
কক্সবাংলা রিপোর্ট(২২ জানুয়ারী) :: বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে না। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী তা মঙ্গলবার শুরু হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য ট্রানজিট সেন্টার তৈরির বিশাল কাজ অসমাপ্ত এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন তালিকা অনুমোদন না করা পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছেনা।
সোমবার বাংলাদেশের কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম কক্সবাংলাকে বলেন, প্রয়োজনীয় আয়োজন অসম্পূর্ণ থাকায় তা শুরু করা যাচ্ছে না। তাছাড়া রোহিঙ্গাদের পরিবার এবং গ্রাম ভিত্তিক তালিকা তৈরি করে তা মিয়ানমারের কাছে হন্তান্তর করা হবে। তারপর তা যাচাইবাাই করার পরই রোহিঙ্গাদের ফিজিক্যালি ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হরা হবে।
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার জন্য সংশোধিত শুরুর নতুন তারিখ না দিয়ে আজাদ জানান,মঙ্গলবার থেকে রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত পাঠানোর জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি না। এ প্রক্রিয়ার জন্য এখনও অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে।
তিনি আরও বলেন,মিয়ানমার কর্তৃক যাচাইয়ে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের তালিকা তৈরি করে সেখানে বিল্ডিং ট্রানজিট কেন্দ্র তৈরি করে পুনরায় প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার আগে একটি কঠোর প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
তাছাড়া মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গাদের হস্তান্তরের আগে শরণার্থীদেরকে রাখা হবে এমন সম্ভাব্য ট্রানজিট সাইটের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সীমান্তের দুটি স্থানে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এই স্থানটি চিহ্নিত সম্পূর্ণ না করেই, আমরা এই সমস্ত মানুষকে হঠাৎ ফেরত পাঠাতে পারি না।তাই এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আশা করছি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার দুই বছর লাগবে।
প্রসঙ্গত,গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তীয় উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যও মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছিল বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব।
গত ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তিতে সই করেন। এরপর ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয় এবং ১৬ জানুয়ারি ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি সই হয়।
সর্বশেষ অ্যারেঞ্জমেন্ট অনুযায়ী দুই দেশের সীমান্তে অস্থায়ী ক্যাম্পে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মঙ্গলবার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি বলে সেটিও পিছিয়ে গেলো।

Posted ৫:০৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta