
কক্সবাংলা ডটকম(৪ আগস্ট) :: রোহিঙ্গা ইস্যুতে চলতি আগস্ট ও আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তৎপর থাকবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এ দুই মাসে পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের তদন্ত ও জবাবদিহির বিষয়ে দেশ দুটির অবস্থান ইতিবাচক এবং তা বাংলাদেশের অবস্থানের বেশ কাছাকাছি।
সূত্র মতে, আগামী ২৮ আগস্ট রোহিঙ্গা ইস্যু ও মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিফিং হবে। সেই ব্রিফিং ও আলোচনার মাধ্যমে গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের বার্ষিকীও পালন করা হবে।
নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স গত বৃহস্পতিবার ভোরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ মাসের শেষ দিকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ সম্পর্কে বক্তব্য দেবেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব এরই মধ্যে রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জায়িদ রাদ আল হুসেইন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর ‘গণহত্যা’র আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) দায়িত্ব দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাঁর ওই অনুরোধের পর গত জুলাই মাসে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা নিপীড়নের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্বারোপ করা হলেও আইসিসিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জানা গেছে, যুক্তরাজ্য এ মাসে অনুষ্ঠেয় বৈঠকেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকারের বিষয়ে অগ্রগতি অর্জনের ওপর জোর দেবে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুরক্ষার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরার জন্য রাখাইন
রাজ্যে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকার পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে যুক্তরাজ্য।
জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স বলেন, রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র নিরাপত্তা পরিষদে উঠে আসবে। তবে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত যে আসবে না, সে ব্যাপারে তিনি শতভাগ নিশ্চিত। বিশেষ করে, নিরাপত্তা পরিষদে ‘ভেটো’ ক্ষমতাসম্পন্ন চীন মিয়ানমার পরিস্থিতি আইসিসিতে তদন্তের প্রস্তাব নিতে দেবে না।
কারেন পিয়ার্স বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলো থেকে নির্যাতন-নিপীড়নের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেগুলো বেশ উচ্চমানসম্পন্ন তদন্তের জন্য যথেষ্ট। যেদিন জবাবদিহির সুযোগ সৃষ্টি হবে, সেদিন এসব তথ্য-প্রমাণ কাজে লাগবে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তা পরিষদ না হলেও সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অগ্রগতি হতে পারে। সেখানে কোনো দেশের ‘ভেটো’ ক্ষমতা প্রয়োগ করা সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সিরিয়ায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিচারে সহায়ক কমিটি গঠনের বিষয়টি দৃষ্টান্ত হিসেবে আছে।
এ মাসের প্রথমার্ধেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বাংলাদেশ দলের রাখাইন রাজ্য সফরের কথা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকার রাখাইনে কী উদ্যোগ নিয়েছে, তা সরেজমিন দেখাই এ সফরের লক্ষ্য।

Posted ২:১৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ আগস্ট ২০১৮
coxbangla.com | Chanchal Das Gupta