মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু ‘খুচরা চিন্তা’ !

শনিবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭
316 ভিউ
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কিছু ‘খুচরা চিন্তা’ !

কক্সবাংলা ডটকম(৯ সেপ্টেম্বর) :: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২০১৬ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর সংঘটিত খুন, নির্যাতন এবং অত্যাচার বিষয়ে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার (২৪/০৮/২০১৭) একদিনের মাথায় ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের উপর পুনরায় সেই একই কায়দায় একইভাবে হত্যা, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নিপীড়ন এবং নির্যাতন শুরু হয়।

যখনই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে হত্যা এবং নির্যাতন শুরু হয়, রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সেই একই চিত্র আমরা দেখেছি ১৯৭৮, ১৯৯১/৯২, ২০১২, এবং ২০১৬ সালে। এবারও হাজার হাজার রোহিঙ্গা…নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ…নির্যাতিত এবং নিপীড়িত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যেহেতু সামরিক বাহিনীর তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশও অব্যাহত আছে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিডিয়ায় বিস্তর আলোচনা হচ্ছে। প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে; সম্পাদকীয়ন ও উপ-সম্পাদকীয় ছাপা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এসব বিস্তর লেখালেখির ফাঁকতালে নানান বিষয় কিছু বোঝাবুঝিগত ভুলত্রুটি নিয়ে আমি সিরিজ আকারে কিছু খুচরা চিন্তা লিপিবদ্ধ করছি। প্রথম কিস্তি প্রত্রিকান্তরে প্রকাশ করেছি। আজকে পেশ করছি দ্বিতীয় কিস্তি। লেখা বাহুল্য, এ ঘরানার আরো কয়েক কিস্তি লেখার বাসনা আছে যা পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হবে।

এক.
দেশের অভ্যন্তরে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অং সান সু চিকে গালাগালি দিয়ে নানান প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হচ্ছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর যে মাত্রার হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতন হচ্ছে, সেটা ২০১৬ সালের আগে অর্থাৎ সু চি’র ক্ষমতায় আসার আগের সামরিক সরকারের ভূমিকাকেও হার মানায়।

ফলে, সবাই সু চিকে দায়ি করছে এবং তার ভূমিকার জন্য তাকে গালাগাল করছে-এটা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু আমার নজর পড়েছে অন্য জায়গায়। বিকারহীন গালাগালির ভেতর অনেকের মধ্যে আমি লক্ষ করেছি, ‘সু চি কেন কিছু বলছেন না? কেন সু চি চুপ করে আছেন? সু চির উচিত রোহিঙ্গাদের পাশে এসে দাঁড়ানো।’

এরকম নানান হা-হুতাশ আমি লক্ষ করছি। মানুষের মধ্যে এ-ধরনের আশা জাগ্রত হওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়, কেননা সু চি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া একজন নেত্রী। যাকে অনেকে, বিশেষ করে পাশ্চাত্য মিডিয়া, গণতন্ত্রের মানসকন্যা নামে অভিহিত করেছে।

মিয়ানমারের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সু চি’র ত্যাগ এবং আপসহীন নেতৃত্ব এতদাঞ্চলে কিংবদন্তীর হিসাবে জারি আছে। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, সু চি একটি বুদ্ধিষ্ট প্রধান দেশের নেত্রী। তার জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি হচ্ছে সেদেশের জনগণ।

পলিটিক্স হাহাকার আর আবেগ দিয়ে চলে না। পলিটিক্স চলে পপুলিস্ট দর্শন দ্বারা। আর মিয়ানমারের সামাজিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র বলি, আর জনপ্রিয়তার ভিত্তিমূল বলি, সেটা হচ্ছে পপুলার বুদ্ধিষ্ট সেন্টিমেন্ট। আর এ সেন্টিমেন্টকে পুঁজি করেই আজকের অং সান সু চি।

তাছাড়া, অপ্রিয় হলেও সত্য যে মিয়ানমারের, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের, সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিই হচ্ছে, রোহিঙ্গারা বাঙালি এবং রোহিঙ্গারা মুসলিম। সুতরাং তারা রাখাইনরাজ্যে থাকতে পারবে না। এ যখন সাধারণ জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি সেখানে সু চি কোন্ বিবেচনায় এতো বড়ো ঝুঁকি নিয়ে মিয়ানমারের মেজরিটি জনগণের সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়াবেন?

