে থাকি।

অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার অভিযোগে এর আগে ২০১৫ সালে ফু-ওয়াং ক্লাবে অভিযান চালান র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে অনুমোদনহীন বিদেশী মদ ও বিয়ার বিক্রির অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হলেও ক্যাসিনোর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়া সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও একই অভিযোগে অভিযান চালানো হয় ক্লাবটিতে।

ফু-ওয়াং ক্লাবের মতোই অনানুষ্ঠানিক ক্যাসিনো ব্যবসা আছে কলাবাগান, ধানমন্ডি, উত্তরা, মতিঝিল ও মিরপুরের বেশ কয়েকটি ক্লাবেও। তবে চাইলেই যে কারো প্রবেশাধিকার নেই এসব ক্যাসিনোয়। এসব ক্লাবে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সদস্য হয়ে তারপর ওইসব ক্লাবে বা ক্যাসিনোয় প্রবেশ করতে হয়। তাই চেষ্টা করেও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, এজাজ ক্লাব ও কলাবাগন ক্লাবে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

তবে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনোয় যাতায়াত আছে এমন একজন জানান, হলরুমের মাঝখানে মখমল কাপড়ে মোড়ানো বিশাল টেবিল বসানো। চারপাশে চেয়ারের সারি। কক্ষের একদিকে কাচঘেরা বিশেষ কাউন্টার। কাউন্টারের পেছনে কোট-টাই পরে বসে থাকেন কয়েকজন কর্মকর্তা। জুয়াড়িরা টাকার বান্ডিল নিয়ে এগিয়ে যায় ওই বিশেষ কাউন্টারের দিকে। কাউন্টার থেকে এক ধরনের প্লাস্টিকের কয়েন দেয়া হয়। এটাকে বলা হয় চিপ। প্রতিটি চিপের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। নগদ টাকা ভাঙিয়ে জুয়াড়িরা চিপ কিনে বসে ক্যাসিনোয়। টেবিলের অন্য প্রান্তে থাকে ক্লাবের প্রশিক্ষিত জুয়াড়ি। সে দক্ষ হাতে ক্যাসিনোর রুলেত পরিচালনা করে। একসঙ্গে ১৫-২০ জন জুয়াড়ি অংশ নেয়।

রাজধানীতে অনানুষ্ঠানিক ক্যাসিনোয় দৈনিক কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একেকটি ক্যাসিনোয় প্রতি রাতেই ২-৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ক্যাসিনোয় আগতদের মধ্যে রয়েছে উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও।

206 ভিউ

Posted ৩:১৮ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৭ জুলাই ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.