শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

শনিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রোহিঙ্গাদের থেকে বাঁচাতে হবে কক্সবাজারের পরিবেশ

রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮
218 ভিউ
রোহিঙ্গাদের থেকে বাঁচাতে হবে কক্সবাজারের পরিবেশ

কক্সবাংলা ডটকম(২১ এপ্রিল) :: গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সহিংসতার পর থেকে বাংলাদেশে পাড়ি জমিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। তারা আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলোতে। সাত মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তারা ফিরে যেতে পারেনি স্বদেশভূমিতে। তারা নিজেরা যেমন কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে, তেমনি গাছ কেটে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে ঠেলে দিয়েছে হুমকির মুখে।

ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের শিবিরগুলো প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন স্বীকৃত তিনটি এলাকার প্রকৃতি ধ্বংস করেছে। এগুলো হচ্ছে- টেকনাফ উপদ্বীপের উপকূল এলাকা, সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও সোনাদিয়া দ্বীপ। এ ছাড়া শিবিরগুলোর কাছে আছে দুটি সংরক্ষিত এলাকা- হিমছড়ি ন্যাশনাল পার্ক ও টেকনাফ অভয়ারণ্য।

প্রস্তাবিত ইনানি ন্যাশনাল পার্কও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকা ও টেকনাফ উপদ্বীপ পরিযায়ী পাখির আন্তর্জাতিক উড়ালপথের অংশ। তারা মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলেশিয়ার মধ্যকার দীর্ঘপথ উড়ার পর এখানে কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে থাকে। এই বিশ্রামের পরিবেশ নষ্ট হলে পাখিরা এই আন্তর্জাতিক পথ ছেড়ে দেবে। এতে কিছু প্রজাতির পাখি বিপন্ন হবে।

সমুদ্র উপকূল ও পাহাড় একইসঙ্গে থাকায় এই অঞ্চলটি জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এই বৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়তা করে। এ এলাকায় আছে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ। কিন্তু বন নিধনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা শিবিরগুলো এ বৈচিত্র্য বিনষ্ট করছে। তাছাড়া শরণার্থী শিবির তৈরি করতে জমি পরিষ্কার করা হয়েছে, সেবা দেয়ার জন্য রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, পানির কূপ ও শৌচাগার তৈরি করা হয়েছে।

এতে বন ধ্বংসের পাশাপাশি ভূমিক্ষয় হচ্ছে। ছোট ছোট নালা বন্ধ হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের শিবিরের বাইরে আসা নিষেধ থাকলেও তারা তা মানছে না। তারা বেআইনিভাবে বন্যপ্রাণী শিকার করছে। হাতিসহ কিছু প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার অনেক বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। তাই বলে তাদের দ্বারা জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস ও বন উজাড় মেনে যায় না। রোহিঙ্গাদের হাত থেকে বন ধ্বংস এড়াতে কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মানুষের জন্য বিকল্প জ্বালানি কর্মসূচি গ্রহণ, শিবিরে হাতির প্রবেশ ঠেকাতে গাছ ও বাঁশের বেড়া তৈরি, বন ধ্বংস হওয়া এলাকায়, ন্যাড়া পাহাড়ে, বাতিল হওয়া শিবিরের জায়গায় বনায়নের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। সরকার ছোট ছোট ক্যাম্প গুটিয়ে কুতুপালং ও বালুখালী এলাকায় বড় ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের রাখার পরিকল্পনা করছে।

এ উদ্যোগ হয়তো ব্যবস্থাপনার দিক থেকে বাস্তবসম্মত। তবে পরিবেশের পরিপ্রেক্ষিতে তা স্পর্শকাতর। সর্বোপরি এ সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান হচ্ছে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় রোহিঙ্গাদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো।

218 ভিউ

Posted ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.