মনে রাখতে হবে, সু চি জাতীয়তাবাদি এবং জাতীয়তাবাদের চরিত্র হচ্ছে পপুলিস্ট সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করা এবং প্রয়োজনে না-জায়েজ বিষয়কে জায়েজ করা। জাতীয়তাবতাদে মানবতাবাদের কোন স্থান নাই। আর সু চির নিজের ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষের কথা কারো অজানা নয়।

বেশিদিন আগের কথা নয়। সু চি আল-জাজিরাকে একটা সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে একজন মুসলিম কেন তাকে ইন্টারভিউ করবে তার জন্য তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। এরকম একটি মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতায় সু চির কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য সমবেদনা আশা করা রাজনৈতিক নির্বুদ্ধিতা ছাড়া কিছুই নয়।

দুই.
সম্প্রতি টিআইবি, বাংলাদেশের মানবাধিকার এনজিও ফোরাম এবং সচেতন নাগরিক কমিটি-চট্টগ্রাম-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আমি যোগদান করি। মানবাধিকার বিষয়ক নানান আলোচনার মধ্যে প্রাসঙ্গিকক্রমে চলে আসে রোহিঙ্গা ইস্যু।

কয়েকজন বক্তা অত্যন্ত শক্তভাষায় বলেন: হাজার হাজার লাখ লাখ রোহিঙ্গাদেরকে কেন বাংলাদেশ জায়গা দেবে? কেন বাংলাদেশ এতোবড় বোঝা বহন করবে? অনেকদিন ধরে তো করছি, আর কত? আমি ধরে নিচ্ছি, এসব বক্তব্য কেবল গোলটেবিলের দু’জন বক্তার বক্তব্য নয়।

বরঞ্চ বাংলাদেশের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগণের সেন্টিমেন্ট কেননা আমি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে এরকম উত্তাপ টের পেয়েছি। আমাদেরকে এখানে ‘শরণার্থী’র বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে এবং আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে হবে। বাংলাদেশ রাখাইন রাজ্যের সবচেয়ে নিকটবর্তী সীমান্ত।

মানুষ যখন নির্মম হত্যার শিকার হয় এবং গণহত্যার মতো অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যায়, তখন সে বেঁচে থাকার ন্যুনতম বাসনা নিয়ে তার সবচেয়ে নিকটবর্তী সীমান্ত পার হয়ে আশ্রয় খোঁজে। কারণ তার তখন শরীরের আবরণে ‘প্রাণ’টা ছাড়া অন্য কোন সহায়-সম্বল অবশিষ্ট থাকে না। নিজের পরিবারের, পড়শীর এবং আত্মীয়ের নৃশংস মৃত্যুর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে এমনিতেই অর্ধেক মৃত করে দেয়।

সেই অর্ধমৃত মানুষ যখন, প্রাণটা নিয়ে কোন রকমে পালিয়ে যায়, তখন সে তার নিকটবর্তী সীমান্তেই যায়। এবং সীমান্ত পার হয়ে আশ্রয় খোঁজ করে। এটাই শরণার্থী বিষয়ক পৃথিবীর ইতিহাস। সত্যিকার অর্থে, বৃহত্তর পৃথিবীর ইতিহাসে যাওয়ার প্রয়োজন নাই।

১৯৭১ সালের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা সেটা প্রমাণ করতে পারি। তখনকার সাতকোটি মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় এককোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শরণার্থী হিসাবে কারণ ভারতই সবচেয়ে নিকটবর্তী দেশ। তাও আবার দিল্লী কিংবা মুম্বাই নয়; ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গে কেননা সেটাই তখন নিকটতম প্রতিবেশি।

বাংলাদেশের মানুষ তখন নেপাল যায়নি, শ্রীলংকা যায়নি কিংবা মালদ্বীপ যায়নি। তাছাড়া, মানবতার এমন নিষ্ঠুর সংকটে এবং এমন নির্মম অত্যাচারে মানুষ হিসাবে আমাদের দায়িত্বও আছে মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। এটা আমাদের নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ব। তাছাড়াও রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে।

১৯৪৮ সালের জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের স্বাক্ষরকারী দেশ হিসাবে বাংলাদেশ এ ধারা মানতে বাধ্য যে; মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচতে আশ্রয়প্রার্থীদের যে কোন দেশে আশ্রয় পাওয়ার অধিকার আছে। সুতরাং ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক রিফিউজি কনভেনশনের অনুস্বাক্ষর না-করলেও সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের স্বাক্ষরকারী হিসাবে এবং জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেয়া রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয় বিধিবিধানে সেটা স্পষ্ট উল্লেখ আছে। আমি দীর্ঘদিন উখিয়া-টেকনাফের ইউএনএইচসিআরের ক্যাম্পে (কুতুপালং এবং নয়াপাড়া), অস্থায়ী ক্যাম্পে (তাল এবং লেদা) এবং অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে দীর্ঘদিন গবেষণার কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের সাথে দীর্ঘ আলাপ করেছি।

বেশিরভাগ মানুষই রোহিঙ্গাদের উপর যে নির্মম অত্যাচার হচ্ছে, তার জন্য রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের আশ্রয় দেয়া নিজেদের নৈতিক, এবং মানবিক দায়িত্ব বলে মনে করেন। এটা অনস্বীকার্য যে, রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অনেক স্থানীয় জনগণ তাদেরকে নানানভাগে হয়রানি এবং শোষণ করছে।

তথাপি রোহিঙ্গাদের প্রতি বেশিরভাগ স্থানীয় লোকদের সহমর্মিতা এবং সংবেদনশীলতা সত্যি উল্লেখযোগ্য। তাই, ঢাকা-কেন্দ্রীক মিডিয়ার বহুমাত্রিক বকবকানি, পত্রিকার বহুমুখী বিশ্লেষণ এবং ফেসবুকের লাগামহীন ধারাভাষ্য দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যা সঠিকভাবে বোঝা যাবে না।

তাই, বাংলাদেশ সরকার নতুন কোন রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেবে না বলে শক্ত অবস্থান নেয়ার পরও ২০১৬ সালে প্রায় ৮৭ হাজার এবং এবছর (২০১৭ সালে) এ পর‌্যন্ত প্রায় দুই লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ সংবেদনশীল বলেই গতবছর আসা রোহিঙ্গাদেরকে হাতিয়ার ঠ্যাঙ্গারচরে পূনর্বাসনের জন্য সরকার নানান পরিকল্পনা পর্যন্ত গ্রহণ করেছে।

এবারও উখিয়ার বিরাট এলাকা পাহাড় কেটে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করছে। সুতরাং রোহিঙ্গাদেরকে বোঝা হিসাবে না-দেখে জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা সহায়সম্বলহীন রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি সময়ের দাবি হিসাবে এবং মানবতার ডাকে মানবিক সাড়া হিসাবে নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয়, নিজেদেরকে রোহিঙ্গাদের জায়গায় বসিয়ে তাদের অসহায়ত্বের তীব্রতাটাকে উপলব্ধির চেষ্টা করা।

তখন, রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেয়া মানবিক কর্তব্য হিসাবে বিবেচিত হবে। তবে, পাশাপাশি এ আশ্রয় যেন চিরস্থায়ী না-হয় এবং একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে যাতে রোহিঙ্গাদেরকে পুনরায় মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সক্ষম হয়, তার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং তার জন্য সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিন.  
রোহিঙ্গা বিষয়ক আলোচনায় এবার বারবার আসছে ‘আরাকান সালভেশন আর্মি’বা আরসা (ARSA) প্রসঙ্গ। মিয়ানমারের সরকারী ভাষ্যানুযায়ী গত ২৫ তারিখ আরসা প্রায় বিশটি পুলিশফাঁড়িতে হামলা করে এবং উভয়পক্ষের মধ্যে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সিভিলিয়ান রোহিঙ্গাদের উপর শুরু হয় নিষ্ঠুর গণহত্যা।

এবং এ আরসাই ২০১৬ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের একটি সীমান্ত চৌকিতে হামলা করে ২০ জন পুলিশকে হত্যা করে যার জের ধরে গতবছরও রোহিঙ্গাদের উপর নির্মম গণহত্যা চলে এবং প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসাবে পালিয়ে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে কে এই আরসা? কারা এটা গঠন করেছে? কী তাদের উদ্দেশ্য?

আরসার ইতিহাস খুব বেশিদিনের নয়। ২০১৩ সালে আরসা গঠিত হয়। দশকের পর দশক নির্মম নির্যাতনের শিকার পরিবারের তরুণরা মিলে এ আরসা গঠন করে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি স্বাধীন আরাকান রাজ্য প্রতিষ্ঠার করার প্রত্যয় নিয়ে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের ভাষ্যানুযায়ী আরসার সর্বমোট সদস্য সংখ্যা কোনভাবেই এক হাজারের বেশি নয়। তাদের কাছে কোন আধুনিক অস্ত্র বা গোলাবারুদ নাই। কেবলই আবেগ, স্বপ্ন এবং স্বজাতির উপর নির্মম নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়েই তারা সংগঠিত হয়েছে।

কিন্তু এরা জানেনা কেবল আবেগ আর ক্ষোভ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন দর্শন এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ব্যতিরেকে কোন রেজিসেন্টস দাঁড় করানো যায় না। এধরনের কর্মকাণ্ড বরঞ্চ স্বজাতির মানুষের জীবনকে আরো অধিকতর সংকটের মধ্যে ফেলে দেয়। বিদ্রোহ এবং বিপ্লবের প্রাথমিক পাঠ যার আছে সে এরকম সিদ্ধান্ত নেয় না। অনেকে তাদেরকে স্বাধীনকাকামী বা মুক্তিকামী হিসাবে চিহ্নিত করে আরসা’র সমর্থনে কথা বলতে পারেন কিন্তু আমি মনে করি এটা একটা নাবালক এবং অপরিপক্ক সাংগঠিনক কার্যক্রম।

২০১৬ সালে এবং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ এবং অমানবিক অত্যাচার চলেছে এবং চলছে তার জন্য কিয়দাংশে এ আরসা দায়ি। এটা সত্য যে, মিয়ানমার সরকার, আরাকানের মেজরিটি জনগণ এবং সেনাবাহিনী আরসা আক্রমণ না-করলেও কোন না কোন অজুহাতে রোহিঙ্গা বিতাড়নের একটা ফর্মুলা বের করে একই কায়দায় নির্যাতন করতো কিন্তু সে সুযোগটা এবার আরসা করে দিয়েছে।

শত্রুর হাতে গোলা তুলে দেয়ার মতো অবস্থা। তাই, দীর্ঘ বছরের জাতিগত নিপীড়নের এবং অমানবিক অত্যাচারের গর্ভ থেকে আরসা’র জন্ম হলেও আমি আরসার এসব কর্মকাণ্ডকে কোনভাবেই সমর্থন করি না। আরসার এসব কর্মকাণ্ডকে রাষ্ট্রের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’; আবার অতি র‌্যাডিক্যালরা বলবেন ‘মুক্তির যুদ্ধ’কিন্তু আমি মনে করি রোহিঙ্গাদের আজকের এ অবস্থার জন্য, বিশেষ করে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা হত্যাযজ্ঞের জন্য, আরসা’র দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং কতর্ব্যজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডই অনেকাংশে দায়ি।

পরিশেষে বলবো, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমার কিছু খুচরা চিন্তা-ভাবনার তৃতীয় কিস্তিতে আরো কিছু টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে লেখার বাসনা আছে। আমার খুচরা-চিন্তার প্রথম কিস্তির শেষ কথাটা এখানেও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই: “রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতাবাদের আবেগে আপ্লুত হয়ে রোহিঙ্গাদের সমর্থনে আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করি [এবং তাদের জন্য সহমর্মিতা জানাই] সেটা মানুষ হিসাবে খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু নানান টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে যথাযথ উপলব্ধি ছাড়া ‘হোলসেইল’আইডিয়া আনক্রিটিক্যালি সাবস্ক্রাইব করা কোনভাবেই কাম্য নয়। কেননা মহাবয়ান একবার নির্মিত হলে, তা বিনির্মাণ করে নতুন বয়ান নির্মাণ অতো সহজ নয়।”

ড. রাহমান নাসির উদ্দিন: নৃবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

316 ভিউ

Posted ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

coxbangla.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Archive Calendar

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

Editor & Publisher

Chanchal Dash Gupta

Member : coxsbazar press club & coxsbazar journalist union (cbuj)
cell: 01558-310550 or 01736-202922
mail: chanchalcox@gmail.com
Office : coxsbazar press club building(1st floor),shaheed sharanee road,cox’sbazar municipalty
coxsbazar-4700
Bangladesh
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ABOUT US :

coxbangla.com is a dedicated 24x7 news website which is published 2010 in coxbazar city. coxbangla is the news plus right and true information. Be informed be truthful are the only right way. Because you have the right. So coxbangla always offiers the latest news coxbazar, national and international news on current offers, politics, economic, entertainment, sports, health, science, defence & technology, space, history, lifestyle, tourism, food etc in Bengali.

design and development by : webnewsdesign.com